এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ তাঁরা বিকট আওয়াজ পান। এরপরই তারা ছুটে যায় সেখানে। দেখেন, কয়েকটি বাচ্চা সেখানে পড়ে রয়েছে। সেখান থেকেই তাদের নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। ঘটনাস্থলে যান বীজপুর থানার পুলিশ। তবে কী ধরণের বোমা ছিল, তা জানা যায়নি। কেউ বলছেব কৌটো বোমা, কেউ বলছেন সুতলি বোমা। পরিষ্কার কেউ দেখেননি।
হালিশহরে বোমা বিস্ফোরণে মৃত ১ আহত অনেক শিশু গ্রেফতার 'অর্জুন ঘনিষ্ঠ বিট্টু'
উত্তর ২৪পরগনার হালিশহরে আচমকা বিস্ফোরণে নিহত এক কিশোর। নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিখোঁজ আরও দুজন রোহিত চৌধুরি ও রোহিত সিং। তাদের বয়স কুড়ি ১৯ থেকে ২১ এর মধ্যে।
বৃহস্পতিবার ভরদুপুরে এলাকার বাসিন্দারা শোনেন আচমকা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ। ঘটনা কী দেখতে বাড়ি থেকে ছিটকে বেরিয়েছিলেন আশপাশের প্রায় জনা ৬০-৭০ লোকজন। বেশ খানিকটা ধোঁয়ার মধ্য়ে ব্যাপার বুঝতেই খানিকক্ষণ সময় লেগেছিল।
ঘটনার আকস্মিকতা এবং ধোঁয়া সরে গেলে এলাকাবাসী দেখেন। কিছু আট-দশ বছর বয়সী শিশু ইতস্তত ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। কাছে গিয়ে দেখা যায়, তাঁরা গুরুতর জখম, শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত। রক্তাক্ত হয়ে পড়ে রয়েছে বাচ্চাগুলি।
ঘটনাস্থল, হালিশহরের হাজিনগর এলাকার কোনা মোড়। এলাকার গঙ্গার ধারে জগন্নাথ ঘাটের সামনে দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে। তিনজন শিশুর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। বাকিরাও জখম রয়েছে। তড়িঘড়ি তাদের উঠিয়ে স্থানীয় জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বাকিদের নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনায় সুমিত সিং নামে ১৯ বছর বয়সী এক যুবক নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে মারা যায়। দুজন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। তাঁদের নামে রোহিত চৌধুরি ও রোহিত সিং। তাদের বয়স কুড়ি ১৯ থেকে ২১ এর মধ্যে।
তবে স্থানীয়রা জানিয়েছে আরও দুটি বাচ্চা সেখানে খেলছিল। তাদের কোনও খোঁজ মিলছে না। এখন তাঁরা বিস্ফোরণের আঘাতে ছিটকে পড়েছে কোথাও, নাকি ভয়ে পালিয়ে গিয়েছে? নইলে হয়তো তাঁদের কেউ নিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও ভর্তি করিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। ফলে নতুন এক রহস্য দানা বাঁধছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ফরেনসিক ও বোমা বিশেষজ্ঞদের ডাকা হয়েছে। তাঁরাও ঘটনাস্থল সরেজমিনে ঘুরে দেখবেন। বিস্ফোরণস্থলে যান ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি নর্থ শ্রীহরি পান্ডে। বিস্ফোরণ স্থলের নমুনাও সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এলাকার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বও যান। যান বিজেপি নেতা বিট্টু জয়সওয়াল।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ তাঁরা বিকট আওয়াজ পান। এরপরই তারা ছুটে যায় সেখানে। দেখেন, কয়েকটি বাচ্চা সেখানে পড়ে রয়েছে। সেখান থেকেই তাদের নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। ঘটনাস্থলে যান বীজপুর থানার পুলিশ। তবে কী ধরণের বোমা ছিল, তা জানা যায়নি। কেউ বলছেব কৌটো বোমা, কেউ বলছেন সুতলি বোমা। পরিষ্কার কেউ দেখেননি।
অন্যদিকে ওই বিস্ফোরণ কাণ্ডে ইতিমধ্য়েই বিট্টু জয়সওয়ালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, বিট্টু অর্জুন সিংয়ের (Arjun Singh)ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে ব্যারাকপুর সাংসদের কথায়, “আগেও আমার বাড়িতে বোমাবাজি করা হয়েছিল। এ বার সরাসরি বোম মেরে মানুষ মারছে। তৃণমূলের লোকজন এইসব সন্ত্রাস চালাচ্ছে। নিজেদের ক্ষমতা জাহির করছে। কেন বোমাবাজি হল তা তদন্ত করুক এনআইএ।”
পাল্টা তৃণমূলের দাবি, হালিশহরে বিস্ফোরণের ঘটনায়, বিট্টু জয়সওয়াল নামে যে দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে সাংসদের ঘনিষ্ঠ। তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, “অর্জুন সিং এখানে একটা গোষ্ঠী চালান। দুষ্কৃতীদের গোষ্ঠী। বিট্টু সেই দলের। সাংসদের প্রশ্রয়েই এখানে দুষ্কৃতী হামলা বাড়ছে।” তৃণমূলের ব্যারাকপুর-দমদম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘‘বিট্টুর বাড়ি লাগোয়া ওই জমিতে বিজেপি-র দুষ্কৃতীদের একটি ঠেক রয়েছে। ওরা বোমা তৈরি করে মাটির তলায় পুঁতে রেখেছিল। তা থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।
পুলিশ কমিশনারের কথায়, ‘‘যে জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছে, তার পাশেই একটি ক্লাব আছে। বিট্টু জায়সওয়াল নামে এক জনের বাড়িও সেখানে। বিট্টুর নামে অনেক অভিযোগ আছে। বিস্ফোরণে এক জন মারা গিয়েছেন। নিখোঁজদের খোঁজ করা হচ্ছে। কিন্তু সবার আগে আমরা জোর দিচ্ছি ফরেন্সিক পরীক্ষায়। তাতে তদন্তে সুবিধা হবে।’’
জানা গেছে গত লোকসভা নির্বাচনের পরে ব্যারাকপুরের চিড়িয়ামোড়ে এই বিট্টুকেই এক সাংসদের গাড়ি থেকে নামিয়ে আটক করেছিলেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার অজয় ঠাকুর
We hate spam as much as you do