সাম্প্রতিক সময়ে ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট'। এই শব্দটি শুনলেই মনে হয় যেন প্রযুক্তির মাধ্যমে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, কিন্তু আদতে এটি হলো প্রতারণার এক নিষ্ঠুরতম রূপ। এর কার্যপদ্ধতিটি সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও বেশি নাটকীয় এবং ভীতিকর। কল্পনা করুন, একজন প্রবীণ নাগরিক বা গৃহবধূ এক বিকেলে একটি ভিডিও কল পেলেন। ফোনের পর্দায় ভেসে উঠল পুলিশের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তি, ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখা যাচ্ছে থানার মতো পরিবেশ, ওয়াকি-টকির শব্দ এবং ফাইলের স্তূপ। সেই ব্যক্তি নিজেকে সিবিআই, ইডি, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো বা মুম্বাই পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিলেন
অদৃশ্য কুরুক্ষেত্র ও বিপন্ন মানবতা: ডিজিটাল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধ ও নীল-নকশা।--- তৃতীয় পর্ব -
গৌতম হালদার
Feb 3, 2026
আর্থিক সন্ত্রাসের মায়াজাল: ডিজিটাল অ্যারেস্ট, পিগ বুচারিং স্ক্যাম ও প্রতারণার নতুন ব্যাকরণ পূর্ববর্তী পর্বগুলোতে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি কীভাবে ডিজিটাল সন্ত্রাস মানুষের সামাজিক সম্মান এবং মানসিক শান্তি হরণ করে। কিন্তু সাইবার অপরাধীদের লোলুপ দৃষ্টি কেবল আমাদের সম্মানের ওপর নিবদ্ধ নয়, তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের সারা জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় লুণ্ঠন করা। এই তৃতীয় পর্বে আমরা প্রবেশ করব সেই ভয়াবহ আর্থিক অন্ধকূপে, যেখানে প্রযুক্তির আড়ালে চলছে এক অভিনব ডাকাতি। এই নতুন ধরণের অপরাধকে আমরা নির্দ্বিধায় 'আর্থিক সন্ত্রাস' বলে অভিহিত করতে পারি। কারণ, প্রচলিত ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে অপরাধীরা অস্ত্রের ভয় দেখায়, কিন্তু সাইবার জগতে তারা ব্যবহার করে মানুষের অজ্ঞতা, ভয় এবং লোভের এক মারাত্মক মনস্তাত্ত্বিক ককটেল। বর্তমান সময়ে এই আর্থিক জালিয়াতির ক্ষেত্রটি এতই বিস্তৃত এবং পরিশীলিত হয়ে উঠেছে যে, একজন নিরক্ষর মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বা বিজ্ঞানী—কেউই এই মায়াজাল থেকে নিরাপদ নন। অপরাধীরা আজ আর পুরোনো কায়দায় ওটিপি (OTP) চেয়ে বা লটারি জেতার টোপ দিয়ে জালিয়াতি করছে না; তারা এখন ব্যবহার করছে 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' এবং 'পিগ বুচারিং'-এর মতো অত্যন্ত জটিল এবং মনস্তাত্ত্বিক কৌশল, যা অপরাধবিজ্ঞানের ইতিহাসে বিরল।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট'। এই শব্দটি শুনলেই মনে হয় যেন প্রযুক্তির মাধ্যমে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, কিন্তু আদতে এটি হলো প্রতারণার এক নিষ্ঠুরতম রূপ। এর কার্যপদ্ধতিটি সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও বেশি নাটকীয় এবং ভীতিকর। কল্পনা করুন, একজন প্রবীণ নাগরিক বা গৃহবধূ এক বিকেলে একটি ভিডিও কল পেলেন। ফোনের পর্দায় ভেসে উঠল পুলিশের ইউনিফর্ম পরা এক ব্যক্তি, ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখা যাচ্ছে থানার মতো পরিবেশ, ওয়াকি-টকির শব্দ এবং ফাইলের স্তূপ। সেই ব্যক্তি নিজেকে সিবিআই, ইডি, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো বা মুম্বাই পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিলেন। অত্যন্ত গম্ভীর এবং দাপুটে গলায় তিনি জানালেন যে, আপনার আধার কার্ড ব্যবহার করে তাইওয়ান বা কম্বোডিয়াতে একটি পার্সেল পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে বিপুল পরিমাণ মাদক, জাল পাসপোর্ট এবং চোরাই ডলার পাওয়া গেছে। অথবা বলা হলো, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং বা জঙ্গি অর্থায়নের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এই কথা শোনামাত্রই একজন সাধারণ নাগরিকের পায়ের তলার মাটি সরে যায়। অপরাধীরা এই ভয়ের মুহূর্তটিকে পুঁজি করেই তাদের খেলা শুরু করে।
তারা ভুক্তভোগীকে জানায় যে, তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং এখনই তাকে 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' করা হলো। এর মানে হলো, ভুক্তভোগী ভিডিও কল কাটতে পারবেন না, কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন না এবং নিজের ঘরেই তিনি বন্দি থাকবেন। এই প্রক্রিয়াটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দু-তিন দিন ধরেও চলতে পারে। একে বলা হয় 'আইসোলেশন' বা বিচ্ছিন্নকরণ। অপরাধীরা ভুক্তভোগীর ওপর এমন এক মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে যে তিনি যুক্তিবুদ্ধি হারিয়ে ফেলেন। তারা বলে, "আপনার নির্দোষিতা প্রমাণ করতে হলে আপনার সমস্ত জমানো টাকা আমাদের 'সিক্রেট সুপারভিসন অ্যাকাউন্টে' বা 'আরবিআই ভেরিফিকেশন ভল্টে' ট্রান্সফার করতে হবে। তদন্ত শেষ হলে যদি আপনি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তবে আধা ঘণ্টার মধ্যে সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে।" ভয়ের চোটে এবং সম্মানহানির আশঙ্কায় মানুষ নিজের ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে, গহনা বিক্রি করে, এমনকি ঋণ নিয়ে সেই টাকা প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। টাকা পাঠানো মাত্রই ভিডিও কল কেটে যায়, আর সেই 'পুলিশ আধিকারিক' হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, ভারতীয় দণ্ডবিধি বা নতুন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এ 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট' বলে কোনো আইনি প্রক্রিয়ার অস্তিত্ব নেই। ভারতের কোনো তদন্তকারী সংস্থা—সে পুলিশ হোক বা সিবিআই—কখনোই ভিডিও কলে জেরা করে না, হোয়াটসঅ্যাপে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাঠায় না এবং তদন্তের স্বার্থে টাকা ট্রান্সফার করতে বলে না। এই সত্যটি না জানার কারণেই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।
ডিজিটাল অ্যারেস্ট যদি হয় ভয়ের খেলা, তবে 'পিগ বুচারিং স্ক্যাম' হলো বিশ্বাস এবং লোভের এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি। এই অদ্ভুত নামটির উৎপত্তি হয়েছে চিনা শব্দ 'শা ঝু পান' (Sha Zhu Pan) থেকে, যার আক্ষরিক অর্থ হলো শূকর মোটাতাজা করে জবাই করা। সাইবার অপরাধের জগতে এর অর্থ হলো—ভুক্তভোগীকে তাড়াহুড়ো করে লুঠ না করে, ধীরে ধীরে তার বিশ্বাস অর্জন করা এবং শেষে তাকে সর্বস্বান্ত করা। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রতারণা। অপরাধীরা প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়া, ডেটিং অ্যাপ বা ভুল নম্বরে মেসেজ পাঠানোর ছলে ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। তারা নিজেদের অত্যন্ত ধনী, সফল এবং বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচয় দেয়। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলে চ্যাটিং, গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্ক। একে বলা হয় 'গ্রুমিং' বা বিশ্বাস তৈরির পর্যায়। অপরাধী ভুক্তভোগীকে বোঝায় যে সে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে প্রচুর লাভ করছে এবং সে চায় তার বন্ধুও লাভবান হোক।
বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী যখন প্রথমে অল্প টাকা বিনিয়োগ করেন, তখন অপরাধীরা তাকে আসল টাকা লাভ হিসেবে ফেরত দেয়। এটি হলো টোপ। শূকরকে যেমন খাবার দিয়ে মোটাতাজা করা হয়, তেমনি ভুক্তভোগীর বিশ্বাসকেও লাভের টোপ দিয়ে মোটাতাজা করা হয়। এরপর ভুক্তভোগী যখন লোভে পড়ে নিজের সমস্ত সঞ্চয়, এমনকি ধারদেনা করে বিশাল অঙ্কের টাকা সেই নকল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে বিনিয়োগ করেন, তখন হঠাৎ একদিন সেই অ্যাপ বন্ধ হয়ে যায় অথবা বলা হয় টাকা তুলতে হলে আরও ট্যাক্স দিতে হবে। ততক্ষণে সেই 'বন্ধু' বা 'প্রেমিক' গায়েব হয়ে গেছে। এই প্রতারণাটি কেবল আর্থিক নয়, এটি মানুষের আবেগের সাথে এক নির্মম খেলা। ভুক্তভোগী এখানে কেবল টাকা হারান না, তিনি হারান মানুষের প্রতি বিশ্বাস করার ক্ষমতা। লজ্জা এবং অপমানে অনেকে এই কথা কাউকে জানাতে পারেন না, পুলিশের কাছেও যান না, যা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে।
এই বিশাল আর্থিক যজ্ঞের নেপথ্যে কাজ করে 'মানি মিউল' বা টাকার বাহকদের এক জটিল নেটওয়ার্ক। আমরা প্রায়শই ভাবি, এই চুরি করা টাকা যায় কোথায়? কেন পুলিশ সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ট্রেস করে অপরাধীকে ধরতে পারে না? এখানেই অপরাধীদের ধূর্ততা প্রকাশ পায়। তারা চুরি করা টাকা সরাসরি নিজেদের অ্যাকাউন্টে নেয় না। তারা ব্যবহার করে সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর মানুষদের, যাদের নামমাত্র টাকার বিনিময়ে বা ভুল বুঝিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এদের বলা হয় 'মানি মিউল'। ভুক্তভোগীর টাকা এই মিউল অ্যাকাউন্টে ঢোকার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তা শত শত অন্যান্য অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হয় অথবা বিদেশের কোনো বেনামী ওয়ালেটে পাচার করে দেওয়া হয়। একে বলা হয় 'লেয়ারিং'। টাকার এই ডিজিটাল প্রবাহকে ট্রেস করা পুলিশের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ প্রতিটি স্তরে নতুন নতুন ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করা হয়। এমনকি ডার্ক ওয়েবে ভাড়ায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়, যা এই অপরাধচক্রকে সচল রাখে।
তাছাড়াও, এখন ব্যবহৃত হচ্ছে 'এইপিএস' (AePS) বা আধার এনাবেলড পেমেন্ট সিস্টেম-এর জালিয়াতি। বায়োমেট্রিক তথ্য চুরি করে বা সিলিকন ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে মানুষের অজান্তেই তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এ যেন এক অদৃশ্য পকেটমার, যার হাত দেখা যায় না কিন্তু পকেটের ভার কমে যায়। লোন অ্যাপ জালিয়াতিও এই আর্থিক সন্ত্রাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।Instant Loan বা তাৎক্ষণিক ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে অ্যাপ ইনস্টল করানো হয়, যা ফোনের কন্ট্যাক্ট লিস্ট ও গ্যালারির দখল নেয়। এরপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেইলিং। ঋণের টাকার কয়েক গুণ সুদ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে কন্ট্যাক্ট লিস্টের সবাইকে অশ্লীল ছবি পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এই অপমানে অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
এই আর্থিক সন্ত্রাস আমাদের অর্থনীতি এবং সমাজব্যবস্থার ওপর এক বিশাল আঘাত। এটি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি জাতীয় সম্পদের লুণ্ঠন। এই অপরাধীরা যে টাকা আয় করে, তা প্রায়শই দেশবিরোধী কার্যকলাপ, মাদক ব্যবসা বা মানব পাচারে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, প্রতিটি সাইবার জালিয়াতি পরোক্ষভাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রযুক্তির এই অপব্যবহার মানুষর জীবনকে কতটা বিপন্ন করে তুলেছে। ভুক্তভোগীরা কেবল টাকা হারান না, তারা হারান তাদের ভবিষ্যৎ, তাদের সন্তানের শিক্ষার খরচ, তাদের চিকিৎসার সম্বল। এই হাহাকার কোনো পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা সম্ভব নয়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই মায়াজাল থেকে মুক্তির উপায় কী? এই অন্ধকার সুরঙ্গ কি অনন্ত? না। অপরাধীরা যতই ধূর্ত হোক, তারা কিছু চিহ্ন রেখে যেতে বাধ্য। অর্থের এই অবৈধ প্রবাহ আটকানোর জন্য প্রযুক্তিগত এবং আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে 'গোল্ডেন আওয়ার' বা স্বর্ণালী সময়ের ধারণা, যা সম্পর্কে সচেতন হলে চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধার করা সম্ভব। রয়েছে ১৯৩০ হেল্পলাইন এবং সাইবার ক্রাইম পোর্টালের কার্যকারিতা। পরবর্তী পর্বগুলোতে আমরা এই প্রতিরোধের দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আমরা দেখব কীভাবে একজন সাধারণ মানুষ এই ফাঁদগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করতে পারেন এবং আইনের সাহায্য নিয়ে কীভাবে হারানো ধন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। আর্থিক সন্ত্রাস রুখতে হলে আমাদের প্রয়োজন আর্থিক স্বাক্ষরতা এবং ডিজিটাল সচেতনতার এক নতুন আন্দোলন। এই পর্বে আমরা সমস্যার গভীরতা অনুধাবন করলাম, এর পরের পর্বে আমরা খুঁজব এই চক্রব্যূহ থেকে বের হওয়ার আইনি ও প্রযুক্তিগত চাবিকাঠি। মনে রাখতে হবে, আমাদের সচেতনতাই হলো আমাদের সিন্দুক, যা কোনো হ্যাকার ভাঙতে পারে না।
We hate spam as much as you do