২০১১ থেকে এ পর্যন্ত শুধু ওই এলাকাতেই মারা গেছেন একে একে ২৯ জন। আরও ১৭০ জন ভুগছেন এই দূরারোগ্য ব্যাধিতে। ২০১১ সালেই পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, উত্তর ২৪ পরগণা জেলা কমিটি এই আক্রান্ত শ্রমিক পরিবারগুলির কথা সর্বসমক্ষে নিয়ে আসে। তাদের জেলা সম্মেলনেও এ নিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়। সেই সময় থেকেই দৃঢ়তার সঙ্গে আক্রান্ত পরিবারগুলির পাশে আছে বিজ্ঞান মঞ্চ।
সিলিকোসিস আক্রান্ত, মৃতর পরিবারের পাশে বিজ্ঞান মঞ্চ। মিনাখাঁর গোয়ালদহ গ্রামে
20th nov 2022
মিনাখাঁর গোয়ালদহ, ধুতুরদহ, কালীতলার বিস্তীর্ণ এলাকার কাজ হারানো কৃষক সন্তানরা ২০০৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরে দু'মুঠো অন্নের সংস্থান করতে কার্যত বাধ্য হয়েই পশ্চিম বর্ধমান জুড়ে থাকা পাথরের ক্র্যাশারগুলোতে মজদুরি করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিল মারক সিলিকোসিস রোগে। তারপর ২০১১ থেকে এ পর্যন্ত শুধু ওই এলাকাতেই মারা গেছেন একে একে ২৯ জন। আরও ১৭০ জন ভুগছেন এই দূরারোগ্য ব্যাধিতে। ২০১১ সালেই পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, উত্তর ২৪ পরগণা জেলা কমিটি এই আক্রান্ত শ্রমিক পরিবারগুলির কথা সর্বসমক্ষে নিয়ে আসে। তাদের জেলা সম্মেলনেও এ নিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়। সেই সময় থেকেই দৃঢ়তার সঙ্গে আক্রান্ত পরিবারগুলির পাশে আছে বিজ্ঞান মঞ্চ। অন্যান্য একাধিক সংগঠনকে নিয়ে আক্রান্তদের চিকিৎসা, রেশন ও মৃতদের পরিবারগুলির জন্য এককালীণ অর্থ সাহায্যের দাবিতে আন্দোলনের যৌথ মঞ্চ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বিজ্ঞান মঞ্চকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে দেখা গেছে। আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বেশ কিছু দাবি আদায় করাও সম্ভব হয়েছে। এখনও সব মৃতের পরিবার সরকারের তরফ থেকে অর্থ সাহায্য পায় নি, রেশনে অতিরিক্ত বরাদ্দ এখনও অমিল, অমিল এই সব পরিবারের শিশু কিশোরদের পঠন পাঠনের সরঞ্জাম। তাই আন্দোলন চলছে। সেই সঙ্গে আক্রান্ত ও মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিতে বিজ্ঞান মঞ্চ, উত্তর ২৪ পরগণা জেলা কমিটি মাঝেমাঝেই এদের হাতে সাধ্যমত সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল তেমনই একটি শিবির আয়োজিত হয়েছিল গোয়ালদহে। সংগঠনের বিধাননগর, ব্যারাকপুর, বরানগর, চাঁদপাড়া হাসনাবাদ- হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, হাড়োয়া- মিনাখাঁ, লেকটাউন ইত্যাদি কেন্দ্রের সহযোগিতায় ১৭০ টি পরিবারের হাতে ৬ কেজি করে চাল ও ১ কেজি করে ডাল তুলে দেন বিজ্ঞান মঞ্চের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বেথুন স্কুলের প্রাক্তনীদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা 'প্রচেষ্টা'। মোট ১২০০ কেজি চাল, ২৫০ কেজির বেশি ডাল, সোয়াবিন, বিস্কুট, ছোলা, ছাতু, গুঁড়ো দুধ, গুড়, শীতবস্ত্র, লুঙ্গি, কম্বল, দরকারি ওষুধপত্র ইত্যাদি ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করা হয়।
একই সঙ্গে বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে পিআরসির সহযোগিতায় আয়োজিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরে এলাকার শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পরিষেবা গ্রহণ করেন। স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনা করেন ডা. সত্যজিৎ চক্রবর্তী ও ডা. তুহিন দত্ত।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সম্প্রতি গোয়ালদহে বিজ্ঞান মঞ্চের বেগম রোকেয়া কেন্দ্র গঠিত হয়েছে। আগামি দিনে নিজেদের দাবি আদায়ের লড়াইয়ের স্বার্থেই এই কেন্দ্রকে আরও শক্তিশালী করবেন বলে জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।
সংগঠনের জেলা সভাপতি বাসব বসাক, জেলা সম্পাদক দেবাশিস রায় ও রাজ্যের অন্যতম সহ সম্পাদক সৌরভ চক্রবর্তী প্রত্যেকেই তাদের সংক্ষিপ্ত ভাষণে আক্রান্ত ও মৃতদের পরিবারগুলির আন্দোলনের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। স্মরণ করিয়ে দেন আক্রান্ত ও মৃতদের পরিবারগুলির চিকিৎসা, খাদ্য, বস্ত্র এসব কিছুরই দায় সরকারের। তারা রাজনৈতিক মতানৈক্যের উর্দ্ধ্বে উঠে দাবি আদায়ের লড়াইয়ে সকলকে জোটবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বেথুন স্কুলের প্রাক্তনীদের সংগঠন 'প্রচেষ্টা'র নেতৃত্ব বিজ্ঞান মঞ্চের এই কর্মকান্ডের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞান মঞ্চের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে আরও যারা আজ উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন জনবিজ্ঞান আন্দোলনের বর্ষীয়ান নেতৃ মায়া মিত্র, রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যা মিলন গাইন, রত্না রায়, রাজ্য কমিটির সদস্য অধ্যাপক পুলক চক্রবর্তী, তরুণ মুখার্জী, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রদীপ্ত সরকার, সুনীতি মন্ডল, চন্দনা মল্লিক, দেবাশীষ সিনহা, চিন্ময় ভট্টাচার্য, দেবাশিস ব্যানার্জী, সত্যনারায়ণ সিং, দেবাশিস মন্ডল প্রমুখ। এছাড়াও ছিলেন রবীন্দ্র নাইয়া, রুবি সিনহা ও শ্রী অর্ণব রায়।
We hate spam as much as you do