পাশাপাশি একই মঞ্চ থেকে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিজ্ঞান মানসিকতা প্রসারের লক্ষ্যে রাজ্য কমিটি গৃহীত বিজ্ঞান অভিযান কর্মসূচির প্রেক্ষিতে আগামি ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি এবং ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি জেলা জুড়ে অনুষ্ঠিতব্য বিজ্ঞান অভিযানের সূচনা ঘোষিত হল। জেলার বিজ্ঞান অভিযানের সূচনা ঘোষনা করেন রাজ্য কমিটির অন্যতম সহ সম্পাদক সৌরভ চক্রবর্তী। এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে স্থানীয় মেয়েরা পরিবেশন করলেন টুসু গান ও নাচ।
জেলাজুড়ে বিজ্ঞান মঞ্চের নবান্ন উৎসব ও কৃষি কর্মশালার সূচনা
২১ জানুয়ারি ২০২৩
বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে দেশজ প্রজাতির ধান উৎপাদনকে কেন্দ্র করে নবান্ন উৎসব ও কৃষি কর্মশালা এবং জেলা জুড়ে বিজ্ঞান অভিযান কর্মসূচির সূচনা
হাসনাবাদ ও সন্দেশখালি অঞ্চলের কিছু কৃষক পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দাদশাল, দুধেশ্বর, ঘিঁয়স, হরিণখুরি, গোবিন্দভোগ ইত্যাদি সাত আট ধরনের দেশীয় ধান বীজের চাষ করেছিলেন। এই সব দেশীয় প্রজাতির বীজ সংগ্রহ ক'রে তাদের হাতে তুলে দিয়েছিল মঞ্চের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার কৃষি উপসমিতি। উদ্দেশ্য ছিল মূলতঃ দু'টি - ১). দেশীয় প্রজাতিগুলিকে রক্ষা করা এবং ২). সুন্দরবনের নোনা মাটিতে উৎপাদনক্ষম দেশজ প্রজাতির ধান চাষ কে লাভজনক ও জনপ্রিয় ক'রে তোলা। হাসনাবাদের রূপমারী এলাকায় জনা পনেরো এবং সন্দেশখালিতে আরও কয়েক জন কৃষক কে এ বিষয়ে উৎসাহিত করা সম্ভব হয়েছিল। ওই সব ধান বীজ থেকে উৎপন্ন ফসল ইতিমধ্যে ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। তাদের অভিজ্ঞতা শোনা এবং তাদের চাহিদা মোতাবেক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদানের জন্য গতকাল হাসনাবাদের রূপমারীর মাঠে সংগঠনের ইছামতী বিজ্ঞানকেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল এক অভিনব নবান্ন উৎসব ও কৃষি কর্মশালার।
পাশাপাশি একই মঞ্চ থেকে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিজ্ঞান মানসিকতা প্রসারের লক্ষ্যে রাজ্য কমিটি গৃহীত বিজ্ঞান অভিযান কর্মসূচির প্রেক্ষিতে আগামি ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি এবং ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি জেলা জুড়ে অনুষ্ঠিতব্য বিজ্ঞান অভিযানের সূচনা ঘোষিত হল। জেলার বিজ্ঞান অভিযানের সূচনা ঘোষনা করেন রাজ্য কমিটির অন্যতম সহ সম্পাদক সৌরভ চক্রবর্তী। এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে স্থানীয় মেয়েরা পরিবেশন করলেন টুসু গান ও নাচ।
দেশজ প্রজাতির ধান উৎপাদনকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজিত নবান্ন উৎসবে গ্রামের মা-বোনরা খোলা মাঠে সোৎসাহে তেলা পিঠে, পুলি পিঠে, আসকে পিঠে, পাটিসাপটার মত নানাবিধ পিঠে, পায়েস ও উৎপাদিত দেশজ প্রজাতির চালের খিচুড়ি প্রস্তুত করেন, যা এলাকার মানুষ ও অতিথিবর্গকে পরিবেশন করা হয়। এছাড়া নবান্নের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথা মনে রেখে মাঠের এক কোণে ভাত পচিয়ে অল্প পরিমাণে হাড়িয়া বা দেশজ মদও বানানো হয়।
বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে দু'জন কৃষিবিজ্ঞানী বিজ্ঞান মঞ্চের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের সুচিন্তিত ও মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে এই কর্মশালাকে সফল করে তোলেন, তারা হলেন অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় ঘোষ ও অমিতাভ বিশ্বাস। তারা এই এলাকার মাটিতে হরিণখুরি প্রজাতির দেশজ ধান চাষের ওপর এবং তার আগে জমির উর্ব্বরতা বাড়াতে ধঞ্চে চাষের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন এবং আগামি দিনে দ্রুত উৎসাহী কৃষকদের সংগঠিত করে ফারমার্স ক্লাব গঠনের পরামর্শ দেন।
দুই কৃষিবিদ্ ও সৌরভ চক্রবর্তী ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সভাপতি বাসব বসাক, সম্পাদক দেবাশীষ রায়, কার্যকরী সভানেত্রী অনিন্দিতা ভৌমিক, মিলন গাইন, সমরনাথ চট্যোপাধ্যায়, জেলা কৃষি উপসমিতির আহ্বায়ক তপন প্রামাণিক, তরুন মুখার্জী, শুক্লা সেনগুপ্ত, চন্দনা মন্ডল, দীপঙ্কর মুখার্জী, প্রসূন বিশ্বাস, প্রবীর ঘোষ প্রমুখ।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি নিপুণ হাতে দক্ষতার সঙ্গে সুসম্পন্ন করার জন্য ইছামতী বিজ্ঞান কেন্দ্রের সভাপতি পার্থ মুখার্জী এবং সম্পাদক ও তরুণ জনবিজ্ঞান কর্মী প্রদীপ্ত সরকার সহ ইছামতী কেন্দ্র ও কেন্দ্রের অধীনে থাকা প্রতিটি বিজ্ঞান সভার কর্মবৃন্দের জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।
We hate spam as much as you do