Tranding

08:59 PM - 04 Feb 2026

Home / Entertainment / ধারাবাহিক গোয়েন্দা গল্প , সিক্স স্ট্রিংস , শঙ্কর ভট্টাচার্য ( শেষ পর্ব )

ধারাবাহিক গোয়েন্দা গল্প , সিক্স স্ট্রিংস , শঙ্কর ভট্টাচার্য ( শেষ পর্ব )

সে গিয়ে দেখে সম্রাট একটা দশাসই লোককে প্রায় কাবু করে ফেলে বুকে পা দিয়ে চেপে রেখেছে । ততক্ষণে সিপাইরা সেখানে পৌঁছে গেছে । সিপাইদের হাতে লোকটাকে ছেড়ে দিয়ে বলে “ সাবধান ! আমরা না ফেরা পর্যন্ত এটাকে বেঁধে রাখো । খতরনাগ লোক এটা । সুযোগ পেলেই পালাবে । “

ধারাবাহিক গোয়েন্দা গল্প ,  সিক্স স্ট্রিংস ,  শঙ্কর ভট্টাচার্য    ( শেষ পর্ব )

সিক্স স্ট্রিংস

শঙ্কর ভট্টাচার্য

                             ( শেষ পর্ব )

মঙ্গলবার (৩০/১১/২১) প্রকাশের পর  --------------------------------------                           

                              

                                 (৭)

 

পরিস্থিতি একটু শান্ত হলে জানা যায় ইমনের ঘরে ও দেবলীনাকে নিয়ে একটু অন্তরঙ্গ অবস্থায় শুয়ে ছিল । ভিতরের দিকের ব্যালকনি্র দরজায় শিটকিনি দিতে ভুলে গিয়েছিল । সেই সুযোগে ইমনকে খুন করতে ঢোকে  চন্দ্রিল  , মুখে ছিল মুখোশ । ইমন তাড়া করতেই পালিয়ে আসে ।জানে ইমন ওর থেকে অনেক বলশালী আর রগচটা । ধরতে পারলে সত্যিই খুন হয়ে যেত ও । তখনও চন্দ্রিল এর জামার কলার ধরে আছে অনিন্দ্য । ওকে সম্রাটের হাতে দিয়ে ঘরে ঢোকে অনিন্দ্য ।

 

বাথরুম থেকে পাওয়া যায় সেই মুখোশ ।

এবার ভেঙ্গে পড়ে চন্দ্রিল । নিরুপায় হয়ে অনিন্দ্যর পায়ে পড়ে বলে “ আমি সত্যিই খুন করতে যাইনি । ভয় দেখাতে গিয়েছিলাম ।

 

সম্রাট বলে – কেন ? কেন ভয় দেখাতে গিয়েছিলেন ? ইমন তো আপনার বন্ধু ।

 

এবার হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে বলে “ আসলে দেবলীনাকে আমিই ভালবাসি । ওর সাথে ইমনের এই ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারছিলাম না । “

 

যাক চন্দ্রিল বাবু  আপনি এই ঘরে এই কদিন নজরবন্দী রইলেন । ঠিক সময়ে আপনার ঘরে লাঞ্ছ, ডিনার , টিফিন  সব পৌঁছে যাবে , কিন্তু আপনি থাকবেন তালাবন্দী । ভিতরে , বাইরে দুদিক থেকেই কড়া নির্দেশ অনিন্দ্যর ।

 

                                   ()

 

থমথম করছে রিসর্ট । আজ ঘুম নেই কারো চোখে । অন্যদিন গভিররাতে ঋত্বিকের বেহালার আওয়াজ ভেসে আসে এই রিসর্টএর কোনও কোন থেকে তা সে যা কিছু হোক না কেন ! আজ তাও নেই । সকলেই যেন কোনও অজানা আশংকায় ভয়ে কুঁকড়ে আছে ।

 

এরমধ্যে একবার শেখর অনিন্দ্যর সামনে কেঁদে কেটে বলেছে “ স্যার আমার খুব ভয় করছে । এর পরের টার্গেট আমি নই তো ! “

 

 সান্তনা দিয়ে অনিন্দ্য বলেছে “ ভয় পাবেন না । সহযোগিতা করুন ।“

 

যে যার ঘরে আলো জ্বালিয়ে বসে আছে , শুধু অনিন্দ্য সারা রিসর্ট টহল দিচ্ছেন । লোকাল অফিসার দুজন পুলিশ ভিতরেও দিতে চেয়েছিল । বাধা দিয়েছে অনিন্দ্য । আর সম্রাট যে কখন কোথায় থাকে তা কেউ জানেনা ।

 

হঠাতই পিছনের দিকের পাঁচিলের কাছ থেকে সম্রাটের চীৎকার ভেসে আসে । স্যার , কুইক ! পিছনের দিকের পাঁচিলের কাছে আসুন । এই ভাই সিপাইরা তোমরাও এস । জলদী ! “

 

একমুহূর্ত দেরী না করে অনিন্দ্য ছোটে সেই দিকে ।

 

সে গিয়ে দেখে সম্রাট একটা দশাসই লোককে প্রায় কাবু করে ফেলে বুকে পা দিয়ে চেপে রেখেছে । ততক্ষণে সিপাইরা সেখানে পৌঁছে গেছে । সিপাইদের হাতে লোকটাকে ছেড়ে দিয়ে বলে “ সাবধান ! আমরা না ফেরা পর্যন্ত এটাকে বেঁধে রাখো । খতরনাগ লোক এটা । সুযোগ পেলেই পালাবে । “

 

এবার অনিন্দ্য বলে “ কুইক সম্রাট তিনতলা ঋত্বিকের ঘর “

 

প্রায় হুড়মুড় করে ঋত্বিকের ঘরে ঢোকে । ঘরে কেউ নেই ।

 

অনিন্দ্য বলে “ খুব তাড়াতাড়ি টিনের বাক্সগুলো খুঁজে নে । নইলে পালাবে বাবাজীবন “

 

খুব দ্রুত দুজনে বাক্সগুলো খোঁজে ।

 

একটা বাক্সে পাওয়া যায় অনেক লুজ সেতারের স্ট্রিং । এমনই একটা গলায় পেঁচিয়ে খুন করা হয়েছিল তিনজনের একজনকে ।

 

ভিতরে ততক্ষণে লোকাল অফিসার সোমবাবু চলে এসেছেন । তার এক সিপাইকে এই ঘর পাহারার দায়িত্ব দিয়ে অনিন্দ্য , সম্রাট আর সোমবাবুকে নিয়ে নিচে নামে । একবার যায় ঐ শক্তিমান দানবটার কাছে । তখনও সে পালাবার চেষ্টা করছে । একগুচ্ছ পুলিশ ওকে প্রায় মেরে আধমরা করে দিয়েছে ।

 

ওরা যেতেই সেকেন্ড অফিসার নিমাইবাবু অনিন্দ্যকে উদ্দেশ্য করে বলে “ স্যার এর পকেট থেকে এই স্ট্রিং গুলো পাওয়া গেছে ।

 

অনিন্দ্য সংক্ষেপে বলে “ ওগুলো রাখুন আপনার কাছে । আর জানা গেল কি আজকে ওর টার্গেট কে ছিল ?”

 

নিমাইবাবু বলে “  শালা কিছুতেই মুখ খুলছেনা । শুধু এইটুকু জেনেছি অপারেশন ফার্স্ট ফ্লোর।“

 

বিড়বিড় করে অনিন্দ্য বলে “দেবলীনা “

 

এবার সম্রাটকে উদ্দেশ্য করে বলে  “ সম্রাট , তুই লিড কর ! বেশী লোক যাবার দরকার নেই । তুই , আমি আর সোমবাবু । কুইক । নো লেট ।“

 

ওরা জঙ্গলে ঢোকে । টর্চের আলোতে প্রায় দু কিলোমিটার হেঁটে , দৌড়ে পৌছায় একটা টালির চালওয়ালা ভাঙ্গা বাড়ির সামনে ।

 

বারান্দায় একটু শব্দ হতেই ভিক্সর থেকে ঋত্বিক বলে “ কে ? সুন্দরী দেবলীনা এলে বুঝি ?”

 

উদ্যত রিভলবার হাতে সম্রাট বলে “ হ্যাঁ তোর যম “

 

পিছনে ঘাড় ঘুরিয়ে ওদের দেখে নিয়ে একটু মুচকি হেসে বলে “ আমি তো জানতাম একদিন এই দিন আসবে । চলুন নিয়ে চলুন । কোথায় নিয়ে যাবেন ? ফাঁসি , যাবজ্জীবন ? আমি সবেতেই প্রস্তুত । দুঃখের কি জানেন , একটা ভালো অডিয়েন্স বানাচ্ছিলাম । সেটা সম্পূর্ণ করতে দিলেন না ।

 

কঙ্কাল গুলোকে দেখিয়ে বলে “ এরা সব আমার একনিষ্ঠ শ্রোতা , বিশ্বাসী বুদ্ধিমান সব গুণীজন ।“

 

কোনও উদ্বেগ নেই গলায় । ভয় নেই । এক নিঃশ্বাসে বলে যায় কথাগুলো ঋত্বিক ।

                                           

                                   (৯)

 

 

এক ভয়াবহ রাত্রি শেষে এক মধুর সকাল আসে । পরেরদিন সকাল ঠিক দশটায় অনিন্দ্য সকলকে ডেকেছিল লনে । বলেছিল চা , পকোড়া সহযোগে কিছু কথা সে বলবে ।

 

দশটাতে অনিন্দ্য আর সম্রাট আসে । শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর অনিন্দ্য সকলের সাথে সম্রাট এর পরিচয় করিয়ে দেয় । “ জুনিয়র ইনভেস্তিগেতিং অফিসার ! ক্ষুরধার বুদ্ধি , অসীম সাহস আর তেমনি গায়ের জোর । অনেক দূর যাবে ও ।

 

আমরা অনেক আগেই সন্দেহ করেছিলাম অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে এই জঙ্গলের কোথাও। এই রিসর্ট হল সংগ্রহ শালা । সম্রাট পাক্কা পনের দিন কাঠুরিয়াদের দলে ভিড়ে এই জঙ্গলে থেকেছে । তখনই ও বুঝতে পারে ঋত্বিক নিজের গু্নপনাকে সম্বল করে বিশেষ বিশেষ লোকদের এই জঙ্গলে ডেকে , আর তারপর ওর পোষা ওই দানবের কাজ হচ্ছে বিভিন্ন পদ্ধতির সাহায্যে ঐ অসহায় লোকটাকে খুন করা ।

 

 

শ্রোতাদের মধ্য থেকে একটা বিস্বয়সুচক ধ্বনি ওঠে । তাদের থামিয়ে দিয়ে অনিন্দ্য বলে “ এখানেই শেষ নয় । এখান থেকে প্রায় দু কিলো মিটার দূরে টিনের ছাউনি দেওয়া একটা দু কামরার গুমঘর আছে । ওখানে বিভিন্ন রসায়নিকের সাহায্য নিয়ে লাশটার কঙ্কাল বের করে আনা হয় , তারপর বসিয়ে দেওয়া হয় ঋত্বিক এর জলসাঘরে । শ্রোতাদের মাঝে ।“ সারা ঘরে গুঞ্জন ওঠে ।“ ওরকম সুন্দর শিল্পী লোক এইরকম একটা মারাত্বক খুনি ? কিন্তু কেন ?”

 

 

এবার একটু হেসে জবাব দেয় অনিন্দ্য “ ঋত্বিক এর নিজের মুখের কথাই শুনুন । রেকর্ড করা আছে । “   রেকর্ড চালায় । শোনা যায় “ এই দিনটা যে আসবে জানতাম । ভেবেছিলাম পঞ্চাশ জনের একটা  অবিডিয়েন্ট এডুকেটেড  অডিয়েন্স তৈরি করব । পারলাম না । থেমে যেতে হল । এরপর হয় ফাঁসি আর নয় যাবজ্জীবন ।“

 

বিস্মিত ইমন জানতে চায় “ এর মানে কি ? এটা কি পাগলামি ? “

 

সম্রাট ঘাড় নেড়ে বলে “ একদমই “

 

 

অনিন্দ্য বলে “ এবার উঠতে হবে । একটা দুঃখ বুকে নিয়ে যাব , বাঁচাতে পারলাম না ছেলে মেয়ে দুটোকে । তবু তো সম্রাট বাঁচিয়ে দিয়েছে দেবলীনা দেবীকে ।“  ডুকরে কেঁদে ওঠে দেবলীনা । ভয়ে , আনন্দে ।

 

(সমাপ্ত )

 

 

 

 

 

 

 

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do