ইতিহাসের পাতায় সর্বভারতীয় হোলি উৎসবের উৎসগত উপাদান দুটি পাওয়া যায়। যথা একটি হল ভাগবত তথা স্কন্ধ পুরানের কাহিনী আর অপরটি হল শ্রীরাধাকৃষ্ণের অনন্ত প্রেমের কাহিনী । অন্যদিকে আমাদের বাঙালির দোলযাত্রারও দুটি পৃথক উৎসগত উপাদান পাওয়া যায়। যা হোলির উপাদানের থেকে আলাদা। যথা একটি হল শ্রীরাধা কৃষ্ণের প্রেমের বৈষ্ণবীয় উপাখ্যান ও অপরটি হল মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের আবির্ভাব সংক্রান্ত কাহিনী।
হোলি, দোল ও বসন্ত উৎসবের সূচনা, ইতিহাস ও ব্যক্তিগত অনুভূতি
সংযুক্তা দাস
25th march
হোলি, দোল ও বসন্ত উৎসব । নাম ভিন্ন হলেও তাদের অনুভূতি এক। রঙের আবহাওয়া, বন্ধুত্বের আমেজ আর প্রেমের উৎসব। ভারতীয় উপমহাদেশে হোলি একটি বিশেষ পরব ।ইংরেজি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে অথবা মার্চ মাসের শুরুতে এবং বাংলা ফাল্গুন- চৈত্র মাসে এই অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। একদিকে মধুমাস বসন্ত ও অপরদিকে তার বান্ধবী দোল একই সময়ে হাজির হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে তথা বাংলাদেশ ,পাকিস্তান ,নেপাল( ফাগু পূর্ণিমা) ,ভুটান এমনকি সুদূর অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশে বসতি হিন্দু ও পারিপার্শ্বিক অন্যান্য ধর্মীয় মানুষদের মধ্যেও এই অনুষ্ঠান পালনের প্রবণতা দেখা যায়। অঞ্চলভেদে এই উৎসবের নাম ভিন্ন হলেও তাদের বৈশিষ্ট্য ও প্রকাশভঙ্গি একই থাকে ।
আমাদের মাথায় মাঝে মাঝে একটা প্রশ্ন উঁকি দেয় -হোলি আর দোল যাত্রা কি আলাদা নাকি এক। সাধারণভাবে আমরা এটাই জানি দোলযাত্রা হল বাঙালির উৎসব আর হোলি হল সর্বভারতীয় উৎসব । ক্যালেন্ডারে একদিন আগে আর একদিন পিছনে এই তো তাদের পার্থক্য। তাছাড়া বৈশিষ্ট্য , মাধ্যম, প্রকৃতি, প্রকাশভঙ্গি এবং আধার তো প্রায় সবই এক। তবে তাদের পার্থক্যটা কোথায় ?
হোলি বা দোলযাত্রার আনন্দানুষ্ঠানে প্রকৃতিগত পার্থক্য না থাকলেও তারতম্য আছে তাদের সূচনা লগ্ন তথা ইতিহাসে।
হোলি হিন্দু সভ্যতার প্রাচীনতম একটি উৎসব । আর বাঙালির দোল যাত্রার উৎপত্তি অনেক পরে । আমাদের অন্যতম ঐতিহাসিক চরিত্র রাজা হর্ষবর্ধন, তাঁর রচিত ‘রত্নাবলী’ নাটকে এবং বিখ্যাত দার্শনিক তথা পর্যটক অলবিরুনি -এর রচনাতেও হোলি উৎসবের উল্লেখ পাওয়া যায় । যেখানে তিনি জানান যে তৎকালীন মুসলমান রাজা ও ব্যক্তিত্ববর্গরা এই উৎসব পালন করে থাকতেন। তবে তখন এই উৎসবটি ‘হোলিকা’ নামে পরিচিত ছিল।
ইতিহাসের পাতায় সর্বভারতীয় হোলি উৎসবের উৎসগত উপাদান দুটি পাওয়া যায়। যথা একটি হল ভাগবত তথা স্কন্ধ পুরানের কাহিনী আর অপরটি হল শ্রীরাধাকৃষ্ণের অনন্ত প্রেমের কাহিনী । অন্যদিকে আমাদের বাঙালির দোলযাত্রারও দুটি পৃথক উৎসগত উপাদান পাওয়া যায়। যা হোলির উপাদানের থেকে আলাদা। যথা একটি হল শ্রীরাধা কৃষ্ণের প্রেমের বৈষ্ণবীয় উপাখ্যান ও অপরটি হল মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের আবির্ভাব সংক্রান্ত কাহিনী।
সর্বভারতীয় হোলি উৎসবের উৎসগত প্রথম কাহিনী হল স্কন্দ পুরাণের পৌরাণিক কাহিনী । যেখানে রাজা হিরণ্যকশিপু ব্রহ্মার কাছ থেকে বরদান প্রাপ্ত হয়ে সমস্ত দেবতাদের দিক থেকে মুখ ফেরান । তবে তার পুত্র প্রহ্লাদ বিষ্ণু দেবতার পরম ভক্ত হওয়ায় সে পিতার অবাধ্য হয় এবং বিষ্ণুর প্রীতিতে অবিচল থাকে। তার ফলে প্রহ্লাদকে শাস্তি দেবার জন্য হিরন্যকশিপুকে সহায়তা করে তার বোন হোলিকা । হোলিকা অগ্নি দেবতার বরপ্রাপ্ত , আগুনে তার কোন ভয় নেই। তাই হোলিকা চক্রান্ত করে প্রহ্লাদকে শাস্তি দেবার উদ্দেশ্যে এক অগ্নিকুণ্ড তৈরি করেন। সেই অগ্নিকুণ্ডে প্রহ্লাদকে নিয়ে প্রবেশ করেন হোলিকা। নিজ অহংকারেই অগ্নিতে দগ্ধ হয় হোলিকা । আর বিষ্ণুর আশীর্বাদে বেঁচে যায় প্রহ্লাদ। মনে করা হয় এই হোলিকার দহনের দ্বারাই অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জয় থেকেই হোলির সূচনা । পূর্ণিমার আগের দিন ‘হোলিকা দহন’ তথা বাঙালির ভাষায় ‘ন্যাড়া পুড়িয়ে’’ পরের দিন ভারতবাসী হোলির উদযাপন করেন।
হোলি উৎসবের দ্বিতীয় কাহিনীটি হল শ্রীরাধা কৃষ্ণের অনন্ত প্রেম লীলা । শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে থাকাকালীন মামা কংস পুতনা রাক্ষসীরকে পাঠান শ্রীকৃষ্ণকে বধ করতে। বালক শ্রীকৃষ্ণ কে নিজের বিষময় দুগ্ধ পান করিয়ে পুতনা কৃষ্ণকে হত্যা করতে উদ্যত হন । অন্তর্যামী শ্রীকৃষ্ণ সেই বিষময় দুগ্ধ পান করবার সময় তার রক্তও পান করে ফেলে তাকে বধ করেন। ফলে শ্রীকৃষ্ণের সারা শরীর বিষময় হয়ে নীল হয়ে যায়। শ্রীরাধিকার রূপের কাছে নিজেকে ছোট মনে করেন। মা যশোদার কাছে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণ বলেন কিভাবে এই সমস্যার সমাধান হয়। তখন মা যশোদা তাকে উপদেশ দেন, কৃষ্ণের যে রঙে খুশি তিনি শ্রীরাধিকাকে সেই রঙে রাঙিয়ে দিতে পারেন।তবেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এই কথা শুনে শ্রীকৃষ্ণ আপ্লুত হয়ে শ্রীরাধিকা ও অন্যান্য ব্রজবালাদের নানা রঙে রাঙিয়ে দেন। এবং তারা অসীম ভালবাসার সাগরে মেতে ওঠেন। এরপর থেকেই সর্বভারতীয় হোলি উৎসবে এই দিন বৃন্দাবনবাসী ও কৃষ্ণ ভক্তবৃন্দ রঙের আবহে মেতে ওঠেন ও অন্যন্য প্রেমের সাগরে ভেসে বেড়ান।
এছাড়াও নানান জনে নানান ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তবে মূল বিষয় দুটি হলো হোলিকা দহন এবং রাধা কৃষ্ণের প্রেম লীলা । এই দুটির অদ্ভুত সমাপনত ঘটেছে কৃষ্ণ প্রেমীদের মধ্যে। শ্রীকৃষ্ণ ভক্তমন্ডলী শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণকে কেন্দ্র করে নানান ধরনের ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন এই দিন। অনুষ্ঠানের সূচনাতে তারা শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকাকে নানা রঙে রাঙিত করেন। তারপর সারাদিন চলে নাম কীর্তন, পালা কীর্তন, রাস - লীলা অনুষ্ঠান প্রভৃতি । এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বিশেষ আড়ম্বর লক্ষ্য করা যায় গোকুল, মথুরা, বৃন্দাবন সহ একাধিক ধামে ।
বাঙালির দোলযাত্রা এক হিন্দু বৈষ্ণবীয় উৎসব । দোলযাত্রাকেও উৎসগত ইতিহাসের দিক থেকে দুটি পৃথক দিকে ভাগ করা হয়েছে । যথা একটি হল শ্রীরাধা ও কৃষ্ণের প্রেমের বৈষ্ণবী উপাখ্যান এবং অপরটি হলো
সর্বভারতীয় হোলি উৎসবের উৎসগত প্রথম কাহিনী হল স্কন্দ পুরাণের পৌরাণিক কাহিনী । যেখানে রাজা হিরণ্যকশিপু ব্রহ্মার কাছ থেকে বরদান প্রাপ্ত হয়ে সমস্ত দেবতাদের দিক থেকে মুখ ফেরান । তবে তার পুত্র প্রহ্লাদ বিষ্ণু দেবতার পরম ভক্ত হওয়ায় সে পিতার অবাধ্য হয় এবং বিষ্ণুর প্রীতিতে অবিচল থাকে। তার ফলে প্রহ্লাদকে শাস্তি দেবার জন্য হিরন্যকশিপুকে সহায়তা করে তার বোন হোলিকা । হোলিকা অগ্নি দেবতার বরপ্রাপ্ত , আগুনে তার কোন ভয় নেই। তাই হোলিকা চক্রান্ত করে প্রহ্লাদকে শাস্তি দেবার উদ্দেশ্যে এক অগ্নিকুণ্ড তৈরি করেন। সেই অগ্নিকুণ্ডে প্রহ্লাদকে নিয়ে প্রবেশ করেন হোলিকা। নিজ অহংকারেই অগ্নিতে দগ্ধ হয় হোলিকা । আর বিষ্ণুর আশীর্বাদে বেঁচে যায় প্রহ্লাদ। মনে করা হয় এই হোলিকার দহনের দ্বারাই অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জয় থেকেই হোলির সূচনা । পূর্ণিমার আগের দিন ‘হোলিকা দহন’ তথা বাঙালির ভাষায় ‘ন্যাড়া পুড়িয়ে’’ পরের দিন ভারতবাসী হোলির উদযাপন করেন।
শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব সংক্রান্ত বিষয়।
বৈষ্ণব মতানুসারে ফাল্গুনী পূর্ণিমার দিন শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকা বৃন্দাবন কুঞ্জে দোলায় চড়েছিলেন ও প্রেমের রঙে রঞ্জিত হয়েছিলেন। বৃন্দাবনের গোপীগন তখন আনন্দে মেতে উঠে রঙের খেলায় মগ্ন হন। বৈষ্ণবরা মনে করেন এই দিন শ্রীকৃষ্ণ ও রাধিকা দোলায় দুলে ছিলেন বলেই এই দিনটিতে বৈষ্ণবীয় হিন্দুরা দোলযাত্রার প্রারম্ভ করেন ।
অপরদিকে দ্বিতীয় উপাদানটি হলো শ্রী চৈতন্যদেব । বাংলার দোল উৎসবকে তিনি এক অনন্য পর্যায়ে পর্যবসিত করেছিলেন । সমকালীন বিধ্বংসী পরিবেশে তিনি তার অসামান্য সৌরকান্তি দ্বারা সকলকে আকৃষ্ট করেছিলেন। সকলকে শ্রীকৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তির ছায়ায় আশ্রয় দেন। বঙ্গবাসিকে মাতিয়ে তুলেছিলেন ভক্তিলীলা রসে। এই মহাপুরুষ জন্মেছিলেন ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে নদীয়ার নবদ্বীপে ।তাই পরবর্তীকালে তার জন্ম তিথিতে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কৃষ্ণপ্রেমী বৈষ্ণবরা এমনকি বাঙালির আবালাবৃদ্ধবনিতা দোল উৎসবের আমেজে উত্তাল হয়ে ওঠে। যা ‘গৌরপূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত। বাঙালির দোলের সাথে শ্রীকৃষ্ণ প্রেম ও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সম্পর্ক অতি নিবিড়।
অর্থাৎ সর্বভারতীয় হোলি ও বাঙালির দোল যাত্রার মুখ্য উপাদান হল এক শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা ও রঙের উৎসব। একে অপরকে আনন্দ ও প্রেমের রঙে রাঙিত করা ।
অবশেষে আমরা সেই বিশ্বমানবের কথা বলবো যিনি তার অসামান্য ব্যক্তিত্ব দ্বারা দোল উৎসবের এক অনন্য রূপদান করেছেন। সেই শক্তিমান পুরুষ হলেন আমাদের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দোল উৎসবের ধর্মীয় দিক থেকে সম্পূর্ণ সরে এসে তার সাংস্কৃতিক দিকটিকে বিকশিত ও ব্যঞ্জাময় করে রঙ খেলার এক নতুন সংস্কৃতানুষ্ঠানের সূত্রপাত ঘটিয়েছেন। যার নাম ‘বসন্ত উৎসব’ । এই বসন্ত উৎসবের সূত্রপাত ঘটেছিল ১৯০৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট ছেলে সমীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে। শান্তিনিকেতনে এই দিনটি বহু সমারোহের সাথে উদযাপিত হয়। শান্তিনিকেতনের সমস্ত মানুষের দ্বারে ধাক্কা দেয় ফাগুনের শুষ্ক শীতল বাতাস। হাতছানি দিয়ে তাদের আহ্বান করে শান্তিনিকেতনের উদয়ন। মেথে উঠে সমস্ত বঙ্গবাসী এই উৎসবটিতে । বর্তমানে নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এই বসন্ত উৎসব খুব আন্তরিকতার সাথে বসন্তে আয়োজন করা হয়ে থাকে।
বসন্তে গাছে গাছে কচি কচি নতুন নতুন পাতা হয় । পুরনো পাতার মতো পুরনো সবকিছু ঝরে পড়ে ফুটে ওঠে নতুন বছরের আনন্দ। মধুময় প্রকৃতি জয়ধ্বনি নতুনত্বের । পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া গাছে গাছে রংয়ের বাহার দেখা যায়। তার সাথে সাথে মানুষের মনেও লাগে রঙের ছোঁয়া । কোকিলের ‘কুহু’ ধ্বনি জানান দেয় ধর
তলে বসন্ত এসেছে। শীতের বিদায় আর গরমের তান্ডবের মাঝে হালকা উষ্ণ শুষ্ক শীতল আবহাওয়া মানুষের হৃদয়কে রোমাঞ্চিত করে। ফাগুনের হাওয়া হাতছানি দিয়ে ডাক দেয়। প্রকৃতির সাথে সাথে মানুষ শুরু করে রঙ নিয়ে খেলা। মেতে ওঠে নাচে ,গানে ,আনন্দের বসন্ত উৎসবে।
ধর্ম ,বর্ণ ও জাতি নিরপেক্ষ এই দোলে মেতে ওঠে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশবাসী । তবে বর্তমানে ফাগুনের এই রঙ উড়ে যায় সুদূর প্রদেশেও। সেখানেও মানুষ আবিরে মাখামাখি করে , রংকে ভালোবাসে। মেতে ওঠে নানান কৃত্তানুষ্ঠানে ।
সকালে ঘুম থেকে উঠে শুভ্রবস্ত্র পরে ভগবানের পায়ে আবির দিয়ে তারপর বাড়ির বড়োদের আবির মাখানো হয়। তাদের আশীর্বাদ ও মিষ্টি সহযোগে একটা পূর্ণময় সকালের সূচনা হয়। তারপর হয় ছোটদের এবং বন্ধুদের সাথে মিশে হাসিখুশি, খুনসুটি রঙের খেলা । এই তো আমাদের দোল ।
তবে দোল কি সবার জন্যই সুখের ছোঁয়া, নাকি রঙ মাখা কোন হাতের পিছনে লুকিয়ে থাকে কারো কালো উদ্দেশ্য ? অবলা পশুদেরও সাথেও কি শুধু আনন্দই করা হয়? বয়স্করা পায় কি যথাযোগ্য সম্মান ? রঙ ও আবিরের বদলে টমেটো, ডিম, কাদা ও পাথরেও কি আনন্দ দেয় ? যে রং মাখতে চায় না তাকেও রঙ দেব। রঙ না মাখতে চাইলে বাইরে বেরিয়েছে কেন ? খেলবো হোলি আর রঙ দেবোনা তাই কখনো হয় ? রঙ খেলার তো আর কোনো বাধা নিয়ম নেই। যা খুশি আর যেভাবে খুশি খেললেই হল। আমি যেন ভালো করে আনন্দ করতে পারি সেটাই তো মূল উদ্দেশ্য। সত্যিই কি তাই ?
আমার জন্য অপরের কোনো ক্ষতি না হয় সেটাই কি আসল আনন্দ নয় ? নিজের একমুঠো ভালোবাসার রঙে অপরকে রাঙিয়ে দেওয়াও কি রং খেলা নয়। বড়োদের আশীর্বাদ , ছোটদের স্নেহ এবং বন্ধুত্বের শীতল বন্ধনও মানুষকে চরম প্রশান্তি দেয়। সবাই মিলে আমরা এবার খেলব ভালোবাসা ও স্নেহের খেলা। এইবারের দোল সবার জীবনে আসুক এক আনন্দঘন রঙিন দিবস।
বসন্ত উৎসব মানেই রঙ এবং আবিরের সহযোগে এক ঋতুরঙ্গ আনন্দানুষ্ঠান । ঋতুরাজ বসন্ত কে স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠান। যাকে উদ্দেশ্য করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন
‘আজই বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’ ।
তাই ‘ ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল লাগলো যে দোল
স্থলে জলে বনতলে লাগলো যে দোল
দ্বার খোল দ্বার খোল ।।’
বহুদিনের ক্লান্তি অবসাদ কে মিটিয়ে সবাই একসঙ্গে মিলে ঋতুরাজ বসন্তকে স্বাগত জানাবো। তার আগমনের গান গাইবো। সবাই মিলে দোলযাত্রায় ‘থাকবো না আর বন্ধ ঘরে’। সবাইকে জানাই রঙিন ও শুভ দোল পূর্ণিমার অশেষ শুভেচ্ছা।
We hate spam as much as you do