Tranding

10:14 PM - 04 Feb 2026

Home / Politics / কি হবে? ৬০০০০ বুথে ৪০০০ জওয়ান চাইল নির্বাচন কমিশন ১৫ বুথে ১ জন?

কি হবে? ৬০০০০ বুথে ৪০০০ জওয়ান চাইল নির্বাচন কমিশন ১৫ বুথে ১ জন?

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বুথের সংখ্যা ৬০ হাজার ৬৩৬টি। ৪৪ কোম্পানির বাহিনীতে জওয়ান থাকবেন সর্বোচ্চ ৫৯৪০জন। এদের সবাই মাঠে নামতে পারবেন না। আদতে সংখ্যাটা সাড়ে ৪ হাজারের আশেপাশেই থাকবে। আর এখানেই প্রশ্ন, মাত্র সাড়ে ৪ হাজার জওয়ান কীভাবে রাজ্যের ৬০ হাজারেরও বেশি বুথের নিরাপত্তা দেখবেন?

কি হবে? ৬০০০০ বুথে ৪০০০ জওয়ান চাইল নির্বাচন কমিশন ১৫ বুথে ১ জন?

কি হবে? ৬০০০০ বুথে ৪০০০ জওয়ান চাইল নির্বাচন কমিশন ১৫ বুথে ১ জন? 


20 jun 2023


সুপ্রিম কোর্ট(Supreme Court) নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের সব জেলায় কেন্দ্রীয়া বাহিনীর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে পঞ্চায়েত নির্বাচন(Panchayat Election) করাতে হবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এটা বলে দেয়নি যে ঠিক কত বাহিনী নামাতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দুই হাত তুলে নাচানাচি শুরু করেছে বিরোধী শিবির। কিন্তু একটু তলে গিয়ে ভেবে দেখলে দেখা যাবে এই সুপ্রিম নির্দেশের সেভাবে কোনও প্রভাব পড়বেই না আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে। কেননা ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন জেলা প্রতি ২ কোম্পানি বাহিনী চেয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চিঠি দিচ্ছে। হিসাব মতো দেশের আধা সামরিক বাহিনীগুলিতে প্রতি কোম্পানিতে সর্বোচ্চ ১৩৫জন করে জওয়ান থাকেন। সেই হিসাবে জেলা প্রতি জওয়ান আসবে ২৭০জন। এর মধ্যে সবাই টহলদারীর কাজে বা সুরক্ষার কাজে নামবেন না। মেরেকেটে ২০০জন নামবেন। ১টি জেলায় যেখানে বুথের সংখ্যাই ২ হাজার থেকে ৪ হাজারেরও বেশি সেখানে এই ২০০জন জওয়ান কোন বুথ রক্ষা করবেন আর কোন বুথে সুরক্ষা দেবেন সেটাই এখন মস্ত বড় প্রশ্ন।

 

বাংলায় এখন জেলার সংখ্যা ২৩টি। এর মধ্যে কলকাতা বাদে বাকি সব জেলায় ভোট হচ্ছে। সেই হিসাবে রাজ্যে ৪৪ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী আসতে পারে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বুথের সংখ্যা ৬০ হাজার ৬৩৬টি। ৪৪ কোম্পানির বাহিনীতে জওয়ান থাকবেন সর্বোচ্চ ৫৯৪০জন। এদের সবাই মাঠে নামতে পারবেন না। আদতে সংখ্যাটা সাড়ে ৪ হাজারের আশেপাশেই থাকবে। আর এখানেই প্রশ্ন, মাত্র সাড়ে ৪ হাজার জওয়ান কীভাবে রাজ্যের ৬০ হাজারেরও বেশি বুথের নিরাপত্তা দেখবেন? তার থেকেও বড় কথা এই বাহিনী থাকবে পুলিশের অধীনে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা কোন বুথে মোতায়েন হবেন সেটা ঠিক করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কোন এলাকায় তাঁরা টহল দেবেন সেটা ঠিক করবে রাজ্য পুলিশ(West Bengal State Police)। দেখা গেল একটি ব্লকে ১০০টি বুথ রয়েছে, অথচ সেই ব্লকের ভাগে পড়ল মাত্র ১০ থেকে ১৫জন জওয়ান। কীভাবে কোন এলাকার কোন বুথের নিরাপত্তা দেখবেন এরা? আর কোন এলাকাতেই বা নিরাপত্তা দেবেন?


দেশে এখন ৭টি আধাসামরিক বাহিনী রয়েছে যা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে রয়েছে। এই বাহিনীগুলি হল Assam Rifles বা AR, Border Security Force বা BSF, Central Industrial Security Force বা CISF, Central Reserve Police Force বা CRPF, Indo Tibetan Border Police বা ITBP, National Security Guard বা NSG এবং Sashastra Seema Bal বা SSB। এই সব বাহিনী থেকেই ৪৪ কোম্পানি বাহিনী আসবে বাংলায় যার খরচ বহণ করবে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে  মাত্র ৪৪ কোম্পানি বাহিনী দিয়ে কী হবে? অপরাধ বাড়বে। যদিও শোনা যাচ্ছে  রাজ্য নির্বাচন কমিশন ঠিক কত বাহিনী চেয়ে কেন্দ্রকে চিঠি দেয় সেটা দেখেই ফের বিরোধীরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে। মনে করিয়ে দেওয়া উচিত একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে এসেছিল ৯৫৬ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী। সেখানে পঞ্চায়েত নির্বাচনে মাত্র ৪৪ কোম্পানি? এতো শুধুই ঢক্কানিনাদ।

Your Opinion

We hate spam as much as you do