সোমবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ আরও দুই নির্বাচন কমিশনার। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে অনিয়ম, হয়রানি এবং মানবিক বিপর্যয়ের অভিযোগ তুলে ধরে কমিশনের কাছ থেকে সরাসরি ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ দাবি করে তৃণমূল।
'মিথ্যেবাদী নির্বাচন কমিশন, বিজেপির দালাল, জ্ঞানেশের সঙ্গে বৈঠক 'বয়কট' করে বললেন মমতা
02 February 2026
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR West Bengal) ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ জানিয়ে দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে বেরোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় -সহ বাকিরা। এক ঘণ্টারও বেশি বৈঠক করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান জানালেন, "এরকম মিথ্যাবাদী কমিশন আমি কখনও দেখিনি। বহুদিন রাজনীতি করেছি, এরকম ঔদ্ধত্য আগে দেখিনি আমি।" তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে কমিশন।
জীবিত হয়েও নির্বাচন কমিশনের নথিতে ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত ৫০ জন ভোটারকে রাজধানীতে নিয়ে এসেছে শাসকদল। পাশাপাশি, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে পরিবারের কোনও না কোনও সদস্যের মৃত্যু হয়েছে— এমন অভিযোগ থাকা আরও ৫০ জনকেও দিল্লিতে আনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই ইস্যুতেই সোমবার নির্বাচন কমিশনের দফতরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এসআইআর-এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা কয়েক জন ভোটার ও পরিবারের সদস্যদের কমিশনের সামনে হাজির করানো হয়।
সোমবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ আরও দুই নির্বাচন কমিশনার। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে অনিয়ম, হয়রানি এবং মানবিক বিপর্যয়ের অভিযোগ তুলে ধরে কমিশনের কাছ থেকে সরাসরি ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ দাবি করে তৃণমূল।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে প্রস্তাবিত বৈঠকে তাঁরা যোগ দেননি। মমতার অভিযোগ, বৈঠকের আগেই তাঁদের অসম্মান ও অপমান করা হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও সিইও দফতরের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। আর সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার-র সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন বৈঠকে। আর ছিলেন মৃত ৩ বিএলও-র পরিবার ও এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবার। প্রত্যেকের পরনে কালো পোশাক। কারও পরনে কালো চাদর, কেউ আবার পরেন কালো সোয়েটার। কমিশনের সঙ্গে এক ঘণ্টার বেশি বৈঠকের পর বাইরে বেরিয়ে কী বললেন মমতা?
নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অসম্মান, অপমান করা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, কমিশনের বৈঠকে এমন একজনকে উপস্থিত করা হয়েছিল যিনি নির্বাচন কমিশনের কোনও আধিকারিক নন। মমতার প্রশ্ন, “সীমা খন্না কে? উনি নির্বাচন কমিশনের কেউ নন। বিজেপির আইটি সেলের লোক।”
মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ এত বড় সংখ্যায় ভোটার বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও প্রশ্নই তোলা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। কমিশনের এই নীরবতা নিয়েই তাঁর যত আপত্তি।
কমিশনের সঙ্গে ঘণ্টা দেড়েক বৈঠক শেষে বেরিয়ে প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা যে কথাগুলো বললেন।
আমাদের অপমান করেছন। CEC আমাদের কথা শোনেনি, আমরা বয়কট করে চলে এসেছি:
নির্বাচন কমিশন মিথ্যেবাদী। এমন ঔদ্ধত্য আগে দেখিনি: এমন আচরণ করছেন যেন উনি জমিদার, আর আমরা চাকর।।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানছে না কমিশন। বিজেপির দালাল:
অনেক নির্বাচন কমিশন দেখেছি। কিন্তু, কমিশনকে এরকম তোতাপাখি কেউ বানায়নি:
সাধারণ মানুষ সরকার নির্বাচিত করবে নাকি ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন সরকার ঠিক করবে? :
বিয়ের পর পদবি বদল হলেও নাম বাদ দিচ্ছে। জীবিতদের মৃত বলে ঘোষণা করে দিচ্ছে:
আজকে যদি অটলজি বেঁচে থাকতেন, উনি কি জন্ম শংসাপত্র দিতে পারতেন?:
এই SIR পুরো অগণতান্ত্রিক, অসংসদীয়:
আপনার যদি SIR করতেই হত, তাহলে ২০০২ সালের পর এতদিন কেন করলেন না? কেন তিনমাসে করলেন? যদি করতেই হত, যে রাজ্যগুলিতে ভোট হচ্ছে, সেগুলি ছাড়া অন্য রাজ্যে করতেন। পরে ভোট হয়ে গেলে SIR করতেন:
‘বাংলাকে কেন টার্গেট করা হচ্ছে?
We hate spam as much as you do