তৃণমূলের উপর বীতশ্রদ্ধ মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করেছিলেন। ধীরে ধীরে মানুষ বুঝতে পারছেন, তৃণমূল ও বিজেপি ভাই-ভাই। কোনও পার্থক্য নেই। তাই মানুষ বিকল্প শক্তি খুঁজছে।’ উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কংগ্রেসের (গ্রামীণ) কার্যকরী সভাপতি কৃষ্ণপদ চন্দ বলেন, ‘আজ আমরা যৌথভাবে প্রার্থী পরিচিতি করতে বেরিয়েছিলাম। মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ আমাদের আশা জুগিয়েছে।’
বনগাঁয় বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে মিছিল উত্তাল ‘লড়াই হবে’
১৫ মে ২০২৪
বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত মিছিল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পরিণত হল মহামিছিলে। সোমবার বনগাঁ ত্রিকোণ পার্ক এলাকা থেকে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ বিশ্বাসের সমর্থনে মিছিল শুরু হয়। শেষ হয় এক নম্বর রেলগেট এলাকায়। কয়েক হাজার বাম ও কংগ্রেস কর্মী সেই মিছিলে পা মেলান। কর্মী-সমর্থকদের এই উপস্থিতি এবং উৎসাহ দেখে কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘লড়াই হবে জোরকদমে।’ ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদলের আগে বনগাঁয় যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল বামেরা। ক্রমশ সারা রাজ্যের মতো এখানেও শক্তি হারাতে থাকে তারা। তারপর একটা সময় বনগাঁর রাজনৈতিক চৌহদ্দি থেকে তারা প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। অন্যদিকে, একদা কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত বনগাঁয় তৃণমূলের শক্তি বাড়াতেই দুর্বল হয়ে পড়ে তারা। লোকসভা নির্বাচনে বামেদের সাথে আসন রফার পর বনগাঁ কেন্দ্রে প্রার্থী দেয় জাতীয় কংগ্রেস। বসে যাওয়া বা মুষড়ে থাকা কংগ্রেস সমর্থকরা এতে কিছুটা মনোবল ফিরে পান। জোটপ্রার্থীর হয়ে জান লড়িয়ে দেওয়ার ডাক দেয় বাম নেতৃত্বও।
তৃণমূলের উপর বীতশ্রদ্ধ মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করেছিলেন। ধীরে ধীরে মানুষ বুঝতে পারছেন, তৃণমূল ও বিজেপি ভাই-ভাই। কোনও পার্থক্য নেই। তাই মানুষ বিকল্প শক্তি খুঁজছে।’ উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কংগ্রেসের (গ্রামীণ) কার্যকরী সভাপতি কৃষ্ণপদ চন্দ বলেন, ‘আজ আমরা যৌথভাবে প্রার্থী পরিচিতি করতে বেরিয়েছিলাম। মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ আমাদের আশা জুগিয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁয় আলাদা লড়াই করেছিল বাম ও কংগ্রেস। সেবার বাম প্রার্থী অলকেশ দাস ৬.৪০ শতাংশ ভোট পান। আর কংগ্রেস প্রার্থী সৌরভ প্রসাদ পান মাত্র ১.৬১ শতাংশ ভোট। তবে এবার তাদের ভোটব্যাঙ্ক অনেকটাই বাড়বে বলে আশাবাদী কংগ্রেস নেতৃত্বে।
অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনের পঞ্চম দফার ভোট হতে চলেছে ২০ মে। ওই দিন বনগাঁ লোকসভা নির্বাচন। বামফ্রন্ট সমর্থিত জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ বিশ্বাস বনগাঁ মহকুমার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছেন বিরামহীনভাবে। আসন পুনর্বিন্যাসের কারণে স্বরূপনগর বিধানসভা বর্তমানে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের অধীন। আগে ছিল বসিরহাট লোকসভার অধীন। এই স্বরূপনগরে এবার ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৩৬৭। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৮২৬ এবং মহিলা ১ লক্ষ ২২ হাজার ৫৩৯ জন। প্রচারের ফাঁকে ফাঁকে কংগ্রেস প্রার্থী জানান বনগাঁ মহকুমার কিছু সমস্যার কথা। প্রার্থী নিজে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। বললেন ধর্মীয় আবেগ তৈরি করে বিজেপি এবং তৃণমূল এবার আর খুব বেশি সুবিধা করতে পারবে না। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ ওদের চালাকি ধরে ফেলেছে। জয়ের ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী। বললেন সে কথাও। বিশেষ করে ইছামতি নদী সংস্কার নিয়ে বিজেপি এবং তৃণমূলের ভাওতাবাজির জবাব দেবে বনগাঁ মহকুমার মানুষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বনগাঁর মানুষ তাঁকে সাংসদ নির্বাচিত করলে তাঁর প্রধানতম কাজ হবে ইছামতি নদী সংস্কার। বনগাঁ মহকুমা মূলত কৃষি প্রধান। কৃষকের জীবনের দৈনন্দিন নানা সমস্যা আছে। সবটাই আলোচনা করে সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই আমি সংসদে লড়াই করবো। জানিয়ে দিলেন সেকথাও। এদিনের প্রচারে ফাঁকে সিপিএম নেতা হামালউদ্দিন আহমেদ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ আনেন বর্তমান সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে। কী সেই অভিযোগ? তিনি জানালেন, বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর এম পি ল্যাডে বছরে ৫ কোটি টাকা হিসাবে ৫ বছরে ২৫ কোটি টাকা পেয়েছেন। তার একটি অংশ হিসাবে স্বরূপনগরের জন্য কমবেশি সাড়ে ৩ কোটি টাকার কি কাজ করেছেন? তিনি তার শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি তুললেন। বললেন, ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ইছামতি নদী সংস্কার করা হবে। ঢাকঢোল পিটিয়ে শান্তনু ঠাকুর তেঁতুলিয়ায় এসে তাঁর উদ্বোধন করলেন। কি দেখলাম আমরা? ইছামতি নদী সংস্কার হবে তার জন্য তেঁতুলিয়ায় ইছামতি নদীর পাড়ে তাবু টাঙানো হলো। মেশিন পত্র এলো। কতটা কী কাজ হলো কেউ জানতে পারলো না। এক সপ্তাহ পর সব উধাও। জনগণের করের ৫ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেল। তার জবাব চাইছে স্বরূপনগরের মানুষ। নির্বাচন এলেই বিজেপি তৃণমূলের প্রতিশ্রুতি ফুলঝুড়ি ছোটে। যতটুকু যা কিছু কাজ স্বরূপনগরে হয়েছে তা বাম আমলে। ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী তরনীপুরে ইছামতি নদীর উপর কংক্রিটের সেতু নির্মাণের জন্য তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত ১২ কোটি ৯৭ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা দিলেন। শিলান্যাস হয়ে গেল। নির্বাচন এসে পড়ায় সেতু তৈরির কাজ থমকে যায়। নির্বাচনে বামফ্রন্ট সরকারের পরাজয় হলো। কংক্রিটের সেতু আজও হলো না। সেই টাকার কোন হদিশ তৃণমূল দিতে পারলো না। লোকসভা নির্বাচন এলে বিজেপি বলে আমরা এই সেতু নির্মাণ করবো। বিধানসভা নির্বাচন এলে তৃণমূল বলে আমরা এই সেতু নির্মাণ করবো। ১৩বছর কেটে গেল সেতু আর হলো না। এই সেতু নির্মাণ হলে স্বরূপনগরের সাথে বনগাঁ মহকুমা, নদীয়া ছাড়িয়ে উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগ গড়ে উঠতো। বিশেষ করে বানিজ্যিক যোগাযোগ উন্নত হতো। স্বরূপনগর ব্লকের তিন গ্রাম পঞ্চায়েত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হয়ে আছে। তেঁতুল মির্জাপুর, সগুনা এবং চারঘাট। প্রশাসনিক যাবতীয় কাজ সারতে কান বেড় দিয়ে নাক ধরার মতো ঘুরে আসতে হয়। তিনটি ব্রিজ করবে বলে কথা দিয়েছিল তৃণমূল। আজও হলো না। সোনাই নদীর উপর কাঠের ভাঙা সেতু পড়ে আছে। জীবন হাতে করে যাতায়াত করতে হয় বয়ারঘাটা এলাকার মানুষের। ২০১১সালের নির্বাচনে তৃণমূল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মার্কেটিং হাব, কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করবে। করলো না। ভোট এলে নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি আর নির্বিচারে ভোট লুট ছাড়া এই ১৩ বছরে তৃণমূল কিছুই করে নি। স্বরূপনগরের মানুষ তৈরি আছে। নির্বিঘ্নে ভোট হলে তার জবাব বিজেপি এবং তৃণমূল দুজনেই পেয়ে যাবে।
এদিনের মিছিলের পর বাম - কংগ্রেসের দাবি, মরা গাঙে জোয়ার আসার ইঙ্গিত মিলছে। সিপিএমের বনগাঁ এরিয়া কমিটির সম্পাদক সমিত কর বলেন, ‘এই মহামিছিল বুঝিয়ে দিল, বনগাঁয় এবার জোর লড়াই হবে।
We hate spam as much as you do