"তোর রক্তে চান করে তবে ফিরবো।তোর ঘরের দরজায় তোর লাশ ঝুলিয়ে দেব।এই বুনোর জাত বেড়িয়ে আয়।এই ছোট অসভ্য নোংরা জাত বেরিয়ে আয়।"
সন্দেশখালির প্রাক্তন আদিবাসী সিপিএম বিধায়কের জাত তুলে খুনের হুমকি, বাড়ি ভাঙচুর, অভিযুক্তরা তৃণমূল।
শুক্রবার রাতে সন্দেশখালি বিধানসভার প্রাক্তন ,সন্দেশখালি -২নং পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি সি পি আই(এম)'র নিরাপদ সর্দারের বাড়িতে বেপরোয়া হামলা চালালো তৃণমূল আশ্রিত সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা।একঘন্টা ধরে বাড়ি ভাঙচুর, অশ্লীল গালিগালাজ এবং সেই সাথে খুনের হুমকি দিতে থাকে দুষ্কৃতীরা।যদিও সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না নিরাপদ সর্দার।ঘড়িতে সময় তখন রাত ১০টা।সেই সময় বাড়িতে তখন প্রাক্তন বিধায়কের ভাইজি স্বপ্না সর্দার ও দাদা জ্যোতিষ সর্দার এবং তার স্ত্রী।তারা আতঙ্কে জড়োসড়ো হয়ে থাকেন।শুক্রবার রাতের অনভিপ্রেত দুষ্কৃতী হামলায় গোটা খুলনা গ্রামের আদিবাসী সমাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।খবর পেয়ে ওই রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। কেউ গ্রেফতার হয় নি।
শুক্রবার রাতের ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ শনিবার লিখিত আকারে সন্দেশখালি থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন নিরাপদ সর্দার।খবর পেয়ে এদিন সকালে সন্দেশখালিতে ছুটে যান সি পি আই(এম) নেতা প্রাক্তন বিধায়ক মহম্মদ সেলিম গায়েন, অঞ্জনাভ পাল,রবীন সরকার, দিলীপ রায় সহ অন্যান্যরা। তারা দেখা করেন সন্দেশখালি থানার ওসি নয়ন চক্রবর্তীর সাথে।অবিলম্বে দুষ্কৃতিদের গ্রেফতার করতে হবে দাবি তোলেন নেতৃবৃন্দ।নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজ্যে তৃণমূল পরিচালিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর
বারে বারে সন্দেশখালির বিভিন্ন প্রান্তে আক্রান্ত হচ্ছেন আদিবাসীরা।তাদের পাট্টা, বর্গা জমি কেড়ে নিচ্ছে।১০০দিনের কাজ সহ সমস্ত সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।তাদের অসভ্য, বুনো, নোংরা জাত বলে গালাগালি করা হচ্ছে।বর্তমানে যিনি তৃণমূলের বিধায়ক তিনিও আদিবাসী সম্প্রদায়ের।
আদিবাসীরা অবহেলিত, লাঞ্ছিত, আক্রান্ত হচ্ছেন সন্দেশখালির বুকে।তিনি নীরব থাকছেন।এবারে ঘটলো আদিবাসী সম্প্রদায়ের খোদ প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ি আক্রমণের ঘটনা।আমরা এর তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে যথোপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।
দলের প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে তৃণমূলী হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানান সি পি আই(এম) উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী।এদিন তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে কটাক্ষের সুরে বলেন,এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি।সংখ্যালঘু, দলিত, আদিবাসী, সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা মেকি।আসল রূপ তৃণমূলের দাসত্ব মেনে নিলে ভালো।বিরুদ্ধে গেলেই হামলা, মামলা এমনকি খুন করে দেওয়া হচ্ছে।আমরা দলের পক্ষ থেকে এর তীব্র ঘৃণা জানাই এবং দোষীদের গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।সন্দেশখালিতে বারবার আদিবাসীরা আক্রান্ত হচ্ছেন।সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিয়ে এবার আমরা দিল্লিতে ন্যাশনাল কমিশন ফর সিডিউলড ট্রাইবস্ এর দারস্থ হবো।
সন্দেশখালি থানা চত্বরে এদিন দেখা হয়ে গেল হামলার সময় বাড়িতে থাকা নিরাপদ সর্দারের ভাইজি স্বপ্না সর্দারের সাথে।তখনও তার চোখে মুখে সীমাহীন আতঙ্কের ছাপ।কী হয়েছিল শুক্রবার রাতে?সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে স্বপ্না জানায়,দুপুর থেকে তারস্বরে মাইক বাজিয়ে গ্রামে তখন চলছে তৃণমূলের বর্ষবরণের উৎসবের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।সন্ধ্যা নামতেই বাজির আওয়াজ।স্থানীয় তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সত্যজ্যোতি সান্যালের অনুগামীদের উল্লাসে শান্ত খুলনার পৌষের গ্রামীণ রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে তখন খানখান।
একটু দম নিয়ে ধরা গলায় স্বপ্না এরপর জানায়,রাত তখন ১০টা। আমাদের খুলনা গ্রাম আধোঘুমে।বর্ষবরণ শেষ হয়েছে ঘন্টা খানেক আগে।আচমকা বেশ কয়েকটি মোটরবাইকের বিকট শব্দে এসে থামে বাড়ির উঠোনে।এরপর পরপর কয়েকটি বোমার শব্দ কানে আসে।সে বিকট শব্দ।আধোঘুম ভেঙে উঠে পড়ি।ততক্ষনে বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে দিয়েছে ৮-১০জন দুষ্কৃতী।কাকার নাম ধরে বলছে নিরাপদ বেড়িয়ে আয়।
"তোর রক্তে চান করে তবে ফিরবো।তোর ঘরের দরজায় তোর লাশ ঝুলিয়ে দেব।এই বুনোর জাত বেড়িয়ে আয়।এই ছোট অসভ্য নোংরা জাত বেরিয়ে আয়।"
সেই সাথে অকথ্য খিস্তি খেউর চলতে থাকে।আমি মা, বাবা তখন অসহায়।প্রতিবেশীরা কেউ ভয়ে বার হতে সাহস পাচ্ছে না।সাহস করে জানালা দিয়ে দেখি বিল্টু বর্মণ,দীপ ঘরামী, গৌতম সর্দার,রাজু মণ্ডল, বলরাম মালিরা হাতে খোলা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে।বাকীরা,রড, লাঠি সোটা নিয়ে রান্না ঘরের অ্যাসবেস্টসের চাল,ঘরের জানালার কাঁচ সব ভেঙে চৌচির করে কুলতুলির দিকে চলে যায়।ওরা চলে যেতে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।আজ যদি কাকা(নিরাপদ সর্দার) বাড়ি থাকতো নির্ঘাত খুন হয়ে যেতেন।
উল্লেখ্য,২৩ ডিসেম্বর পি এইচ ই'র পাম্প হাউসে কর্মরত অবস্থায় খেতমজুর ইউনিয়নের নেতা জ্যোতিষ সর্দারের উপর হামলা চালায় অভিযুক্ত বিল্টু বর্মণ,দীপ ঘরামী, গৌতম সর্দাররা।গত ২৯ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পেটায় সুরাজ মালি ও তার পুত্র বাপী মালিকে।সেবারও অভিযোগ ওঠে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।এদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ গ্রেফতার করার সাহস দেখাতে পারে না।সেকারণেই কেউ আর সাহস করে অভিযোগ জানায় না।পড়ে পড়ে মার খাওয়া ছাড়া উপায় কি বলুন।জল ভরা চোখে অভিযোগ ঝরে পড়লো জ্যোতিষ সর্দারের গলা থেকে। এত অত্যাচার সহ্য করেও চুপ করে থাকতে বাধ্য হয় নিঃস্ব রিক্ত আদিবাসী সমাজ।প্রসঙ্গত এখনো জ্যোতিষ সর্দারকে স্থানীয় পাম্পহাউস তার কর্মস্থলে ফিরতে দেয় নি অভিযুক্তরা।একপ্রকার পুলিশ এবং দলের প্রশ্রয়ে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে শুক্রবার রাতে হামলা চালালো।একপ্রকার পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় এমনই ঘটনা ঘটলো বলে এদিন অভিযোগ করলেন খুলনা গ্রামের আদিবাসীরা।
We hate spam as much as you do