এই কুলিং কাটিং শিল্প হল বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানার জামাকাপড় তৈরীর বাদ পড়া উচ্ছিষ্ট টুকরো কাপড় দিয়ে তুলো তৈরী করা। আর সেই তুলো দিয়ে গৃহস্থালির নানা কারুকার্যের সামগ্রী বানানো হয়। দেগঙ্গার হাদিপুর ঝিকরা ১ নম্বর গ্রাম
কুলিং কাটিং শিল্প। এক হাজার পরিবার নিয়োজিত এই শিল্পে। জীবনজীবিকার নতুন পথ দেখলো গ্রামের মানুষ।এখন শুধু চাই একটু সরকারী সহযোগিতা।
জীবিকা অর্জনের অনেক মাধ্যম বা গ্রামীণ নানা ধরনের শিল্প এবং তার কৌশল সচরাচর আমরা সকলে লক্ষ করে থাকি। এবার একটি ক্ষুদ্র নুতন কুটিরশিল্পের সন্ধান মিললো উত্তর ২৪ পরগণার দেগঙ্গার হাদিপুর এলাকায়। সেখানে একটি নুতন শিল্পকৌশল ক্যামেরা বন্দি হলো । শিল্পটির নাম কুলিং কাটিং শিল্প। যে শিল্পের উপরে ভরসা করে গত আট বছর ধরে এক হাজার দরিদ্র পরিবারে সংসার চলছে। প্রথমে বলে নেওয়া যাক কুলিং কাটিং শিল্পটি আসলে কি? এই কুলিং কাটিং শিল্প হল বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানার জামাকাপড় তৈরীর বাদ পড়া উচ্ছিষ্ট টুকরো কাপড় দিয়ে তুলো তৈরী করা। আর সেই তুলো দিয়ে গৃহস্থালির নানা কারুকার্যের সামগ্রী বানানো হয়। দেগঙ্গার হাদিপুর ঝিকরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় এক হাজার পরিবার এই শিল্পের উপরে নির্ভরশীল। হাদিপুরের সানপুকুরের বাসিন্দা মহম্মদ সালাউদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ থেকে আট বছর আগে তিনি ও তাঁর ভাই প্রথমে এই শিল্পের কাজ শুরু করেন। ধারনাটি পান কলকাতাতে কুলিং কাটিং তুলো মেশিনে জামাকাপড় তৈরীর উচ্ছিষ্ট টুকরো কাপড় দিয়ে রঙিন তুলো বানোর পদ্ধতির মধ্যমে। তারপর সেখান থেকে যোগাযোগ করে শুরু করেন কলকাতা , হাওড়া, হুগলী এবং দুই ২৪ পরগণার বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানা থেকে বাদ পড়া টুকরো কাপড় সংগ্রহের কাজ। এই কাজে টুকরো কাপড় সংগ্রহের জন্য দরিদ্র শতাধিক ফেরিওয়ালাকে নিযুক্ত করেন।দুই টাকা কেজি দরে উচ্ছিষ্ট কাপড় গুলি সংগ্রহ করে কাপড়ের রঙ অনুযায়ী বাছাই করে কুলিং কাটিং কোম্পানির কাছে ৪ থেকে পাঁচ টাকা কেজি দরে বিক্রি কর�
হিসেবে ব্যবহৃত জিনিসের উৎপাদন কমে গেছে। আশপাশে যা পাওয়া যাচ্ছে, তা অনেক বেশি দামে কিনতে হয়। ফলে মাদুর উৎপাদনে লাভ অনেক কমে গেছে। কয়েক বছর আগেও প্রতি কাউন মেলের দাম ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। ফলে এক জোড়া মাঝারি ধরনের মাদুর উৎপাদনে ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। অথচ বাজারে এ মাদুরের প্রতি জোড়ার পাইকারি দাম ৪০০ টাকা। এতে এক জোড়া মাদুরে ৩০ থেকে ৪০ টাকার বেশি লাভ থাকছে না। ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
একই গ্রামের রমেন সরকার বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে আমরা মাদুর শিল্পের সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, কয়েক বছর আগেও এ অঞ্চলের বিদ্যাধরী নদীর পাড়ে প্রচুর মেলে চাষ হতো। কিন্তু এখন আর তা দেখা যায় না। দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ অনুযায়ী উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। এক জোড়া বড় আকৃতির মাদুর তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৪৫০ টাকা। অথচ এর বাজারমূল্য ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা। মাদুর তৈরি থেকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা আয় হয়। এতসব সংকটের মধ্যেও বংশপরম্পরায় এই পেশা ছেড়ে যেতে পারছেন না বলে তিনি জানান।স্থানীয় মানুষের অভিমত এই অঞ্চলের অধিকাংশ পরিবার মাদুর শিল্পের সঙ্গে জড়িত। তবে বর্তমানে শিল্পটির অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এ কথা সত্য। এরই মধ্যে কিছু পরিবার বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। এ অবস্থায় সরকারি সাহায্যই একমাত্র ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে বাঁচাতে পারে।
শিল্পটি বাঁচাতে সরকারি-বেসরকারি ও ব্যাংক ঋণের সুবিধা প্রদান জরুরি বলে মনে করেন তারা।তা হলে মাদুর শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে করেন তারা।
We hate spam as much as you do