Tranding

01:46 AM - 07 Apr 2026

Home / World / ইরানের ক্ষেপনাস্ত্রের মারন হামলায় ধ্বংস হল ইজরায়েলের বিশাল ড্রোন কারখানা

ইরানের ক্ষেপনাস্ত্রের মারন হামলায় ধ্বংস হল ইজরায়েলের বিশাল ড্রোন কারখানা

জানা গিয়েছে, ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভ থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে পেতাহ টিকভা শহরে ছিল এই ড্রোন কারখানা। যা পরিচালনার দায়িত্বে ছিল 'এরো সোল এভিয়েশন সলিউশন'। জানা যাচ্ছে, ড্রোন নির্মাণের পাশাপাশি এই কারখানায় তৈরি করা হত যুদ্ধবিমানের পাইলটদের হেলমেট, বোমা তৈরির সরঞ্জাম-সহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম। ইজরায়েল সেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পণ্য প্রস্তুতকারী এই সংস্থায় ইরানের হামলা দেশটির জন্য বিরাট ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানের ক্ষেপনাস্ত্রের মারন হামলায় ধ্বংস হল ইজরায়েলের বিশাল ড্রোন কারখানা

ইরানের ক্ষেপনাস্ত্রের মারন হামলায় ধ্বংস হল ইজরায়েলের বিশাল ড্রোন কারখানা

Apr 06, 2026

'ছোট্ট লড়াই' বলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ  শুরু করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একমাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ থামার নাম নেই, বরং উত্তরোত্তর তা আরও গুরুতর আকার নিয়েছে। এবার ইজরায়েলের (Israel) ড্রোনের আঁতুড়ঘরে মারণ হামলা চালাল ইরান। ড্রোন কারখানায় হামলার কথা ইজরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও। ড্রোন নির্মাণ সংস্থার তরফে এ কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। সংস্থার সিইও জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় কারখানা পুরোপুরি ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভ থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে পেতাহ টিকভা শহরে ছিল এই ড্রোন কারখানা। যা পরিচালনার দায়িত্বে ছিল 'এরো সোল এভিয়েশন সলিউশন'। জানা যাচ্ছে, ড্রোন নির্মাণের পাশাপাশি এই কারখানায় তৈরি করা হত যুদ্ধবিমানের পাইলটদের হেলমেট, বোমা তৈরির সরঞ্জাম-সহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম। ইজরায়েল সেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পণ্য প্রস্তুতকারী এই সংস্থায় ইরানের হামলা দেশটির জন্য বিরাট ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

ড্রোন নির্মাণের পাশাপাশি এই কারখানায় তৈরি করা হত যুদ্ধবিমানের পাইলটদের হেলমেট, বোমা তৈরির সরঞ্জাম-সহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম।
সংস্থাটির সিইও ইজরায়েল ভ্যাসেরলফ বলেন, অত্যন্ত গোপনে এই কারখানায় তৈরি হত সামরিক যন্ত্রপাতি ও ড্রোন। সেভাবে কেউই এর অস্তিত্বের কথা জানত না। ফলে সুপরিকল্পিতভাবে এই কারখানার উপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে কীভাবে তারা কারখানার সন্ধান পেল তা ভেবে পাচ্ছে না নিয়ে সংশয়ে ইজরায়েলের গোয়েন্দারা। সংস্থার সিইও আরও জানান, "ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গোটা কারখানা কার্যত ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। সব শেষ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই যে নতুন করে সেখানে কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।''

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কারখানার ঠিক পাশেই আছড়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি। তাতে বিশাল গর্ত তৈরি হওয়ার পাশাপাশি গোটা এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝে এই হামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

মজার বিষয় হলো, মাত্র কয়েক দিন আগেই ‘ভ্যালোরিক্স’ নামের একটি বড় সংস্থা ৩৫ মিলিয়ন শেকল দিয়ে অ্যারো সোল-কে কিনে নিয়েছিল। সংস্থার সিইও ইজরায়েল ভাসারলাফ-এর সন্দেহ, এটি কোনও সাধারণ হামলা নয়। বরং বেছে বেছেই তাঁদের কারখানাকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

তবে বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে এখানে সরঞ্জাম তৈরি হয়। তাই শত্রুপক্ষ তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর অনুমান।


ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিতে গিয়ে ভাসারলাফ জানান, বিস্ফোরণের জেরে কারখানার ঘরবাড়ি সব তছনছ হয়ে গিয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকেও কিছু ড্রোন, জরুরি নথি এবং কম্পিউটার ডেটা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সংস্থার দাবি, দৃশ্যত সব শেষ হয়ে গেছে মনে হলেও তাঁদের আসল প্রযুক্তি ও তথ্যগুলি সুরক্ষিত আছে। তাই দ্রুত অন্য কোথাও কারখানা সরিয়ে নিয়ে উৎপাদন শুরুর চেষ্টা চলছে।

প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে সিইও-র আশা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁরা বিকল্প উপায়ে সেনাকে সরঞ্জাম সরবরাহ শুরু করতে পারবেন। বিপদের এই সময় কর্মীরা রাত জেগে কারখানার সরঞ্জাম উদ্ধারে সাহায্য করেছেন।

Your Opinion

We hate spam as much as you do