ইছামতি ব্রিজের অদূর পি ডব্লিউ ডি অফিসের সামনে ঘটে গেল মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা।লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই বেঘোরে মারা যান মাঝবয়সী প্রতিবন্ধী বুদ্ধদেব বাছাড়।ট্রাই সাইকেল চেপে বাড়ি ফেরার পথে বেহাল রাস্তায় উল্টে যায় ট্রাই সাইকেলটি।
বসিরহাটের রাস্তার বেহাল দশা এখন মরণ ফাঁদ, প্রশাসন নির্বিকার
নিজস্ব সংবাদদাতা:বসিরহাট, ৪অক্টোবর--
সাক্ষাৎ মরণফাঁদ।রাস্তা না ছোট জলাশয় বোঝা দায়।নিত্য নরকযণ্ত্রনায় হেটে যাওয়াই দুষ্কর।ছোটখাটো দুর্ঘটনা রোজ নামচা।বসিরহাট জেলা হাসপাতালে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা যানজটে জেরবার সকালের ব্যস্ত সময়।বিকল হয়ে পড়ে আছে সি সি টি ভি।সুযোগ বুঝে দু চার পয়সা হাতে গুঁজে বেআইনি লরি ট্রাকের অবাধ যাতায়াত সকাল১০টার পরেও।আর তাতে ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ।বাদ যাচ্ছে না কোন প্রতিবন্ধী। ১০০-১৫০ফুটের মধ্যে মহকুমা শাসকের অফিস বাংলো,ট্রাফিক গার্ড,মহকুমা আদালত,বিডিও অফিস বাংলো ছাড়াও২-৩মিনিট দূরত্বে পি ডব্লিউ ডি,পি ডব্লিউ(রোডস)।জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারীকদের বিধায়ক থেকে শুরু করে শাসকদলের ছোট বড় মাঝারি নেতাদের হরদম যাতায়াত।তবুও হেলদোল নেই।জীবন হাতে করে নিয়ে চলতে হচ্ছে নিত্য পথচারী থেকে শুরু করে যথেচ্ছ টোটো,অটো ভর্তি মানুষের।এমনই বেহাল অবস্থায় দিনের পর দিন পড়ে থাকছে বসিরহাটের ইটিন্ডা রোডের বোটঘাট মোড় ,পোষ্ট অফিস ও মহকুমা সংশোধনাগার মোড়।একটু বৃষ্টি হলেই জল দাঁড়িয়ে ছোট খাটো জলাশয়ের রূপ নেয়।ইছামতি ব্রিজের উপর কঙ্কালসার চেহারাও ফুটে উঠেছে।লোহার শিক বেড়িয়ে রোদ পড়ে চকচক করে।ব্রিজের উপর দিয়ে১০-১৪,১৬তারও অধিক চাকার পেল্লাই সব ট্রাক ছুটছে ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তের দিকে।কখন যে ভেঙে পড়ে ব্রিজ আতঙ্কে এপার ওপারের বাসিন্দারা।
সাংঘাতিকভাবে ভেঙে পড়েছে ট্রাফিক ব্যবস্থা।পুলিশ প্রশাসন আছে পুলিশ প্রশাসনেই।সাধারণ পথচারীদের কথা পুলিশ প্রশাসনের চোখে ঠুলি পড়ানো।বছর তিনেক আগে দাঙ্গায় শহরের সি সি টি ভি'র ক্যামেরা ভেঙে দেয় একশ্রেণীর উন্মত্ত জনতা।আজও সেই অবস্থায় পড়ে।সোমবার সকাল সাড়ে১০টা।বোটঘাট থেকে রেজিস্ট্রী অফিস মোড়,মহকুমা আদালতের মূল ফটকের সামনে তখন তীব্র যানজট।অসংখ্য টোটো, লরি,ইঞ্জিনভ্যান,মোটরসাইকেল, ভ্যান,হাকিমপুর,নেবুখালি,তরনীপুর, কলকাতা,বারাসতগামী বাস,অটো, ম্যাজিক, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের গাড়ি সামলাতে হিমসিম সিভিক ভলান্টিয়ার,কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ।ঠিক সেই সময় ইছামতি ব্রিজের অদূর পি ডব্লিউ ডি অফিসের সামনে ঘটে গেল মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা।লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই বেঘোরে মারা যান মাঝবয়সী প্রতিবন্ধী বুদ্ধদেব বাছাড়।ট্রাই সাইকেল চেপে বাড়ি ফেরার পথে বেহাল রাস্তায় উল্টে যায় ট্রাই সাইকেলটি।বুদ্ধদেব বাছাড় ছিটকে পড়েন ইটিন্ডা রোডের উপর।বেপরোয়া লরি তাঁকে পিষে দিয়ে চম্পট দেয়।স্থানীয় পুরুষ মহিলারা ঘরবাড়ি ছেড়ে ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে।পুলিশ এলে শুরু হয় বিক্ষোভ।মহিলাদের অভিযোগ কেন সকাল১০টার পর শহরের ব্যস্ত সময়ে বড় বড় ট্রাক ঢুকবে?সি সি টি ভি'র ক্যামেরা ভেঙে ফেলে রাখা হয়েছে কার স্বার্থে?কর্তব্যরত সিভিকরা রাস্তার ধারে বসে মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে।যেই লরি বা মালবোঝাই কোন গাড়ি আসে ছুটে গিয়ে টাকা নেয়।আবার মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।কেন এ জিনিস চলবে।পি ডব্লিউ ডি'র বাংলোয় নেতা, মণ্ত্রীরা এসে থাকেন।সি সি টি ভি'র ক্যামেরা সব ভাঙা।তাদের যদি কোন বিপদ হয় কী করবেন তখন?কে ধরিয়ে দেবে আততায়ীদের?
করোনার সংক্রমণ বাড়ছে নতুন করে।তৃতীয় ঢেউ আসন্ন।মাস্কবিহীন অসংখ্য মানুষের অবাধ চলাচল।সেভ ড্রাইভ সেফ লাইফের ফলাও বিজ্ঞাপন।তথাপি হেলমেট বিহীন মোটরবাইকের দিনরাত দাপাদাপি।শহরের কোনায় কোনায় পুলিশ প্রশাসনের দোড়গোড়ায় বেআইনি অনলাইন লটারির ঢালাও ব্যবস্থা।তথাপি পুলিশ আছে পুলিশেই।
বসিরহাট জেলা হাসপাতাল।তার অভ্যন্তরে মাল্টি সুপার স্পেশালিটি, ফায়ার ব্রিগেড,অসংখ্য ছোটবড় নার্সিংহোম।অসংখ্য মানুষের যাতায়াত।তারপরেও ছবিটা পাল্টায় না ইটিন্ডা রোডে বদরতলা মোড়ের।একদিকে দাঁড়িয়ে থাকে টোটো অটোর সারি।অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের গহ্বরে পূর্তবিভাগের(সড়ক) কয়েকহাত জমি।রাস্তা সংকীর্ণ হতে হতে একপ্রকার পাড়ার কোন এঁদো গলিতে পরিণত হতে চলেছে।মূমূর্ষ রোগিদের হাসপাতালে ঢুকতে বার হতে থমকে যেতে হয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন নীরব নিশ্চুপ। ফোন করে উত্তর জানতে চাইলে ফোন ধরেন না মহকুমা শাসক মৌসম মুখার্জি থেকে শুরু করে বসিরহাট জেলা পুলিশ সুপার। কোন কোন সাংবাদিকের ফোন নং কালো তালিকাভূক্ত করে রেখেছেন পুলিশ সুপার জোবি থমাস কে।
এদিন সকাল বেহাল রাস্তার ছবি তুলতে গেলে কেউ কেউ বলেই ফেললেন কি হবে ছবি তুলে,পুলিশ প্রশাসনের চোখে তো ঠুলি পড়ানো!
ছবির ক্যাপশন:রাস্তা না জলাশয়।সোমবার সকালে তোলা ছবি।
We hate spam as much as you do