Tranding

07:17 PM - 04 Feb 2026

Home / National / রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ! দ্রৌপদী মুর্মু বনাম যশবন্ত সিনহা!

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ! দ্রৌপদী মুর্মু বনাম যশবন্ত সিনহা!

আগামী মাসের ১৮ তারিখ ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে ২৪ জুলাই। তারপরই সেই পদে বসবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ! দ্রৌপদী মুর্মু বনাম  যশবন্ত সিনহা!

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ! দ্রৌপদী মুর্মু বনাম  যশবন্ত সিনহা!

 

আগামী মাসের ১৮ তারিখ ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে ২৪ জুলাই। তারপরই সেই পদে বসবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।

 

NDA এর রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী  দ্রৌপদী মুর্মুর পরিচয়

 

NDA সরকার রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর জন্য দ্রৌপদী মুর্মুর নাম ঘোষণা করেছে। তাছাড়া আগে দ্রৌপদী মুর্মু ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হলে তিনিই হবেন ভারতের ‘সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রপতি’। এখনও পর্যন্ত সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হওয়ার রেকর্ড নীলম সঞ্জীব রেড্ডির কাছে। একইসঙ্গে এই প্রথম কোনও আদিবাসী মহিলা দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের দাবিদার হতে চলেছেন।
 

উল্লেখ্য, ১৯৫৮ সালের ২০ জুন ওড়িশার এক আদিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন দ্রৌপদী। রমা দেবী মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করে নিজের চাকরি জীবন শুরু করেন ওড়িশার সচিবালয় থেকে। তবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় ১৯৯৭ সালে। ওই বছরই প্রথম পুরসভা ভোটে জয়ী হয়ে প্রথমবার কাউন্সিলর হন। তিন বছর পর, তিনি রায়রংপুরের একই আসন থেকে রাজ্য বিধানসভায় নির্বাচিত হন।


প্রসঙ্গত, ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার বাসিন্দা এই দ্রৌপদী মুর্মু। ওড়িশার রায়রাংপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দুবার বিজেপির বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। একইসঙ্গে বিজু জনতা দলের জোট সরকারে মৎস্য এবং প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্বও সামলেছেন।

২০০৭ সালে ওড়িশা বিধানসভায় সেরা বিধায়কের ‘নীলকান্ত পুরস্কার’ জেতেন মুর্মু। এরপর ২০১৫ সালে তিনি ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল হিসাবে নিযুক্ত হন। তবে বিজেপিতে বরাবরই যোগ্য নেত্রী হিসাবেই পরিচিতি ছিলেন। ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বছর ময়ূরভঞ্জের বিজেপি জেলা সভাপতি ছিলেন তিনি। ওই সময় আবার তাঁকে বিজেপির তফসিলি উপজাতি শাখার জাতীয় কার্যনির্বাহী সদস্যও করা হয়েছিল।

***************************
যশোবন্ত সিনহার পরিচয়

 

বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী হলেন  যশবন্ত সিনহা। বিরোধীদের জন্য একেবারে সঠিক প্রার্থী বলেই বিবেচিত হয়েছে তাঁর নাম, এমনই মত বিশেষজ্ঞদের। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধীরা জোটবদ্ধ হয়ে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসাবে মনোনীত করেছেন।

প্রসঙ্গত, ১৮টি বিরোধী রাজনৈতিক দল যশবন্তকেই বেছে নিয়েছেন। যশবন্ত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। এমনকি রাজনৈতিক মহলে সমস্ত বিরোধীদের কাছেও সম্মানীয় ব্যক্তি তিনি। এদিন ১৮ দল তাঁর নাম প্রস্তাব করায়, ফের প্রমাণিত হল তাঁর জনপ্রিয়তা।


উল্লেখ্য, আইএএস থেকে বিজেপির মুখপাত্র হয়েছিলেন যশবন্ত এবং ছিলেন বাজপেয়ী মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও। এখন তিনি বিরোধীদের তুরূপের তাস। রাষ্ট্রপতি পদে তাই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহাকে বিরোধীরা সর্বসম্মতিক্রমে বেছে নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে। তিনিই প্রথম তৃণমূলের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত প্রার্থী।

১৯৩৭ সালের ৬ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন যশবন্ত সিনহা। প্রথমে পাটনার এক স্কুলে এবং পরবর্তীকালে কলেজে পড়াশোনা করেছেন তিনি। ১৯৫৮ সালে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপনা করেন যশবন্ত। এরপর ১৯৬০ সালে ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগদান করেন সিনহা এবং বিহার সরকারের অর্থ বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সহ বিভিন্ন শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭১ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত জার্মানিতে ভারতীয় দূতাবাসে প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৭৩ সালে ফ্রাঙ্কফুর্টে কনসাল জেনারেল নিযুক্ত হন যশবন্ত সিনহা।


এক বছর পর ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ফিরে যশবন্ত সিনহা বিহার সরকার এবং কেন্দ্রের শিল্পমন্ত্রকের সঙ্গে শিল্প সহযোগিতা, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকার এবং প্রযুক্তি আমদানি পরিচালনার কাজে যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালই ছিল যশবন্তের কর্মজীবনের একটি টার্নিং পয়েন্ট। ১৯৭০-এর দশকে জয়প্রকাশ নারায়ণের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে রাজনীতিতে যোগ দেননি।

উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন। এরপর ১৯৮৬ সালে পার্টির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হন এবং ১৯৮৮ সালে রাজ্যসভায় প্রবেশ করেন। ১৯৮৯ সালে জনতা পার্টির সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। এরপর ১৯৯০-৯১ সালে চন্দ্রশেখর সরকারের অর্থমন্ত্রী হন যশবন্ত সিনহা। ১৯৯৬ সালের জুন মাসে বিজেপির মুখপাত্র হয়েছিলেন এবং পরে ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাজপেয়ী সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী নিযুক্ত হন।

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do