কেন্দ্রীয় সরকার বেসরকারি সংস্থাগুলির মাধ্যমে স্মার্ট মিটার চালু করার নির্দেশ দিয়েছে । একটি স্মার্ট মিটারের দাম 12 হাজার টাকা এবং এটি 6 বছর ধরে চলবে । তার মানে বার্ষিক খরচ হবে 2000 টাকা অথবা মাসিক খরচ 170 থেকে 180 (Fixed meter rent) টাকা । যা কেবল গ্রাহককেই বহন করতে হবে। এর মানে হল আগে যে গ্রাহককে 200 টাকা দিতে হতো, এখন বিদ্যুৎ বিলের জন্য তাঁকে 380 টাকা দিতে হবে । এছাড়াও, ভুল তথ্য প্রেরণের সুযোগ রয়েছে । যার ফলে বিদ্যুৎ বিল বেশি হবে । গ্রাহক বা বিদ্যুৎ কোম্পানি কেউই এই বিষয়ে কিছু করতে পারবে না । চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্থ হবে গ্রাহকই । গ্রাহককে বিল পরিশোধ করতে হবে অন্যথায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে ।
স্মার্ট মিটারের বিরুদ্ধে নৈহাটিতে সিপিএমের উঃ ২৪ পরগনা নেতৃত্বে গনবিক্ষোভ
May 29, 2025
সম্প্রতি দেশজুড়ে বিশাল হারে স্মার্ট ইলেকট্রিক মিটার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । যার বিরুদ্ধে রাজ্যে রাজ্যে বিক্ষোভ আন্দোলন সংগঠিত হচ্ছে ।
পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ পর্ষদের তরফ থেকে সাধারণ মানুষের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর প্রতিবাদে সিপিআইএম এর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল হলো।
নৈহাটি সিপিআইএমের দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে এরপর নৈহাটি গোয়ালা ফটকের বিদ্যুৎ পর্ষদের অফিসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে পাঁচ জনের প্রতিনিধি দল গিয়ে ডেপুটেশন দেয়।তাদের দাবি কোন ভাবেই স্মার্ট মিটার এলাকাতে বসানো যাবে না।
বরোদা ব্রিজের সামনে থেকে মিছিল যায় সেন্টারের কাছে। প্রতিবাদে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জী, প্রাক্তন বিধায়ক সত্যসেবী কর, দেবাশিষ রক্ষিত, সোমনাথ সরকার, মলয় ভট্টাচার্য, সন্তোষ ব্যানার্জী প্রমুখ। সভাপতি ছিলেন দেবজিৎ ব্যানার্জী
ডেপুটেশনে অংশ নেন ইন্দ্রানী কুন্ডু, নারায়ন রায়, সৌমিত্র নাগ, অমিতাভ সোম ও সুমন চক্রবর্তী। জমায়েতে অংশ নেয় কাচড়াপাড়া, হালিশহর, বীজপুর - পানপুর, নৈহাটি, ভাটপাড়া রাহুতা - কাউগাছি ও শ্যামনগর অঞ্চলের কর্মী সমর্থকরা।
এই প্রিপেইড স্মার্ট মিটার আর্থিকভাবে দুঃস্থ বা মধ্যবিত্তের পক্ষে কতটা বিপজ্জনক, তা বোঝাতে উদ্যোগী হয়েছে বিরোধীরা । ইতিমধ্যে, সিপিআইএম, সিপিআই, লিবারেশন, এসইউসিআই(সি) -সহ বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক দল আন্দোলন শুরু করেছে ।
রাজ্যে দু'কোটি ডোমেস্টিক ও 24 ণ বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন । কেন্দ্রীয় সরকার বেসরকারি সংস্থাগুলির মাধ্যমে স্মার্ট মিটার চালু করার নির্দেশ দিয়েছে । একটি স্মার্ট মিটারের দাম 12 হাজার টাকা এবং এটি 6 বছর ধরে চলবে । তার মানে বার্ষিক খরচ হবে 2000 টাকা অথবা মাসিক খরচ 170 থেকে 180 (Fixed meter rent) টাকা । যা কেবল গ্রাহককেই বহন করতে হবে। এর মানে হল আগে যে গ্রাহককে 200 টাকা দিতে হতো, এখন বিদ্যুৎ বিলের জন্য তাঁকে 380 টাকা দিতে হবে । এছাড়াও, ভুল তথ্য প্রেরণের সুযোগ রয়েছে । যার ফলে বিদ্যুৎ বিল বেশি হবে । গ্রাহক বা বিদ্যুৎ কোম্পানি কেউই এই বিষয়ে কিছু করতে পারবে না । চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্থ হবে গ্রাহকই । গ্রাহককে বিল পরিশোধ করতে হবে অন্যথায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে ।
শুধু তাই নয়, এই স্মার্ট মিটারে একাধিক ঝুঁকি রয়েছে বলে অভিযোগ।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: স্মার্ট মিটার থেকে নির্গত আরএফ রেডিয়েশন দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে (Bio-Initiative Report, WHO, IARC) ৷
ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী: শিশু, কিশোর, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও হৃদরোগী ।
গোপনীয়তা ও নজরদারি: স্মার্ট মিটার ব্যবহারকারীর জীবনযাত্রার নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করে । যা বাণিজ্যিক বা সরকারি পর্যায়ে নজরদারির জন্য ব্যবহারযোগ্য । কারণ, গবেষণা অনুযায়ী এটি এক ধরনের নজরদারি যন্ত্র ! গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ । কারণ, স্মার্ট মিটার নিয়মিত তথ্য পাঠায়, যা ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার বা সাইবার হ্যাকারদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে । গ্রাহকদের তথ্য গোপনীয়তা ক্ষুন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।
অতিরিক্ত বিল ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি: সফটওয়্যার বাগ ও সেন্সর ত্রুটির কারণে ওন্টারিও ও ক্যালিফোর্নিয়া-তে ব্যাপক অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ । পশ্চিমবঙ্গেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে ।
সংযোগ ও পরিকাঠামোগত সমস্যা বা অসুবিধা: গ্রামীণ বা দূরবর্তী অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, ফলে স্মার্ট মিটার ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে । এর প্রভাবে সঠিক ডেটা ট্রান্সমিশনে সমস্যা ও বিলিং ত্রুটি দেখা যেতে পারে ।
এই স্মার্ট মিটারের প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যা রয়েছে । ডিজিটাল যন্ত্রপাতির মতো স্মার্ট মিটারেও সফটওয়্যার বাগ বা যান্ত্রিক সমস্যা হতে পারে । এর ফলে, হঠাৎ করে পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়া বা অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হতে পারে । অনেক গ্রাহক প্রযুক্তি সম্পর্কে অবগত না হওয়ায় সন্দেহ বা ভয় প্রকাশ করেন । এই মিটার রিডারদের পক্ষে কর্মসংস্থানের ঝুঁকি বাড়াবে । কারণ, স্মার্ট মিটার ম্যানুয়াল রিডিংয়ের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেয় । আধা-দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থান হ্রাস পেতে পারে ।"
স্মার্ট মিটার টাকা লুটের যন্ত্র । স্মার্ট মিটার বাতিল করতেই হবে । তার জন্যে রাজ্যজুড়ে আমরা সাধারণ গ্রাহককে সচেতন করছি । যে কারণে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিরোধ গড়ে উঠছে । বক্তারা বলেন।
অ্যাবেকার আরও কয়েকটি দাবির বিষয়ে বক্তারা বলেন, "বর্ধিত ফিক্সড চার্জ -মিনিমাম চার্জ ও সিইএসসিতে এফপিপিএএস প্রত্যাহার করতে হবে । গৃহস্থকে 200 ইউনিট পর্যন্ত ও কৃষিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিতে হবে ।"
We hate spam as much as you do