চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই রেলে নিয়োগের পরীক্ষায় বেনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। রেলওয়ে নিয়োগ বোর্ডের ২০২১ সালের নন-টেকনিক্যাল পপুলার ক্যাটেগরির পরীক্ষার এখনও ফল প্রকাশ না হওয়ায় তারা বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে। তবে বিক্ষোভ ভয়ঙ্কর আকার নেয় প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন। গয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জও করে পুলিশ।
SFI, AISA সহ ছাত্র-যুবদের বিহার বনধে অবরুদ্ধ একাধিক হাইওয়ে! মাঝরাস্তায় জ্বলছে টায়ার
রেলে নিয়োগের পরীক্ষায় বেনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ সপ্তাহের শুরু থেকেই উত্তপ্ত গোটা বিহার। আজ রাজ্যজুড়ে বনধের ডাক দিয়েছে ছাত্র সংগঠন।
রেলে নিয়োগের পরীক্ষায় বেনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ সপ্তাহের শুরু থেকেই উত্তপ্ত গোটা বিহার । আজ রাজ্যজুড়ে বনধের ডাক দিয়েছে ছাত্র সংগঠন। সেই বনধ ঘিরে সকাল থেকেই উত্তপ্ত আবহাওয়া। বনধ সমর্থকরা সকাল থেকেই বিভিন্ন রাস্তা, হাইওয়ে অবরোধ করেছে। একাধিক জায়গায় টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভেরও খবর পাওয়া গিয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই রেলে নিয়োগের পরীক্ষায় বেনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। রেলওয়ে নিয়োগ বোর্ডের ২০২১ সালের নন-টেকনিক্যাল পপুলার ক্যাটেগরির পরীক্ষার এখনও ফল প্রকাশ না হওয়ায় তারা বিক্ষোভ দেখানো শুরু করে। তবে বিক্ষোভ ভয়ঙ্কর আকার নেয় প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন। গয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জও করে পুলিশ।
রাজ্যজুড়ে হিংসা, বিশৃঙ্খলার ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবারই রেলওয়ে বোর্ডের তরফে আপাতত নন-টেকনিক্যাল পপুলার বিভাগ ও লেভেল-১ পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে পরীক্ষার্থীদের যাবতীয় বক্তব্য শোনার জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দুই পক্ষের বয়ান শোনার পর ওই কমিটি রেলমন্ত্রকের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে। অন্যদিকে, রেলমন্ত্রকের তরফে অপর একটি নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত চাকরিপ্রার্থীরা ভাঙচুর ও বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত, তারা রেলের চাকরি পাবেন না।
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ এফআইআর দায়ের করতেই অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সহ একাধিক ছাত্র সংগঠনের তরফে আজ বিহারজুড়ে বনধের ডাক দেওয়া হয়। এদিন সকাল থেকেই থমথমে পরিস্থিতি চোখে পড়ে রাজ্যজুড়ে। একাধিক সড়ক ও হাইওয়ে বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখায় ছাত্র ও পরীক্ষার্থীরা। জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিভিন্ন দোকান। টায়ার ও রেলমন্ত্রীর কুশপুতুল জ্বালিয়েও রাস্তা আটকে দেয় অবরোধকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যজুড়েই কড়া পুলিশি পাহারা মোতায়েন করা হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, তদন্তকারী কমিটি গঠন করে রেলের নিয়োগ উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন না হওয়া অবধি পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।
আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানিয়েছেন বিহারের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতন রাম মাঝিও বনধে সমর্থন জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় জনতা দল, কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া, সিপিআই(এম)-র তরফে যৌথ বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, “দেশের সবথেকে বেশি যুব সম্প্রদায় বিহারেই রয়েছে এবং এখানেই বেকারত্বের হারও সর্বাধিক। কেন্দ্র ও বিহার সরকার ছাত্রদের ঠকাচ্ছে। তারা ক্রমাগত চাকরির প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু চাকরির দাবিতে ছাত্ররা যখন রাস্তায় নামে, নীতীশ কুমারের সরকার তখন হাতে লাঠি তুলে নেয়।”
বিক্ষোভে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অপরাধে এখনও অবধি বিহারে ৫৫ জন ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। নাওয়াদাতে ৩২ জন, জেহানাবাদে ২২ জন, সীতামারহিতে ১৩ জন এবং গয়াতে ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সংঘর্ষ ও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার দায়ে একাধিক ব্যক্তির নামে মামলা রুজু করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদেরকে আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বীনী বৈষ্ণব।
We hate spam as much as you do