ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পানিতর গ্রাম।যেখানে হাত বাড়ালেই বাংলাদেশ।তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ডাকাতদল স্হলপথে সীমান্ত পেরিয়ে পানিতর গ্রামে এসে ডাকাতি করে নিশ্চিন্তে ফিরে যেত অহরহ।অরক্ষিত পানিতরের মানুষ ডাকাতের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শরনাপন্ন হয় তৎকালীন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কালিপদ মুখার্জির।তাঁরই প্রচেষ্টায় ১৯৬২সালে পানিতর গ্রামে বিশ্বেশ্বর বিশ্বাসের বাড়িতে বিনা ভাড়ায় গড়ে ওঠে পুলিশ ফাঁড়ি।
বসিরহাট পানিতর পুলিশ ফাঁড়ি এখন সমাজবিরোধী মুক্তাঞ্চল
ফাঁড়ির দরজায় তালা।ভিতরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র,ফার্নিচার,খাট সবই আছে।পুলিশ নেই।পুলিশ এখন আর থাকে না।দীর্ঘ প্রায়৬বছর পরিত্যক্ত পুলিশ ফাঁড়ি।যদিও আজও ঝাড়ুদার ডলি মণ্ডল উঠোন,বারান্দা প্রতিদিন ঝাড়ু দিয়ে চলে যান।বাড়ির মালিক তারাও এখন আর কেউ থাকে না।বারাসতে পাকাপাকি বাস করেন।বছরে একবার বাৎসরিক কালি পূজায় আসেন।
বড়জোড় দুদিন থেকে চলে যান স্বপরিবারে।বাড়ির ছেলে সাধন বিশ্বাস মাঝে মাঝে আসেন খোঁজ খবর নিতে।এলেই হাজার অভিযোগ গ্রামবাসীদের।অভিযোগ, সাহিত্যিক বিভুতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত পানিতর গ্রামের পরিত্যক্ত পুলিশ ফাঁড়ি বর্তমানে সমাজবিরোধীদের মুক্তাঞ্চল।বিনা বাধায় দিনরাত মদ,গাজা এমনকি হেরোইনের নিরাপদ ঠেকে পরিণত হয়েছে পুলিশ ফাঁড়ির একটি অংশ।মহিলাদের আনাগোনায় অসামাজিক কাজ বেড়েই চলেছে।শুক্রবার এমনই অভিযোগ করলেন পানিতর গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণচন্দ্র দাস সহ গ্রামের অন্যান্য মহিলারা।
ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পানিতর গ্রাম।যেখানে হাত বাড়ালেই বাংলাদেশ।তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ডাকাতদল স্হলপথে সীমান্ত পেরিয়ে পানিতর গ্রামে এসে ডাকাতি করে নিশ্চিন্তে ফিরে যেত অহরহ।অরক্ষিত পানিতরের মানুষ ডাকাতের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শরনাপন্ন হয় তৎকালীন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কালিপদ মুখার্জির।তাঁরই প্রচেষ্টায় ১৯৬২সালে পানিতর গ্রামে বিশ্বেশ্বর বিশ্বাসের বাড়িতে বিনা ভাড়ায় গড়ে ওঠে পুলিশ ফাঁড়ি।
যা সরকারি স্হায়ী পুলিশ ফাঁড়ি হিসাবে গেজেটে নথিভুক্ত হয়। প্রাথমিকভাবে ৬ কনস্টেবল ১ এ এস আই নিয়ে ফাঁড়ির কাজকর্ম শুরু হয়।ধাপে ধাপে ১০কনস্টেবল ১ হাবিলদার ও ১ এ এস আই নিয়ে তিনটি ঘর,রান্নাঘর,বারান্দা মিলিয়ে ১৪০০বর্গফুটের পানিতর পুলিশ ফাঁড়ি গড়ে ওঠে।অরক্ষিত পানিতর সুরক্ষিত হয়।গ্রামের মানুষ হাঁপ ছেড়ে বাঁচে।বেশ এমনি চলছিল।বিশেষ করে গ্রামের মহিলাদের নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো হলো।একপ্রকার খুশির মেজাজে পানিতর।কংগ্রেস সরকারের ৩০ বছর, বামফ্রন্ট সরকারের ৩৪বছর।ফাঁড়ি থাকলো ফাঁড়িতেই।
২০১১ সাল,রাজ্যে ক্ষমতায় তৃণমূল কংগ্রেস।২০১৫সাল।ধাপে ধাপে ফাঁড়ির পুলিশ সংখ্যা কমতে কমতে১জন হাবিলদারে এসে ঠেকলো।ফাঁড়ির দরজায় পড়লো তালা।আর কেউ এলো না।এমনিভাবে এককবছর কেটে যাওয়ার পর বাড়ির বর্তমান মালিকরা মৌখিক এবং লিখিতভাবে জানায় বসিরহাটের তৎকালীন এস ডি পি ও এবং বসিরহাট থানার আই সি কে।কোন টু শব্দটি কেউ করলেন না।এরপর বাড়ির মালিকরা ২০১৭সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বারস্থ হন উত্তর ২৪পরগনা জেলা পুলিশ সুপারের।এবারেও টু শব্দটি কেউ করলো না।এদিকে বন্ধ ঘরগুলির ক্ষতি হতে পারে।ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার না হওয়ায় অকেজো হয়ে রয়েছে।যে কোন মূহুর্তে সট সার্কিট হয়ে বিপদ হতে পারে।
আশঙ্কায় বাড়ির মালিকদের ঘুম ছুটে যাওয়ার উপক্রম।এদিকে ফাঁড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমাজবিরোধীদের উৎপাতে আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা।অন্যদিকে হয় ফাঁড়ি নয় ঘর ফেরত।এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বাড়ির মালিকদের অন্যতম গোপি কিশোর বিশ্বাস গত ২৪ নভেম্বর লিখিত আবেদন নিয়ে দ্বারস্থ হন ডি আই জি উত্তর২৪পরগনার।তাদের কাতর আবেদন,হয় ফাঁড়ি চালু করুন নতুবা আমাদের ঘরদোর আমাদের ফিরিয়ে দিন।সংস্কারের প্রয়োজন।এরপর তারা গত ১০ ডিসেম্বর দ্বারস্থ হন নবগঠিত বসিরহাট জেলা পুলিশ সুপারের।অভিযোগ, তিনি ফাঁড়ির কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন।কারণ তিনি সরকারি গেজেটে নথিভুক্ত পানিতর পুলিশ ফাঁড়ির কথা জানেনই না।এই জানলেন।যদিও তৎপরতার সাথে বসিরহাটের এস ডি পি,বসিরহাট থানার আই সিকে পাঠালেন গত ১৪ ডিসেম্বর ফাঁড়ি দর্শনে।
এদিকে চাবি উধাও।কোথায় আছে কেউ জানে না।অগত্যা তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায় সারেন।ভিডিও করে নিয়ে চলে যান নতুন একটি তালা বন্ধ করে।শুক্রবার সংবাদমাধ্যম গ্রামে পৌঁছালে সবার মুখে একটাই কথা ফাঁড়ি চালু হোক।
ইটিন্ডা পানিতর পঞ্চায়েত প্রধান তিনিও চাইছেন নিরাপত্তার স্বার্থে ফাঁড়ি চালু হোক।
বসিরহাট জেলা পুলিশ সুপারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন আমরা জেনেছি।বিষয়টি দেখছি।ফের কী ফাঁড়ি চালু হতে যাচ্ছে?উত্তরে তিনি একই কথা জানান, আমরা দেখছি।বসিরহাট পুলিশ জেলার এক পুলিশ আধিকারীকের কথায়, কী ভাবে ফাঁড়ি চালু করবেন?যথেষ্ট সংখ্যায় অফিসার,কনস্টেবল কোথায়?সিভিকে ভরে গেছে।দীর্ঘদিন নিয়োগ হয় না।ফাঁড়ি,চালু বললেই চালু।
We hate spam as much as you do