সেলিম বলেন, "বামের বাইরে যারা আছে, তাদের মধ্যে ইতিমধ্যে আমাদের আইএসএফের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারাও নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে যে, বামেদের সঙ্গেই লড়বে তারা। তাদের এটাও বলেছি যে, আর কে আসবে না আসবে এটা কোনও শর্ত থাকবে না। বামফ্রন্টের শরিকদের যেমন বলেছি, আইএসএফকেও তেমন বলেছি। আইএসএফও বলেছে, কে আসবে না আসবে...সেটা নিঃশর্ত হবে। শুধু ইস্যুভিত্তিতে-বিজেপি-তৃণমূল-বিরোধী অবস্থান থেকে।"
অত্যাচারিত সিপিএম - কংগ্রেস কর্মীদের সম্মানেই তৃণমূল -বিজেপি বিরোধীতা স্পষ্ট করার আহ্বানে সেলিম
3 February 2026
আগামী ৭ মে শেষ হচ্ছে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ। অর্থাৎ তার আগেই রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেই হিসেবে কোনও রাজনৈতিক দলের কাছেই মাস দু’য়েকের বেশি সময় নেই। সূত্র অনুসারে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রায় তৈরি হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিরোধী বিজেপি বা বামেদের কোনও প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা হয়েছে বলে জানা যায়নি।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বহু আলোচিত কংগ্রেস প্রসঙ্গে সিপিআইএম-এর অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
ভোট-মুখী পশ্চিমবঙ্গে নিত্যদিন বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও শুরু হয়েছে কাঁটাছেড়া। এই আবহে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে কি বাম-কংগ্রেস আসন সমঝোতা করবে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে এবার এবিপি আনন্দর কাছে অবস্থান স্পষ্ট করলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, নির্বাচন তো প্রায় এসে গেল। আপনারাও নিশ্চয়ই আপনাদের রণকৌশল সাজাচ্ছেন। ২০২১-এ আপনারা কংগ্রেসের সঙ্গে গেছিলেন। কংগ্রেসের সঙ্গে এবার আপনাদের অবস্থান কী ?
উত্তরে মহম্মদ সেলিম বলেন, "আমরা গত পুজোর পর থেকেই বামফ্রন্টের যারা শরিক তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। চার দফা আলোচনা হয়ে গেছে। এবার ফাইনাল স্টেজে আছে। কারণ, অন্য কারো সঙ্গে কথা বলার আগে তো নিজের ঘর গোছাতে হয়। আগে সিপিএম, তারপর বামফ্রন্ট। বামফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বামফ্রন্টের বাইরে যে বাম দলগুলি তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি। সবটা আলোচনা সম্পূর্ণ হয়নি। কারণ, এই আলোচনাগুলি আমি করছি না। আমরা সিপিআইএমএল লিবারেশনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা একমত যে, বামফ্রন্টে থাকবে না। বামফ্রন্টের সহযোগী হিসাবে, আমাদের সমর্থনে..আমাদের সমর্থন করবে, আমরা একসঙ্গে বিজেপি-তৃণমূলকে পরাস্ত করার জন্য লড়ব। আসন নিয়ে...এরপরে যেদিন বসব সেদিন ফাইনাল হয়ে যাবে। কিন্তু, যতক্ষণ না বাম শরিকদের সঙ্গে হচ্ছে...বাম শরিকদের বাইরে যারা আছে তাদের সঙ্গে তো করতে পারব না। এজন্য আটকে আছে।"
সেলিম বলেন, "বামের বাইরে যারা আছে, তাদের মধ্যে ইতিমধ্যে আমাদের আইএসএফের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারাও নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে যে, বামেদের সঙ্গেই লড়বে তারা। তাদের এটাও বলেছি যে, আর কে আসবে না আসবে এটা কোনও শর্ত থাকবে না। বামফ্রন্টের শরিকদের যেমন বলেছি, আইএসএফকেও তেমন বলেছি। আইএসএফও বলেছে, কে আসবে না আসবে...সেটা নিঃশর্ত হবে। শুধু ইস্যুভিত্তিতে-বিজেপি-তৃণমূল-বিরোধী অবস্থান থেকে।"
এরপর তিনি কংগ্রেসের প্রসঙ্গে আসেন।
তাঁর বক্তব্য , "এর পরে কংগ্রেস। এবার কংগ্রেসের মুশকিল হচ্ছে, এখনও পর্যন্ত আমাদের যা খবর আছে...বিভিন্ন দল...ছোট ছোট দল আছে...তারা চিঠি লিখেছে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যানকে। আলোচনা শুরু হয়েছে বা শুরু হয়নি। হবে। কিন্তু, কংগ্রেস দল... এদিক থেকে কোনও কিছু বলা হয়নি। যখনই হয়, আমরা উপনির্বাচনের সময়ও দেখেছিলাম, একদম শেষ মুহূর্তে গিয়ে বলে...বামফ্রন্ট প্রার্থী ঘোষণা করে দেওয়ার পর যে আছে...তখন বলে আমরা লড়ব। যখন আমরা ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বলেছি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে গতবারের...এবছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে যদি না বলে তবে কবে বলবে ? ওইজন্য আমরা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ঠিক করেছিলাম। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জানবে। আমরা কাল জানলাম, গত কয়েকদিন ধরেই বোঝা যাচ্ছিল যে, কংগ্রেসের তরফ থেকে তৃণমূলের কাছে কিছু ফিলেস পাঠানো হয়েছে...কয়েকটা আসন দিয়ে যদি কিছু সমঝোতা হতে পারে। সেজন্য বারবার বলছি, তোমাকে প্রথমে রাজনীতিগতভাবে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। বামফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতা করতে হলে আগে রাজনীতিটা স্পষ্ট করতে হয়। সেই রাজনীতিটা হবে বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী। সাম্প্রদায়িকতা-সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এবং খেটে-খাওয়া মানুষের পক্ষে। এই অবস্থান না থাকলে সমঝোতা হবে না। শুভঙ্কর বাবুর কথা মাথায় রেখে আমি সমস্ত জেলার সব কমরেডকে বলব যেখানে যেখানে কংগ্রেস আছে ...ব্লকে কেন, বুথ পর্যন্ত তারা কথা বলুক। তারা বিজেপি-তৃণমল বিরোধী শক্তিকে শক্তিশালী করবে, না তৃণমূলের সঙ্গে যাবে। এরপরে কিন্তু বলতে পারবেন না যে আমি দল ভাঙাচ্ছি। কারণ, আমরা একসঙ্গে লড়েছি। যারা এখনও অধ্যাবসায় সহকারে বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ছে, তৃণমূলের কাছে মাথা নোয়াইনি, সেই কংগ্রেস কর্মীদের আমরা শ্রদ্ধা করি। যারা অনেক লোভ-প্রলোভন-মারধর-লাঠি-জেল-জরিমানা, সিপিএম যেমন ভুগেছে, এরাও ভুগেছে। তাঁরা তৃণমূলে যাননি,সেই মর্যাদা দিতে হবে। তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যদি কংগ্রেসের ব্যবসায়িক বা বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক সম্পর্ক হয়, তারজন্য এঁরা কেন কো-ল্যাটারেল ড্যামেজ হবেন ?"
We hate spam as much as you do