Tranding

08:47 AM - 04 Feb 2026

Home / North 24 Parganas / উত্তরবঙ্গের বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, বাম ছাত্র যুব মহিলাদের বিপুল ত্রাণ বিলি

উত্তরবঙ্গের বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, বাম ছাত্র যুব মহিলাদের বিপুল ত্রাণ বিলি

দার্জিলিং-এর মিরিক, সুখিয়া, রঙবুল ও আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলে ধসের জেরে বহু গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত সেখানে প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি পৌঁছায়নি। বিদ্যুৎ, পানীয়জল, নেটওয়ার্ক সবই অচল। এসএফআই–এর নেতৃত্বে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার ছাত্র স্বেচ্ছাসেবকরা রবিবার রাতে নাগরাকাটা ও মপোখরি অঞ্চলে ত্রাণ শিবির গড়ে তোলেন। বৃষ্টির মধ্যে তাঁরা বহু পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যান। সঙ্গে পৌঁছে দেন খাবার ও ওষুধ।

উত্তরবঙ্গের বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, বাম ছাত্র যুব মহিলাদের বিপুল ত্রাণ বিলি

উত্তরবঙ্গের বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, বাম ছাত্র যুব মহিলাদের বিপুল ত্রাণ বিলি


08 Oct 2025


শনিবার রাতের একটানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরের চার জেলার জনজীবন। যে দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। নিখোঁজ বহু। যদিও ঠিক কতজন নিখোঁজ সেই বিষয়ে প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট কোনও তথ্য নেই। বিভিন্ন জায়গায় চলছে উদ্ধারকাজ। আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হতেই বহু জায়গায় সাধারণ মানুষ নিজেরাই হাত লাগিয়েছেন ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের কাজে। দুর্গত মানুষদের পাশে সাধ্যমত পৌঁছে গিয়েছেন স্থানীয় বাম কর্মীরাও। শনিবার রাতের পর থেকেই বিভিন্ন অঞ্চলে ত্রাণের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাম ছাত্র যুব কর্মীরাও। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সিপিআইএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই, বাম যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই, এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা।

দার্জিলিং-এর মিরিক, সুখিয়া, রঙবুল ও আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলে ধসের জেরে বহু গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত সেখানে প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি পৌঁছায়নি। বিদ্যুৎ, পানীয়জল, নেটওয়ার্ক সবই অচল। এসএফআই–এর নেতৃত্বে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার ছাত্র স্বেচ্ছাসেবকরা রবিবার রাতে নাগরাকাটা ও মপোখরি অঞ্চলে ত্রাণ শিবির গড়ে তোলেন। বৃষ্টির মধ্যে তাঁরা বহু পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যান। সঙ্গে পৌঁছে দেন খাবার ও ওষুধ।

উত্তরবঙ্গের ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সারা রাজ্যের মানুষও। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত পাহাড় ও সমতলের হাজারো পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একযোগে ত্রাণ ও অর্থ সংগ্রহে নেমেছে সিপিআইএম এবং বামপন্থী গণসংগঠনগুলি। শিলিগুড়ি থেকে শুরু করে কলকাতা - রাজ্যজুড়ে চলছে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ।

মঙ্গলবার রাতেই কলকাতা থেকে ট্রেনে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে উত্তরবঙ্গে রওনা দেয় এসএফআইয়ের একটি দল। তার আগে থেকেই সিপিআইএম দার্জিলিং জেলা কমিটির উদ্যোগে শিলিগুড়িতে শুরু হয় ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচি। শহরের হিলকার্ট রোডে অনিল বিশ্বাস ভবনের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে অংশ নেন সিপিআইএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য, জীবেশ সরকার, জেলা সম্পাদক সমন পাঠক, দলের নেতা গৌতম ঘোষ, ময়ুখ বিশ্বাস, নুরুল ইসলাম, দিলীপ সিং এবং জয় চক্রবর্তী-সহ দলের নেতাকর্মীরা।

হিলকার্ট রোড ও সেবক রোডের একাংশে কর্মীরা ত্রাণ সংগ্রহ করেন। বহু ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষ সাড়া দেন বামেদের এই আহ্বানে। নিজেদের সাধ্যমতো অর্থ ও সামগ্রী দান করেন দুর্গতদের সহায়তায়। জেলা নেতৃত্ব জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতেও শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকার ছোট বড় বাজারে চলবে ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচি।

এদিনই বিকেলে শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ির পোড়াঝাড় এলাকায় বানভাসি মানুষের হাতে শুকনো খাবার, জল, বিস্কুটসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি এবং ডিওয়াইএফআই-এর জেলা কমিটির সদস্যরা। গত ৪ অক্টোবর রাতে মহানন্দা নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় গোটা গ্রাম। এখনও সেই আতঙ্ক কাটেনি। এখনও বহু মানুষ আশ্রয়হীন, বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের অসহায় অবস্থা মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে ওই এলাকায়। ত্রাণ সামগ্রী বিলির পাশাপাশি আশ্বাসের বার্তা দিয়েছেন সংগঠনের নেতৃত্ব—দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে যতটা সম্ভব পাশে থাকবেন তাঁরা।

অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি জেলাতেও একই চিত্র। বাম নেতৃত্ব আমগুড়ি ও চায়ের বাড়ি এলাকায় রান্না করা খাবার পৌঁছে দিয়েছেন দুর্গতদের ঘরে ঘরে। ধূপগুড়িতে এসএফআই কর্মীরা যাঁদের সরকারি নথি বন্যায় হারিয়ে গেছে, তাঁদের থানায় মিসিং ডায়েরি করতে সাহায্য করেছেন। দিনবাজার এলাকাতেও ত্রাণের অর্থসংগ্রহে নেমেছে সিপিআইএম-এর স্থানীয় কমিটি।

ত্রাণ বিলির পাশাপাশি একইসঙ্গে দক্ষিণবঙ্গেও জোর কদমে চলছে সাহায্যের হাত বাড়ানোর প্রচেষ্টা। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে—যাদবপুর, টালিগঞ্জ, বেহালা, কসবা, কাশীপুর, ভবানীপুর, বেলেঘাটা, মানিকতলা, বালিগঞ্জে ত্রাণ সংগ্রহ করছে ডিওয়াইএফআই-এর স্থানীয় নেতৃত্ব। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ মঙ্গলবারও অব্যাহত ছিল। বহু নাগরিক, পড়ুয়া, কর্মজীবী মানুষ এগিয়ে এসেছেন তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করতে। দক্ষিণ হাওড়ার বেতর মোড় থেকে ভট্টাচার্য পাড়া পর্যন্ত ডিওয়াইএফআই-এর কর্মীরা ঘরে ঘরে ঘুরে সংগ্রহ করেছেন অর্থ ও সামগ্রী।

এই বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুখরঞ্জন দে বলেছেন, এটা রাজনীতি নয়, মানবিকতার সময়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়কেই উচিত সংকীর্ণতা ভুলে উদ্ধার ও ত্রাণে যথাযথ ভূমিকা নেওয়া। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, প্রতিটি জেলার সংগঠক ও সদস্যদের যেন দ্রুত ত্রাণ সংগ্রহে নামতে হবে। পাশাপাশি বস্তিবাসী-সহ সাধারণ মানুষকে আহ্বান করেছেন, উত্তরবঙ্গের বিপর্যস্তদের পাশে দাঁড়াতে মুক্ত হস্তে দান করতে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do