রামপুরহাটের পুরনির্বাচনে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিআইএম প্রার্থী জয়লাভ করলেও ভোটের দিন তাঁকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল, অভিযোগ করেছেন মহঃ সেলিম। তিনি অভিযোগ করেন, ভোট লুটের পরেও কীভাবে রামপুরহাটের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএম জিতে গেল, তার বদলা নিতেই বগদুই গ্রামে হামলা। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, তৃণমূল নেত্রী বিরোধী শূন্য করতে বলেছিলেন, এবার তৃণমূলই তৃণমূল শূন্য করতে চাইছে।
তৃণমূলই, তৃণমূলকে শূন্য করতে চাইছে! হারামের টাকার পরিণতি, মহঃ সেলিমের মত রামপুরহাটের ঘটনায়
রামপুরহাটের হত্যাকাণ্ড নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া রাজ্য সিপিআইএম সম্পাদক মহঃ সেলিমের। এদিন তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, গোটা রাজ্য এই ঘটনায় স্তম্ভিত। তিনি বলেছেন, ঘটনা ধাপা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মন্ত্রীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অপরাধীদের আশ্রয়দানের কাজ করবেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। খুনোখুনির রাজনীতি বন্ধ করতে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক।
তৃণমূলপন্থীরা তৃণমূলপন্থীকে খুন করল
মহঃ সেলিম বলেন, তৃণমূলের উপপ্রধান ভাদু শেখ খুন হল। আর তারপরেই তৃণমূলপন্থীরা তৃণমূলীদের আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খুন করল। তিনি বলেন, মৃত কত, তা সঠিক হিসেব নেই। তিনি বলেন, সন্ত্রাস কাকে বলে সাধারণ মানুষ শহরে বসে বুঝতে পারছেন না। দিন কয়েক আগে ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর এবং পানিহানির তৃণমূল কাউন্সিলরের খুনের ঘটনার কথা তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই মৃত্যু মিছিল চলতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
রামপুরহাটের পুরনির্বাচনে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিআইএম প্রার্থী জয়লাভ করলেও ভোটের দিন তাঁকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল, অভিযোগ করেছেন মহঃ সেলিম। তিনি অভিযোগ করেন, ভোট লুটের পরেও কীভাবে রামপুরহাটের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএম জিতে গেল, তার বদলা নিতেই বগদুই গ্রামে হামলা। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, তৃণমূল নেত্রী বিরোধী শূন্য করতে বলেছিলেন, এবার তৃণমূলই তৃণমূল শূন্য করতে চাইছে।
দায়িত্ব নিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে
মহঃ সেলিম বলেন, একের পর এক যেসব ঘটনা ঘটছে তার দায়িত্ব নিতে হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কেননা তিনি পুলিশমন্ত্রী আবার তৃণমূলের নেত্রীও তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১০০ শতাংশ আসনে জয়ের আহ্বানের কথাও সেলিম স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এদিন। সেলিম আরও বলেন, পুরনির্বাচনে গ্রামের মস্তানদের শহরের একএকটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এরই পরিণতি হয়েছে বগদুই গ্রামে। তিনি বলেন দায় রয়েছে পুলিশেরও।
চারিদিকে বেআইনি অস্ত্রের কারখানা
মহঃ সেলিম অভিযোগ করেন, চারিদিকে বেআইনি অস্ত্রের কারখানা। আর মন্ত্রী বলেন এরমক তো হয়েই থাকে। আর অনুব্রত মণ্ডল বলছেন টিভি ফেটে তা হয়েছে। আর সেই দলের নেত্রী বলবেন, ওর মাথায় অক্সিজেন কম। এই অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন, পুলিশের ওপরে বোমা ছুড়তে হবে। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বীরভূমের স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিল, পুলিশ কিছু করেনি। তিনি বলেন, এর আগে কোথাও বোমা বিস্ফোরণ হলে তৃণমূল নেত্রী বলেছেন বাজির কারখানা। রামপুরহাটের বগদুই গ্রাম ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানোর দাবি তুলেছেন তিনি।
রাজ্যের মানুষকে ঘুরে দাঁড়াতে আহ্বান
মহঃ সেলিম রামপুরহাট, বীরভূম এবং রাজ্যের মানুষের কাছে জোড় হাতে এইসব ঘটনার প্রতিবাদ করে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান করেছেন। তিনি বলেছেন, যাঁরা ভেবেছিলেন, তৃণমূলের ছত্রছায়ায় গেলে প্রাণে বাঁচবেন, তাঁরা কেউ বাঁচবেন না। চোরাচালান আর হারামের টাকার পরিণতি এই ঘটনা। যেখানে পুলিশও নিরাপদ নয়, বলেছেন তিনি।
We hate spam as much as you do