সুন্দরবনে ত্রাণ বা অনুদানের মাধ্যমে করুণা না দেখিয়ে বা এভাবে উন্নয়নের দায় সেরে ফেলার বছরের পর বছর মিথ্যা প্রতিশ্রুতির প্রক্রিয়া না করে প্রয়োজন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং সেই জন্যে স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণ।"
শুধু ত্রাণ নয়, চাই কংক্রিটের নদী বাঁধ
৫ দফা দাবিতে নামখানা বিডিও অফিসে স্মারকলিপি
"সব হারিয়ে কাঁদছে বসে মানুষ অসহায়, ত্রানের খাবার আসবে কখন তারই আশায়।এই নদীবাঁধ পাকা হলে লাগবে না তো ত্রাণ, বাঁচবে মানুষ, পশু পাখি করবে কলতান"।স্বপন বাউলের রচনায় এবং সুরারোপিত এই বাউল সংগীত সুন্দরবনের মনের ক্যানভাসে বাঁচার আকুতি।এই গানের কলি রূপ নিয়েছে লড়াই আন্দোলনের।একের পর এক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের জাঁতাকলে বিধ্বস্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন ব্লক। দু'দিন বাদে ভরা পূর্ণিমা কোটালের আগে থেকেই নামখানা ব্লকের নারায়নগঞ্জ, নান্দাভাঙ্গা, এমন কি নামখানা বাজারেও নোনা জল ক্রমাগত ঢুকছে। এ ব্যাপারে নামখানায় "সুন্দরবন নদীবাঁধ ও জীবন জীবিকা রক্ষা কমিটি" র পক্ষ থেকে নামখানা ব্লক অফিসে ডেপুটেশন দেওয়া হয় বলে জানান সংস্থার নামখানা ব্লক সভাপতি তথা নামখানা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক পল্লব কান্তি মণ্ডল।
সুন্দরবনে পাকাপোক্ত নদীবাঁধের দাবীতে সুন্দরবনেরই রায়দিঘির বাসিন্দা স্বপন গায়েন, যিনি এলাকায় স্বপন বাউল হিসেবে পরিচিত, যিনি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন লোকসংস্কৃতির অনুষ্ঠানে বাউল সঙ্গীতও পরিবেশন করেন। তিনি এই নদীবাঁধের পাকাপোক্তের দাবিতে বেশ মজার ওই বাউল গানটি বেঁধেছেন। যে গানের মধ্যে সুন্দরবনের সহজ সরল মানুষের জীবন সংগ্রাম ও পাকাপাকিভাবে বাঁধ রক্ষার দাবি উঠে আসে। তার গানের কথায় পরিষ্কার যে চিত্রটা ফুটে ওঠে, তা শুনলেই পাঠক বুঝবেন সুন্দরবনবাসী স্বপন বাউল কি বার্তা দিচ্ছেন সরকারকে। সোস্যাল মিডিয়ায় বেশ সাড়া ফেলেছে সুন্দরবনবাসীরপক্ষে এই বাউল গানটি। একইভাবে সুন্দরবনের উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষিত ও অ-রাজনৈতিক মহলের অভিজ্ঞ বুদ্ধিজীবিদের উক্তি,
"সুন্দরবনে ত্রাণ বা অনুদানের মাধ্যমে করুণা না দেখিয়ে বা এভাবে উন্নয়নের দায় সেরে ফেলার বছরের পর বছর মিথ্যা প্রতিশ্রুতির প্রক্রিয়া না করে প্রয়োজন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং সেই জন্যে স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণ।"
মঙ্গলবার এই ব্যাপারে নামখানায় বি ডি ও অফিসে সুন্দরবন নদীবাঁধ ও জীবন জীবিকা রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়, সুন্দরবনের উন্নয়ন করতে হলে প্রথমেই দরকার মজবুত নদীবাঁধ। কেননা, নদীবাঁধকে শক্তিশালী না করা হলে কোন কালেই রক্ষা পাবে না সুন্দরবন। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সুন্দরবনবাসী, আগামী আরও একশো বছরেও এই সমস্যার সমাধান হবে না বলেই পল্লববাবু কড়া মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, এই নদীবাঁধ রক্ষার দাবিতে আমাদের সংগঠন যে দাবিগুলো লিখিতভাবে তুলে ধরেছে তা হল -----
১) জীর্ণ, নিচু নদীবাঁধগুলোকে আশু স্থায়ী মেরামত করতে হবে।
২) সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, সাধারণ মানুষ, পানচাষী, মৎস্যজীবী, সবাইকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৩) নোনাজল নিষ্কাষণের দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।
৪) দূষণ রোধে চুন, ব্লিচিং, ফিনায়েল ইত্যাদির রবরাহ বাড়াতে হবে।
৫) সুন্দরবনের সমস্ত নদীবাঁধ বিজ্ঞান সম্মতভাবে কংক্রিটের করতে হবে।
ছবি : হিমাদ্রিশেখর মণ্ডল
We hate spam as much as you do