Tranding

04:18 AM - 09 Feb 2026

Home / North 24 Parganas / মুম্বাইয়ে মৃত বাংলার পরিযায়ীদের সাহায‍্যে স্বরুপনগরে সিটু নেতৃত্ব

মুম্বাইয়ে মৃত বাংলার পরিযায়ীদের সাহায‍্যে স্বরুপনগরে সিটু নেতৃত্ব

মৃত দুই পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামে কাজ না পেয়ে আলফাজুর রহমান পাড়ি দিয়েছিল মহারাষ্ট্রে। সেখান সে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত ২ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে একটি রেললাইনের ধারে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে, আমুদিয়ার বাসিন্দা শামীম গাজী, সেও কাজের আশায় গ্রাম ছেড়েছিল। মুম্বাই কর্পোরেশনের অধীনে ম্যানহোলে নেমে পাইপলাইনের কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাস লিক করে দুর্ঘটনাবশত ম্যানহোলের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

মুম্বাইয়ে মৃত বাংলার পরিযায়ীদের সাহায‍্যে স্বরুপনগরে  সিটু নেতৃত্ব

মুম্বাইয়ে মৃত বাংলার পরিযায়ীদের সাহায‍্যে স্বরুপনগরে  সিটু নেতৃত্ব 

08 Feb 2026  


মুম্বইয়ে রেল লাইনের ধার থেকে বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় । মৃতের নাম আলফাজ মণ্ডল (২৪)। বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের বালতি মাঝেরপাড়ায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আলফাজ মুম্বইয়ে মেট্রো রেলের ঠিকাদারের অধীনে কাজ করতেন। সেখানে সোমবার্গ এলাকায় থাকতেন। সোমবার রাতে মুম্বই পুলিশ দেহ উদ্ধার করে। পরিবারের অভিযোগ, বাঙালিদের উপরে আক্রোশবশত আলফাজকে খুন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে অবশ্য মৃত্যুর কারণ হিসাবে দুর্ঘটনার উল্লেখ রয়েছে

আলফাজুর রহমান এর সাথে আর একজন আমুদিয়া এলাকার বাসিন্দা শামীম গাজী (২৭)।
মৃত দুই পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামে কাজ না পেয়ে আলফাজুর রহমান পাড়ি দিয়েছিল মহারাষ্ট্রে। সেখান সে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত ২ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে একটি রেললাইনের ধারে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে, আমুদিয়ার বাসিন্দা শামীম গাজী, সেও কাজের আশায় গ্রাম ছেড়েছিল।
মুম্বাই কর্পোরেশনের অধীনে ম্যানহোলে নেমে পাইপলাইনের কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাস লিক করে দুর্ঘটনাবশত ম্যানহোলের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। 

এদিকে আলফাজের মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। মৃতের পরিবারের দাবি, এটা নিছক কোনও দুর্ঘটনা নয় ৷ আলফাজকে খুন করে দেহ রেললাইনে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা । দেহ গ্রামে ফিরতেই এ নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন পরিবারের লোকজন । এই ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে সঠিক তদন্তেরও দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।যদিও মুম্বই পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘ট্রেন দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ৷

এর আগে ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক জোলঘোলা হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে । সেই ঘটনা ঘিরে তপ্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা ৷ রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এলাকা ৷ সেই আবহেই এবার মুম্বইয়ে কাজে গিয়ে উত্তর 24 পরগনার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য !


জানা গিয়েছে, বছর চব্বিশের আলফাজের বাড়ি স্বরূপনগর থানার বালতি মাঝেরপাড়ায় ৷ গত কয়েক বছর ধরে মুম্বইয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন ৷ সেখানে এক ঠিকাদারের অধীনে মুম্বই মেট্রোর কাজে নিযুক্ত ছিলেন তিনি ৷ থাকতেন মুম্বইয়ের সোমবর্গ এলাকায় ৷ সম্প্রতি বাড়ি ফেরার কথা ছিল আলফাজের । সে কথা পরিবারকেও জানিয়েছিলেন তিনি । তারই মধ্যে সোমবার রাতে কাজ শেষ করে ট্রেন ধরে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন যুবক । কিন্তু, বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎই রহস্যজনকভাবে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান বলে অভিযোগ । ওই রাতেই মুম্বই পুলিশ রেললাইনের ধার থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে । মঙ্গলবার সকালে সেই ঘটনার কথা জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা । আর তার পর থেকেই শোকে বিহ্বল গোটা গ্রাম।

এদিকে, আলফাজের এই আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে তাঁর পরিবার । হঠাৎ কেন তিনি নিখোঁজ হয়ে গেলেন ? কীভাবেই বা রেললাইনের ধারে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ মিলল ? উত্তর খুঁজছেন সকলে । যদিও পরিবারের সদস্যদের দাবি, এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়। কোনও শত্রুতার জেরেই কেউ তাঁকে খুন করে দেহ রেললাইনে ফেলে দিয়ে থাকতে পারে।

অন‍্যদিকে, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ঘটনাকে ‘ট্রেন দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মুম্বই পুলিশ । তবে, সেই দাবি মানতে নারাজ নিহত আলফাজের পরিজনরা। তাঁদের মতে, একজন সুস্থ যুবক কাজ থেকে ফেরার পথে এভাবে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাবেন এটা কখনই বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না । এর পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র বা আক্রোশ লুকিয়ে আছে বলে মনে করছেন তাঁরা।ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন গ্রামবাসীরাও।


কোম্পানির অবহেলায় মৃত পরিযায়ী শ্রমিকদের, পরিবারের পাশে শনিবার সকালে পৌঁছে যায় পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক ইউনিয়ন ও স্থানীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি দুই শ্রমিকেরই শেষকৃত্য করা হয়। শনিবার জেলার প্রবীণ সিআইটিইউ নেতা হামলউদ্দিন আহমেদ ও জেলার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা দেবাশিস দত্তের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মৃত দুই শ্রমিকের বাড়িতে যান। দলে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদক আসাদুল্লাহ গায়েন, জেলা সম্পাদক অসিত সেন, সুশান্ত দেব সহ নেতৃবৃন্দ। 
প্রতিনিধি দল মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ইউনিয়ন ও সিআইটিইউ কীভাবে সহায়তা করে থাকে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানান। আইনি অধিকার হিসাবে তারা আর্থিক সহায়তা কী ভাবে পেতে পারেন তারও ব্যাখ্যা করা হয়। এই আর্থিক সহায়তা পেতে হলে বিধি অনুযায়ী কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, সে বিষয়েও পরিবারগুলিকে অবহিত করা হয়।
নেতৃত্ব পরিবারগুলির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। সিআইটিইউ নেতা হামলাউদ্দিন আহমেদ,জেলা সহ সম্পাদক ও বসিরহাট মহকুমার আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের সাহায্য নিয়ে মৃত শ্রমিকদের পোস্টমর্টেম রিপোর্টের কপি ও অন্যান্য নথি সংগ্রহ করে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেন এবং তারা দুই পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন বলে মৃতদের পরিবারকে আশ্বস্ত করেন। 

Your Opinion

We hate spam as much as you do