সোমবার ভোর থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭০ জন গাজাবাসী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৮ জন ছিলেন ত্রাণ আনতে যাওয়া মানুষ। এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয় গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) নামের এক সংস্থার মাধ্যমে, যাদের কেন্দ্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমর্থিত এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থিত। এ কারণে ত্রাণ সংগ্রহকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সমালোচকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
আবার গাজার ত্রাণ কেন্দ্রে ইজরায়েল হামলায়, নিহত ৭০,জাতিসংঘের নিন্দা
১৮ জুন ২০২৫
প্যালেস্টাইনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরাইলের হামলার কারণে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সাম্প্রতিক এই হামলায় সাধারণ মানুষসহ ত্রাণ কার্যক্রমে নিয়োজিত অন্তত ৭০ জন প্যালেস্টানিয় মৃত্যু হল। দীর্ঘদিন ধরেই গাজার বাসিন্দারা হিংসা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হচ্ছেন, যার ফলে তাদের জীবনের নিরাপত্তা ও মৌলিক চাহিদাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সোমবার ভোর থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭০ জন গাজাবাসী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৮ জন ছিলেন ত্রাণ আনতে যাওয়া মানুষ। এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয় গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) নামের এক সংস্থার মাধ্যমে, যাদের কেন্দ্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমর্থিত এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থিত। এ কারণে ত্রাণ সংগ্রহকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সমালোচকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণের রাফাহ অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছিলেন নিহত ৩৮ জন। জিএইচএফ গত ২৭ মে থেকে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে বিতর্কিত এসব কেন্দ্র থেকে ত্রাণ নিতে গিয়ে তিন শতাধিক মানুষ নিহত এবং হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিনিময় চলাকালীনও ইসরাইলি বাহিনী গাজায় তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে মোট ৫৫ হাজার ৩৬২ প্যালেস্টাইনবাসী নিহত এবং এক লাখের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন।
মানবিক এই সংকটের মধ্যে গাজার সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত সহায়তা এবং সংঘাত বন্ধের জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, ইসরাইল খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং জরুরি সহায়তা বাধাগ্রস্ত করছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি অনতিবিলম্বে, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি যে, কেন সাধারণ নিরীহ মানুষকে খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে গুলি করে মারা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইসরাইলের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে যেভাবে মানুষকে হেয় করা হচ্ছে, তা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধগুলোর স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
সূত্র : রয়টার্স
We hate spam as much as you do