গতকাল তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পান তাঁরা। প্রচণ্ড তুষার ঝড়ের কারণে নির্মলবাবুর মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পারেন। নির্মলবাবুর শখ ছিল পাহাড় জয়। এর আগেও বেশ কয়েকটি শৃঙ্গ জয় করেছেন। এবার পারি দিয়েছিলেন অন্যতম কঠিন শৃঙ্গ জয়ের উদ্দেশ্যে। এটা তাঁর পঞ্চম টেক ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর বোন।
উত্তরাখণ্ডের তুষার ঝড়ে মৃত বাংলার পর্বতারোহী নির্মল, নিমতায় শোকের ছায়া
October 22 2022,
তুষার ঝড়ের কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন বাংলার এক পর্বতারোহী। উত্তরাখণ্ডের গিয়া বিনায়ক পাশে গিয়ে প্রবল তুষার ঝড়ের মুখে পড়েন তিনি। মৃত পর্বতারোহীর নাম নির্মল বিশ্বাস( ৪৩) বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার আলিপুরে। দীপাবলির আগেই দুঃসংবাদ নেমে এল পর্বতারোহী নির্মল বিশ্বাসের বাড়িতে। জানা গিয়েছে উত্তরাখণ্ডে তাঁর দেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার নির্মলবাবু ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। গত ১১ অক্টোবর তিনি বেরিয়েছিলেন উত্তরাখণ্ডের উদ্দেশে। ১৯ অক্টোবর তিনি প্রবল তুষার ঝড়ের মুখে পড়েন। তাতেই প্রাণ হারান তিনি। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার তাঁর বাড়িত খবর আসে নির্মলবাবুর মৃত্যুর। যে গ্রুপের সঙ্গে তিনি গিয়েছিলেন, তাঁরাই খবর দেন। নির্মলবাবুল ১৯ অক্টোবর রাত একটা নাগাদ তুষার ঝড়ের মুখে পড়ে প্রাণ হারান বলে জানা গিয়েছে।
নির্মল বাবুর বোন জানান, গত ১৯ তারিখ তার দাদার মৃত্যু হয়। গতকাল তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পান তাঁরা। প্রচণ্ড তুষার ঝড়ের কারণে নির্মলবাবুর মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পারেন। নির্মলবাবুর শখ ছিল পাহাড় জয়। এর আগেও বেশ কয়েকটি শৃঙ্গ জয় করেছেন। এবার পারি দিয়েছিলেন অন্যতম কঠিন শৃঙ্গ জয়ের উদ্দেশ্যে। এটা তাঁর পঞ্চম টেক ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর বোন।
কিন্তু শৃঙ্গ জয়ের আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নিমতার বাসিন্দা নির্মল বিশ্বাস। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকে বিহ্বল গোটা বিশ্বাস পরিবার। পাড়া প্রতিবেশীরাও শোকে মুহ্যমান। মোবাইলের নেটওয়ার্কে সমস্যা হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। আবার পর্বাতারোহীদের দলের কেউ এই খবর জানাতে পারেনি সেই কারণেই। ঘটনার দুদিন পর খবর আসে তাঁর মৃত্যুর।
নির্মলবাবুর মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। এলাকায় খুব জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। সবার বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। সেই মানুষটা যে এভাবে চলে যাবে কল্পনা করতে পারেননি কেউ। এখন সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, কবে ফিরে আসে তাঁর নিথর দেহ। নির্মলবাবুর বোনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল প্রশাসনের তরফে তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়েছিল, কি না। তিনি জানান, কেউই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি এখন পর্যন্ত। যে গ্রুপের সঙ্গে দাদা গিয়েছিলেন, তাঁরাই ফোন করে জানিয়ছে এই মৃত্যু সংবাদ।
উল্লেখ্য, এ মাসেই উত্তরকাশীতে ১৩ হাজার ফুট উচ্চতায় ট্রেকিং করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন পর্বতারোহীরা। আটকে পড়েন ২৯ জন পর্বতারোহী। তার মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার রেস কাটতে না কাটতেই ফের পর্বতারোহীর মৃত্যু হল বাংলায়। উত্তরাখণ্ডে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার পর্বতারোহী নির্মল বিশ্বাস।
We hate spam as much as you do