নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ২২ জন নিরাপত্তা রক্ষীর মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা ৩১। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে এক জন। মৃত্যুর ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলেও জানান হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। ছত্তিশগড়ের সুকমা-বীজপুর সীমান্তে মাওবাদী দমনে অভিযানে নেমেছিল সিআরপিএফ। সেখানেই বাহিনীকে লক্ষ্যে করে নির্বিচারে গুলি চালায় মাওবাদীরা।
ছত্তিশগড়ে মাওবাদী হামলায় নিহত ২২ জওয়ান
সুকমা বিজপুর বর্ডারে এনকাউন্টারে হত ১০ মাওবাদী। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩০-এরও বেশি।
ছত্তিশগড়ে মাওবাদী হামলা নিহত ২২ সিআরপিএফ জওয়ান আহতের সংখ্যা ৩১এক মাওনেত্রীর মৃত্যু
মাওবাদী হামলার ভয়ঙ্কর ছবি সামনে এল ছত্তিশগড়ের ডোনাগুডায়।
নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ২২ জন নিরাপত্তা রক্ষীর মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা ৩১। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে এক জন। মৃত্যুর ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলেও জানান হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। ছত্তিশগড়ের সুকমা-বীজপুর সীমান্তে মাওবাদী দমনে অভিযানে নেমেছিল সিআরপিএফ। সেখানেই বাহিনীকে লক্ষ্যে করে নির্বিচারে গুলি চালায় মাওবাদীরা।
গতকাল ছত্তিশগড়ের সুকমার বিজাপুরে নিরাপত্তা বাহিনী-মাওবাদী গুলির লড়াই হয়। তাতে নিহত হন ৫ জওয়ান। যার মধ্যে সিআরপিএফের ৩ জন এবং ডিস্ট্রিক্ট রিসার্ভ গার্ডের ২ জওয়ান রয়েছেন। ৫ জওয়ানের মধ্যে ২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় বলা হয়েছিল কমপক্ষে ১৫ জন জওয়ানের কোনও খোঁজ ছিলনা । তাঁদের খোঁজে তল্লাশি অভিযানে নামা হয়েছিল। আহত ৩০ জওয়ানের মধ্যে ২৩ জনকে বিজাপুর হাসপাতালে এবং ৭ জনকে রায়পুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে ছত্তিশগড় পুলিশ জানিয়েছিল। তারা জানিয়েছে, এনকাউন্টার স্পট থেকে এক মহিলা মাওবাদীর মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়েছিল। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে এদিন সংঘর্ষের পর মাওবাদীরা নিরাপত্তার রক্ষীদের কাছ থেকে ২ডজনেরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র লুঠ করেছে।
সংঘর্ষ-স্থল জোনগুডার বনের ভিতর সংঘর্ষ বেধে ছিল। এই অরণ্যাঞ্চলটি বাস্তার ও বিজাপুর ও সুকরাম জেলার সীমান্তে অবস্থিত। এখানেই মাওবাদীদের একটি শক্ত ঘাঁটি রয়েছে।
শুক্রবার রাতে সুরক্ষা বাহিনীর পৃথক দল দক্ষিণ বস্তারের বনভূমিতে মাওবিরোধী অভিযান শুরু করে। মূলত মাওবাদী নেতা হিদমার গোপন সূত্রে খবর পেয়েই মাওবাদীদের ঘাঁটিতে আক্রমণ করে সিআরপিএফ। পাঁচটি দিক দিয়ে অভিযান শুরু হয়েছিল। আরমের, উসুর, পামেদ মিনপা ও নারসপুরম।
তারমেরের দিক থেকেই আক্রমণ শুরু করা হয়। মাওবাদীদের গেরিলা বাহিনী নিরাপত্তা রক্ষীদের লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি চালায়। বেশ কয়েক ঘণ্টা চলে গুলির লড়াই। সূত্রের খবর হিদমা থাকার জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল মাওবাদীরা। তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থাটি প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমান সংঘর্ষের সময়ও হিমদা আশপাশেই উপস্থিত ছিল। আর প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছিল গেরিলা বাহিনীকে।
ছত্তিশগড়ের ভয়াবহ মাওবাদী হামলার জন্য অসমে ভোট প্রচার অসমাপ্ত রেখেই দিল্লি ফিরে আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লিতে পৌঁছেই তিনি পুরোবিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নেন। তিনি বলেন মাওবাদী হামলায় দুই পক্ষেরেই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহত সিআরপিএফ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
ছবি - সংগৃহীত ANI
We hate spam as much as you do