একমূহুর্ত অক্সিজেন ছাড়া বেঁচে থাকার উপায় নেই।প্রাতঃকৃত্য থেকে স্নান, খাওয়া,ঘুম সবেতেই অক্সিজেন সিলিন্ডার তার সঙ্গী। আড়াই ঘন্টা অন্তর একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার তার চাইই চাই।প্রতি সিলিন্ডারের দাম ৩৫০ টাকা।ঘটকপুকুর থেকে আনতে হয়।যার দূরত্ব ২৫-৩০কিলোমিটার।মৃত্যু তার শিয়রে। গ্রামের গোরস্থানের মাটি আজও শুকানোর অবকাশ পায় নি।মৃত্যু মিছিল চলছেই।সরকার এখানে চির অনুপস্থিত।
সিলিকোসিস আক্রান্ত অসহায়দের পাশে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। সরকারের কাছে দাবী।
নিজস্ব সংবাদদাতা:বসিরহাট,৩ ফেব্রুয়ারি-সংসারে এমন পরিস্থিতি, শ্বাস কিনবো না ভাত কিনবো।
একখান ব্যাটারি চালিত হুইল চেয়ার যদি পেতাম,ভিক্ষা করে অন্তত বৌ বাচ্চাদের মুখে ভাত তুলে দিতে পারতাম।একমুহূর্ত অক্সিজেন ছাড়া যার চলে না।অক্সিজেনের নল খুলে নিলে নিমেষে যার প্রাণবায়ু বেড়িয়ে যাবে সেই সিলিকোসিসে আক্রান্ত একচল্লিশের রহমান আলি মোল্লার এমনই নিদারুণ উচ্চারণ শুনলেন বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীরা।তারা আশ্বাস দিয়েছেন ব্যাটারি চালিত হুইল চেয়ারের।
রহমানের জীবন সুতোয় ঝুলছে।২৮জন সাথীকে হারিয়ে রহমান মৃত্যুপথ যাত্রী।
একমূহুর্ত অক্সিজেন ছাড়া বেঁচে থাকার উপায় নেই।প্রাতঃকৃত্য থেকে স্নান, খাওয়া,ঘুম সবেতেই অক্সিজেন সিলিন্ডার তার সঙ্গী। আড়াই ঘন্টা অন্তর একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার তার চাইই চাই।প্রতি সিলিন্ডারের দাম ৩৫০ টাকা।ঘটকপুকুর থেকে আনতে হয়।যার দূরত্ব ২৫-৩০কিলোমিটার।মৃত্যু তার শিয়রে। গ্রামের গোরস্থানের মাটি আজও শুকানোর অবকাশ পায় নি।মৃত্যু মিছিল চলছেই।সরকার এখানে চির অনুপস্থিত।
এমনই নিদারুণ ছবির ক্যানভাসে মানবতার ছবি আঁঁকতে ফের মিনাখাঁর ধুতুরদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের গোয়ালদহ গ্রামে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পৌঁছালো পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের উত্তর ২৪পরগনা জেলার ঋষি বঙ্কিম বিজ্ঞান কেন্দ্র, আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র কেন্দ্র, মঙ্গল পান্ডে কেন্দ্র, রায়গুণাকর চক্র, শ্যামনগর, ইছামতি, হাড়োয়া মিনাখাঁ বিদ্যাধরী কেন্দ্র।
গত দশ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে জেলার বিজ্ঞান কর্মীরা সিলিকোসিসে আক্রান্ত পাশে দাঁড়িয়ে আছে সাহায্যের দুহাত প্রসারিত করে।এদিন সিলিকোসিসে আক্রান্ত প্রতিটি পরিবারে যান সংগঠনের রাজ্য নেতা সৌরভ চক্রবর্তী, সুকুমার ঘোষ, অনিন্দিতা ভৌমিক, তরুণ মুখার্জি, পার্থ মুখার্জি, প্রদীপ্ত সরকার,সমীর মণ্ডল,অধ্যাপক পুলক চক্রবর্তী,
গোপাল চক্রবর্তী, অগ্রদূত ভাদুরি,সুব্রত ব্যানার্জি, পার্থ দাশগুপ্ত গ্রন্হাগার আন্দোলনের নেত্রী নন্দা ভৌমিক, প্রখ্যাত শিল্পী অধ্যাপক কমল আইচ।আক্রান্তরা কেমন আছেন, কী তাদের সুবিধা অসুবিধা তার খোঁজ নেন।সাধ্যমত সাহায্যের আশ্বাস দেন।
হাড়োয়া মিনাখাঁ বিদ্যাধরী বিজ্ঞান কেন্দ্রের কর্মী চন্দনা মল্লিক,হাজারিলাল পাত্র,কারিবুল মোল্লা, আজিজুল মোল্লারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেড়শতাধিক পরিবারের হাতে তুলে দেয় ৪ হাজার কেজি চাল, ৪০০ কেজির অতিরিক্ত ডাল, ১৫ কেজি ভোজ্য তেল,সোয়াবিন, সাবান,কম্বল, ৫০০ মাস্ক ইত্যাদি।
রেশনে সামান্য চালটুকু ছাড়া কিছুই মেলে না।ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা বন্ধ হয়েছে অনেকদিন।পড়াবো কী করে?ঘরে স্বামীটা এই মরেতো সেই মরে।গ্রামে কোন কাজ নেই।রেশনের চাল আর একটু বেশি পেলে লবণ ডলে বাচ্চা গুলোর মুখে তুলে দিতে পারতাম।মৃত্যুপথ যাত্রী রহমানের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে যণ্ত্রনাক্লিস্ট কথাকটি বলে গেলেন রহিমা বিবি।রহিমার মতো গোয়ালদহ গ্রামের ঘরে ঘরে সদ্য স্বামী হারানো মহিলারা এসেছেন বিজ্ঞান মঞ্চের ত্রাণ শিবিরে।তাদের অনেক দাবি।
সরকারকে তা মেটাতে হবে।সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সরকারের কাছে তাদের আশু দাবি পৌঁছে দিতে গ্রামে মিছিল করে।মিছিলে নেতৃত্ব দেয় বিজ্ঞান মঞ্চের নেতৃবৃন্দ।মিছিল থেকে দাবি ওঠে সিলিকোসিসে আক্রান্ত প্রতিটি পরিবারকে পেনশন দিতে হবে।এখনো বহু পরিবার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হাতে পায় নি।অবিলম্বে তা দিতে হবে।ঘরের ছোট ছেলে মেয়েদের শিক্ষা স্বাস্থ্যের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।রেশনে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।অক্সিজেন, ইনহেলার ছাড়া একমূহুর্ত চলে না।
অক্সিজেন, ইনহেলারের দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে।ইতিমধ্যে তারা গ্রামে বেগম রোকেয়া বিজ্ঞান সভাও করেছে।সেই সভা থেকে সিলিকোসিসে আক্রান্ত এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গড়ে তুলেছে বিজ্ঞান কেন্দ্র।সরকারি অবহেলা অনেক হয়েছে।আর না।আমরা বুক ভরে শ্বাস নিতে চাই।পেট ভরে ভাত খেতে চাই।বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে চাই।সরকারকে তার ব্যবস্থা করতে হবে।বিডিও,বি এম ও এইচ'র মাধ্যমে নবান্নে আমাদের দাবি পৌঁছে দিতে আরও বড় আন্দোলনের পথে সিলিকোসিসে আক্রান্তরা।পাশে থাকবে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ।আশ্বাস দিলেন সৌরভ চক্রবর্তী।
We hate spam as much as you do