গাইঘাটা ঠাকুরবাড়িতে অভব্য রাজনীতির অভিযোগ এল। বিজেপি ও তৃণমূল পঞ্চায়েত ভোটের আগে অকারন বিতর্ক করে খবরে আসছে বলে অভিযোগ। কংগ্রেসের ও সিপিআইএমের অভিযোগ যেখানে সাধারন মতুয়া মানুষের ধর্মস্থান সেখানে অকারনে রাজনৈতিক অশান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ির ধর্মীয় অন্দরে অকারন রাজনীতির অভিযোগ
১১ জুন ২০২৩
গাইঘাটা ঠাকুরবাড়িতে অভব্য রাজনীতির অভিযোগ এল। বিজেপি ও তৃণমূল পঞ্চায়েত ভোটের আগে অকারন বিতর্ক করে খবরে আসছে বলে অভিযোগ। কংগ্রেসের ও সিপিআইএমের অভিযোগ যেখানে সাধারন মতুয়া মানুষের ধর্মস্থান সেখানে অকারনে রাজনৈতিক অশান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় পৌঁছন অভিষেক। আজ, রবিবার তৃণমূল নেতা পৌঁছন গাইঘাটার ঠাকুরনগরে মতুয়াদের পীঠস্থান ঠাকুরবাড়িতে । সেখানে বীণাপাণি দেবী অর্থাৎ বড়মার ঘর সহ গোটা মন্দির এলাকা ঘুরে পরিকল্পনা ছিল তার। তবে তার আগেই ঘটল বিপত্তি।
আগেই মুখ্যমন্ত্রীর নামে পোস্টার দিয়েছিল অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ। বিষয়টি নিয়ে এদিন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরকে প্রশ্ন করা হলে তাঁর চাঁচাছোলা জবাব, 'ওঁর পিসি ঠাকুরের নামে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করবে, তা ওঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে নাকি?'গত ফেব্রুয়ারিতে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাম বিকৃত করার অভিযোগে পথে নেমেছিলেন মতুয়ারা। মুখ্যমন্ত্রীর ভুল উচ্চারণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।যা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়। এদিন সেই অনুষঙ্গ টানার পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র কটাক্ষ করেন শান্তনু সেন। বলেন "অভিষেক কে? কোন মন্ত্রী ও? বাংলার মন্ত্রী না কেন্দ্রের? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে, সাংসদ হিসেবে অভিষেক কে? সূর্যের আলোয় চাঁদ যেমন আলোকিত হয়, ও তাই হয়েছে। ব্যক্তিগত ভাবে ও যেমন সাংসদ, আমিও সাংসদ। ভোটের আগে ঠাকুরবাড়িতে এই মুহূর্তে কী আছে?" তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা ঠাকুরবাড়িরই সদস্য মমতাবালা ঠাকুর। তিনি তৃণমূলের হয়ে বলেন।
যে ভাবে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ির নাটমন্দিরে রাজ্য পুলিশ আসে, তা নিয়ে দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ ঠাকুর পরিবারের একাংশ। পুলিশ কর্মীদের সরিয়েও দেওয়া হয়।
আগেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পোস্টার লক্ষ্য করা যায় মন্দির চত্বর এলাকায়। যা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চলছিলই। এমনকি মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের মানুষ এও বলেন অভিষেককে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেবেন না, যতক্ষণ না পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী নিজের কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন।
অভিষেক আসার আগেই শান্তনু ঠাকুর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, অভিষেক মন্দিরে ঢুকলে তারপর গোবোর দিয়ে শুদ্ধিকরণ করা হবে গোটা মন্দির।
হাজার চেষ্টার পরেও ঠাকুরবাড়িতে ঢুকতেই পারলেন না অভিষেক। মূল মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকায় পাশের মন্দিরেও পুজো সারেন নেতা। তবে তারপরই সোজাসুজি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন শান্তনু ঠাকুরকে। বলেন, “৩ মাস অন্তর ঠাকুরবাড়িতে আসব, দম থাকলে আটকে দেখাক”।
প্রসঙ্গত, মতুয়া গুরু হরিচাঁদ ঠাকুর গুরুচাঁদ ঠাকুরকে মুখ্যমন্ত্রী কুরুচিকার মন্তব্য করে অপমান করেছেন মমতা! ঠিক এই দাবি নিয়েই ধিক্কার জানিয়ে আজ গর্জে ওঠে মতুয়া সমাজ। তাদের দাবি, কিছুমাস আগে মুখ্যমন্ত্রী ঠাকুরকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন তার জন্য এখনও ক্ষমা চাননি। যতক্ষণ ক্ষমা না চাইবেন মতুয়া পাগল গোসাই ভক্তরা আরও নানাভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে যাবে।
We hate spam as much as you do