সুজন চক্রবর্তী, কান্তি গাঙ্গুলি, শমীক লাহিড়ী এবং সায়ন ব্যানার্জি সহ মোট পাঁচজন সিপিআইএম-র প্রতিনিধি এদিন দলুয়াখাকি গ্রামের মানুষদের জন্য ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের দেওয়া ত্রাণের মধ্যে ত্রিপল, কিছু খাবার এবং বাড়ি ছাওয়ার জন্য টিন ছিল।
হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কান্তি, সুজন শমীকদের দলুয়াখাকিতে ঢুকতে বাধা, পরে ত্রাণ বিলি
23 Nov 2023
গত ১২ নভেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সাইফুদ্দিন লস্কর খুনের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দলুয়াখাকি গ্রাম।
তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান খুন হওয়ার পর পাঁচ কিলোমিটার দূরে দলুয়াখাকি গ্রামে সিপিআইএম কর্মীদের বাড়ি পোড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ তৃণমূলের দলীয় কোন্দল ঢাকা দেওয়ার জন্যই এই কাজ হয়েছে। তারপর পুরী যাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বাড়ির লোকজনকে সাহায্য করতে ওই অঞ্চলে যান সিপিআইএম কর্মীরা এবং নেতৃবৃন্দ। তাদের পুলিশ বাধা দেয় অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিশি বাধা বাতিল হয় এবং দলুয়াখাকি গ্রামে ঢুকতে পারে সিপিআইএম প্রতিনিধি দল। হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও একাধিকবার পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বাম নেতৃত্বকে। দীর্ঘ বচসার পর ত্রাণ নিয়ে অবশেষে সবকিছু হারানো পরিবারগুলির কাছে পৌঁছাতে পারলো সিপিআইএম।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জয়নগরের দলুয়াখাকি গ্রামে সিপিআইএম প্রতিদিন দলকে এর আগে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা অবনতির কারণ দেখিয়ে বাম নেতৃত্বকে আটকেছিল প্রশাসন। তাই বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে গিয়েছিল নেতৃত্ব। কিন্তু তা সত্ত্বেও সিপিআইএমের প্রতিনিধি দলকে বাধা দেওয়া হয়। যার তীব্র প্রতিবাদ জানান বাম নেতৃত্ব।
সুজন চক্রবর্তী, কান্তি গাঙ্গুলি, শমীক লাহিড়ী এবং সায়ন ব্যানার্জি সহ মোট পাঁচজন সিপিআইএম-র প্রতিনিধি এদিন দলুয়াখাকি গ্রামের মানুষদের জন্য ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের দেওয়া ত্রাণের মধ্যে ত্রিপল, কিছু খাবার এবং বাড়ি ছাওয়ার জন্য টিন ছিল।
বামেদের পক্ষ থেকে এই প্রসঙ্গে জানানো হয়, "এই ত্রাণ দেওয়ার জন্য অনেক মানুষ আমাদেরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতে আরও সাহায্য করবো। গরীব খেটে খাওয়া মানুষগুলো যাতে পুনরায় তাঁদের জীবিকা শুরু করতে পারেন আমাদের তরফ থেকে সেই প্রচেষ্টাও চালানো হচ্ছে।"
এর আগে প্রথম কোনো রাজনৈতিক সংঠন হিসেবে দলুয়াখাকি গ্রামে প্রবেশ করেছিল বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই। ওই গ্রামের পড়ুয়াদের জন্য বই, খাতা, পেন পেন্সিল বিতরণ করা হয়।
প্রদেশ কংগ্রেসের তরফেও গত দিন গ্রামবাসীদের ত্রাণ বিলি করা হয়েছে। তবে তা হয়েছে ওই এলাকার বাইরে, দক্ষিণ বারাসাতর একটি স্কুল থেকে। গ্রামবাসীদের সেখানেই ডেকে নেওয়া হয়েছিল। এর আগে দলুয়াখাকি ঢোকার পথে বাধা দেওয়া হয়েছিল প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বকে। তার পরেই তাঁরা ত্রাণ বিলি করার সিদ্ধান্ত নেন।
We hate spam as much as you do