মহম্মদ সেলিম তার বক্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতি ও সেজন্যই পঞ্চায়েত ভোট না করার ঘোষণা না করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন রাজ্যে একটা দুর্নীতির প্রতিষ্ঠান চলছে সর্বত্র এই দুর্নীতি একেবারে নিচ থেকে উপর পর্যন্ত। অভিষেক ব্যানার্জীর বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে থাকার কথা উল্লেখ করেন। মানুষের অধিকার ক্রমশ খর্ব করা হচ্ছে। সমর্থকদের দিকে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে সেলিম আহ্বান করেন মানুষের জয় হবেই।
বারাসতে CPIM-এর সভায় লক্ষাধিকে উপচে পড়ল কাছারি ময়দান।
7 Jun 2023,
আদালতে মিলল ছাড়পত্র। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসতের কাছারি ময়দানে সভা করার অনুমতি পেয়েছিল CPIM। সভার অনুমতিতে উচ্ছ্বসিত ছিল কর্মী, সমর্থকরা। এর আগে জেলা প্রশাসন ও রাজ্য পুলিশের অনুমতি না মেলায় সোমবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল বাম নেতৃত্ব। বিচারপতি রাজশেখর মান্থা সভা করার অনুমতি সংক্রান্ত নির্দেশ দেন । গত ৬ই জুন বারাসাত কাছারি ময়দানে সিপিএমের সভা করার নির্দেশে দিয়েছিল হাইকোর্ট।
প্রশাসন অনুমতি দিয়েও পরে তা বাতিল করে দেওয়া হয় । এরপর এই সভা হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। উৎকণ্ঠায় ছিলেন সিপিআইএম কর্মী, সমর্থকরা। সোমবার বিকেলে বারাসাত সিপিআইএম পার্টি অফিসে জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী জানান, " তাদের ঐতিহাসিক সমাবেশ কোর্টের নির্দেশে হয়েছে।"
জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী আরও বলেন, "মানুষের জীবন জীবিকার দাবিতে এবং পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার দাবিতে আমরা জেলা জুড়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি নিয়েছি। এর শেষে গিয়ে কাছারি ময়দানে আমরা একটা সমাবেশ করছি।" তিনি অভিযোগ করেন, জেলা শাসকের সভা বাতিলের নির্দেশ আদালত খারিজ করে দিয়েছে, এর থেকে বোঝা গেল, তৃণমূলের দলের চাপেই এই কাজ করছিলেন এই আধিকারিকরা।
মঙ্গলবার বেলা তিনটে থেকে সাতটা পর্যন্ত
এই সমাবেশের ডাক দিয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনার সিপিআইএম। দুপুর আড়াইটা থেকে প্রচুর জনসমাগম হতে থাকে তখন সূর্যের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৪২° প্রবল দাবদাহে হাঁসফাঁস অবস্থার মধ্যেই মাঠের মাঝখানে। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে বিশিষ্ট সিপিআইএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য তার তার ঘোষণায় সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করতে থাকেন।
মঙ্গলবারের এই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী। পলাশ দাস সভাপতিত্ব করেন।
মহম্মদ সেলিম তার বক্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতি ও সেজন্যই পঞ্চায়েত ভোট না করার ঘোষণা না করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন রাজ্যে একটা দুর্নীতির প্রতিষ্ঠান চলছে সর্বত্র এই দুর্নীতি একেবারে নিচ থেকে উপর পর্যন্ত। অভিষেক ব্যানার্জীর বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে থাকার কথা উল্লেখ করেন। মানুষের অধিকার ক্রমশ খর্ব করা হচ্ছে। সমর্থকদের দিকে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে সেলিম আহ্বান করেন মানুষের জয় হবেই। সেজন্য বেশি দিন আর দেরি নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন তৃণমূল বিজেপি গোপন আঁতাতের কথা তিনি বলেন মমতা ব্যানার্জি ওপর ওপর বিজেপির বিরোধিতা করলেও বহু মূল প্রশ্নে বিজেপির পক্ষে থাকেন তার সংসদরা। সেলিম বলেন আরএসএসের কাছ থেকে ঠিকা নিয়ে বাংলা থেকে লাল ঝান্ডা মুছতে চেয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি সেজন্যই আরএসএস তাকে দুর্গা বানিয়েছিল। এখন মোদী দেশ শাসন করছেন আর এরা যে তৃণমূল সরকার পৌরসভা থেকে গ্রাম সভা সর্বত্র লুটের রাজত্ব করেছে। মানুষ যাতে লুটের প্রতিবাদ করতে না পারে এজন্য ধর্ম এবং জাতির বিভাজন তৈরি করে গরিব মানুষকে উত্তেজিত করে রাখা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হলে পুলিশ নীরব দর্শক হিসেবে কাজ করে আর শান্তি মিছিল হলে ১৪৪ ধারা জারি করে। সেলিম বলেন ট্রেন বেলাইন হলে কিভাবে মানুষ মরে বালেশ্বরে দেখলেন আর সংবিধান বেলাইন হলেন আরও বেশি মানুষ মরবে। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সমাবেশে সুজন চক্রবর্তী বলেন পুলিশ সংবিধান মেনে উর্দির মর্যাদা রক্ষা করে কাজ করুক নইলে এটা যেন আমাদের দেখতে না হয় যে উর্দি খুলে মানুষ তৃণমূলের পোশাক পরিয়ে দিচ্ছে। তৃণমূল এখন ভাজা পাপড় হয়ে গেছে টোকা মারলেই ঝুরঝুর করে পড়ে যাবে সমাবেশে সভাপতিত্ব করে পলাশ দাশ। বলেন বাংলার মানুষের নতুন করে উত্থান হচ্ছে দেখে ভয় পাচ্ছে বিজেপি এবং তৃণমূল। পশ্চিমবাংলাতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আসল লড়াইটা সিপিআইএম করছে বলেই তৃণমূল সরকার নানাভাবে পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে মিটিং মিছিল আটকাতে নেমেছে। মাঠে ময়দানে রাস্তাতেই আছে সিপিআইএম। বিজেপি আছে কেবলমাত্র মিডিয়াতে। দিশাহারা হয়ে গেছেন দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি
সিপিআইএম নেতা গৌতম দেব অসুস্থ থাকায় একটি বার্তা লিখে পাঠান। পলাশ দাশ তা পড়ে শোনান। সিপিআইএম জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী ২০১৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের ২০ টি আসনে ও ছটা পঞ্চায়েত সমিতিও গ্রাম পঞ্চায়েতের অর্ধেক আসনে বামফ্রন্ট জয়ী হয়েছিল। তার পরের বছর পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে লুটপাট শুরু হয়। লুট ছাড়া তৃণমূল পঞ্চায়েত রাখতে পারবে না। এটা বুঝে গেছে বলেই রাঘববোয়ালরা ভয়ে কাঁপছে।
সমাবেশে বারাসাত দক্ষিণ পূর্ব এরিয়া কমিটির পক্ষ থেকে গণশক্তি তহবিলের ২৫ হাজার টাকা দান করা হয়। ব্যারাকপুর এরিয়া কমিটির অন্তর্গত দক্ষিণ আনন্দপুরী শাখা থেকে ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয় জ্যোতি বসু সেন্টার ফর সোশ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ কে। আলিপুর বহুমুখী রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয় এর প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা তুষ্টি নাথের স্মরণে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা প্রীতিকনা মন্ডল জ্যোতি বসু সেন্টারের জন্য ২৫ হাজার টাকা দান করেন। অল ইন্ডিয়া লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এর উত্তর ২৪ পরগনা জেলা আরও ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।
সভা উপলক্ষে গত কয়েক মাস ধরে জেলা জুড়ে মিছিল, মিটিং, প্রচার সংগঠিত করা সমাবেশে বালেশ্বরের ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত সমস্ত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় অনুষ্ঠানে ভারতীয় গণনাট্য সংঘ বিভিন্ন শাখা সংগীত ও আবৃত্তি কোলাজ পরিবেশন করে পলাশ দাশ উল্লেখ করেন প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ ঘটেছে এই তীব্র দাবদাহের মধ্যে। তীব্র বিতর্ক এবং তীব্র দাবদাহ ও বিপুল জনসমাগম এর সমন্বয় এই সমাবেশ কে বহুদিন পরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নির্দেশকের চিহ্ন দিতে পারল
We hate spam as much as you do