Tranding

08:32 PM - 04 Feb 2026

Home / Politics / চটকলের অচলাবস্থা কাটানোর দাবিতে ডেপুটেশনে ২১ ইউনিয়ন

চটকলের অচলাবস্থা কাটানোর দাবিতে ডেপুটেশনে ২১ ইউনিয়ন

এদিন নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ষড়যন্ত্র করে অতিরিক্ত নিয়মবহির্ভূত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টি চটকল চলছে, যারা কোন শ্রমিনীতি মানছে না। রাজ্যে ৬২টি মূল চটকলের সাথে মোট ১৫০ টি চটকল এসে দাঁড়িয়েছে। অথচ একথা সবাই জানেন যে আজ অবধি মজদুরদের সমস্যার জন্য একদিনের জন্যও কোনও চটকল কখনও বন্ধ হয়নি। কোনও শ্রমিকই কখনো চাইবেন না তাঁর রোজগারের পথ বন্ধ করে দিতে। এসবই সরকারের দূরভিসন্ধির অংশমাত্র। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই চটকলগুলিকেও চালু করে সেখানে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করতে হবে সরকারকে।

চটকলের অচলাবস্থা কাটানোর দাবিতে ডেপুটেশনে ২১ ইউনিয়ন

চটকলের অচলাবস্থা কাটানোর দাবিতে ডেপুটেশনে ২১ ইউনিয়ন
 

 05 Dec 2024

গত দশ মাস আগে সমাপ্ত ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়নের দাবী , স্থায়ী কর্মী নিয়োগ, কর্মীদের অন্যায় ছাঁটাইয়ের বিচার সহ চটকল শ্রমিকদের কয়েক দফা দাবি নিরসনে বিক্ষোভ, অবরোধ সহ শ্রমমন্ত্রীর কাছে ডেপুটেশন জমা দিল বেঙ্গল চটকল মজদুর ইউনিয়ন সহ ২১টি ট্রেড ইউনিয়ন। বৃহস্পতিবার বাবুঘাটের সামনে স্ট্র্যান্ড রোডে জমায়েতের পর নব মহাকরণ ভবনে শ্রম দপ্তরে ডেপুটেশন দিতে যায় ২১টি সংগঠন থেকে মোট ১১ জন প্রতিনিধির একটি দল। সমাবেশে প্রথমে বক্তব্য চলতে থাকে। চলতে চলতে খবর আসে শ্রমমন্ত্রী দপ্তরে নেই। তখন শ্রমিকরা নিউ সেক্রেটারিয়েটের মেইন গেটের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। মুহূর্তে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। 
তারপর ভিতর থেকে  ডেপুটেশনে গ্রহনের জন‍্য ডাক দেওয়া হয়। প্রতিনিধিদল যান। 

প্রতিনিধিদলে ছিলেন বেঙ্গল চটকল মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মঙ্গল বেনবংশী, গার্গী চ‍্যাটার্জী (সিআইটিইউ), আইএনটিইউসি’র মাষ্টার নিজাম , টিইউসিসি দেবদাস চ্যাটার্জি, বিএমএস’র বিনোদ সিংহ, ইউটিইউসি’র মুজিবর রহমান, এআইসিসিটিইউ’র নব্যেন্দু দাশগুপ্ত সহ অন‍্যান‍্য নেতৃত্ব। নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হবে  আগামী সাত দিনের মধ্যে। 

 
এদিন শ্রম দপ্তর অভিযানে বাবুঘাট থেকে মিছিল করে নব মহাকরণের সামনে এসে বিক্ষোভসভা করেন ২১টি ট্রেড ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। এই সভায় বক্তব্য রাখেন অনাদি সাহু ছাড়াও বিসিএমইউ নেতা রঞ্জিত মন্ডল , আইএনটিইউসি নেতা মাস্টার নিজাম, এআইটিইউসি’র দেবাশিস দত্ত, এআইসিসিটিইউ’র নবেন্দু চক্রবর্তী সহ নেতৃবৃন্দ। 

 
নেতৃবৃন্দ এদিন বলেন, বাংলা তথা সারা দেশে চটশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে শ্রমিকদের দাবিগুলি অবিলম্বে পূরণ করতেই হবে সরকারকে। গত জানুয়ারিতে ধরে চটশিল্পে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে । বর্তমানে চটশিল্পে সেই চুক্তি মানে হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকার চটকলে কোন অর্ডার  দিচ্ছে না বলে অভিযোগ ।  অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের পিএফ, ইএসআই সহ বিভিন্ন খাতের কোটি কোটি টাকা আজও বকেয়া রেয়েছে। আমাদের দাবি, অবিলম্বে  চটশিল্পের ৯০ শতাংশ কর্মীকে স্থায়ী পদ দিতে হবে সরকারকে। কর্মচারীদের দক্ষতা অনুযায়ী গ্রেডেশন এবং স্কেল সিস্টেম চালু করতে হবে সরকারকে। 

 
এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতির আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে কর্মীদের ডিএ প্রতি পয়েন্ট ঠিক মত দিতে হবে প্রশাসনকে। 
নেতৃবৃন্দ বলেন, ইতিমধ্যে চটশিল্প থেকে অভূতপূর্ব নিয়মে কর্মী ছাঁটাই করতে শুরু করেছে সরকার। বিভিন্ন অজুহাতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই গেটের বাইরে করে দেওয়া হচ্ছে চটশিল্পের শ্রমিকদের। মালিকের কোনও অধিকার নেই এইরকম বেআইনিভাবে কর্মীদের বরখাস্ত করার। মন্ত্রীদের কাছে আমরা দাবি জানিয়েছি এই ঘটনাগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত মালিকদের শাস্তি দিতে হবে অবিলম্বে। রাজ্য সরকারের উচিত, এই দাবিগুলি দিল্লির সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং এর পক্ষে সুপারিশ করা। পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে যেখানে চটশিল্প অন্যতম প্রধান একটি শিল্প, সেখানকার সরকার যদি চট শ্রমিকদের পাশে না দাঁড়ায় তাহলে তার চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই।
এই সরকারের সময় মালিকপক্ষ যথেচ্ছাচার চালাচ্ছে। কোথাও সপ্তাহে তিন দিন কোথাও চারদিন কোথাও পাঁচদিন দুই সিফ্ট চলছে। প্রতিবাদ করলেই গেট বাহারের ঘটনা ঘটছে।
 

এদিন নেতৃবৃন্দ আরও বলেন,  ষড়যন্ত্র করে অতিরিক্ত নিয়মবহির্ভূত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টি চটকল চলছে, যারা কোন শ্রমিনীতি মানছে না। রাজ্যে ৬২টি মূল চটকলের সাথে মোট ১৫০ টি চটকল এসে দাঁড়িয়েছে। অথচ একথা সবাই জানেন যে আজ অবধি মজদুরদের সমস্যার জন্য একদিনের জন্যও কোনও চটকল কখনও বন্ধ হয়নি। কোনও শ্রমিকই কখনো চাইবেন না তাঁর রোজগারের পথ বন্ধ করে দিতে। এসবই সরকারের দূরভিসন্ধির অংশমাত্র। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই চটকলগুলিকেও চালু করে সেখানে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ করতে হবে সরকারকে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do