Tranding

02:13 AM - 14 Mar 2026

Home / Politics / ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মী ধর্মঘটে ভালোই সাড়ায় স্কুল, আক্রান্ত কর্মীরা

ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মী ধর্মঘটে ভালোই সাড়ায় স্কুল, আক্রান্ত কর্মীরা

এপিডিআর প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, বিভিন্ন অফিসে তৃণমূলের সমর্থকেরা বাইরের লোকজন নিয়ে ধর্মঘটীদের উপর চড়াও হয়েছেন। কলকাতায় খাদ্যভবনের সামনে কিছু ধর্মঘটী স্লোগান দেন। উত্তরবঙ্গে ডুয়ার্স কন্যার সামনেও প্ল্যাকার্ড হাতে ধর্মঘটীদের দেখা গিয়েছে। কসবা ডিআই অফিসের গেটের সামনে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সদস্যেরা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দাবি না মানা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ডিএ-র দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেয় কলকাতা হাই কোর্টের সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলিও। শুক্রবার সকালেই হাই কোর্টের সামনে সংগঠনের সদস্যেরা হাজির হয়ে বিক্ষোভ দেখান।

ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মী ধর্মঘটে ভালোই সাড়ায় স্কুল, আক্রান্ত কর্মীরা

ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মী ধর্মঘটে ভালোই সাড়ায় স্কুল, আক্রান্ত কর্মীরা

১৩ মার্চ ২০২৬ 

বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) দাবিতে শুক্রবার রাজ্যের সরকারি কর্মী এবং শিক্ষকদের সংগঠনগুলির একাংশ একযোগে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। রাজ্য জুড়ে সরকারি অফিসগুলিতে সর্বতোভাবে সেই ধর্মঘটের প্রভাব না পড়লেও আংশিক সাড়া পড়েছে। মূলত সচলই ছিল অধিকাংশ অফিস। যদিও যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ দাবি করেছেন, রাজ্যে এই ধর্মঘট সফল। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ— স্কুলগুলিতে ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘স্কুলে স্কুলে পিকেটিং করে অভিভাবকদের ধর্মঘটের কারণ সম্পর্কে জানানো হয়েছে। তাঁরা বুঝেছেন। তার পর পড়ুয়াদের নিয়ে চলে গিয়েছেন।’’ তৃণমূলের রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক পাল্টা দাবি করেন, ‘‘রাজ্য সরকারি কর্মীরা ধর্মঘট ব্যর্থ করে ৯৫ -১০০ শতাংশ হাজিরা দিয়েছেন ।’’


এপিডিআর প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, বিভিন্ন অফিসে তৃণমূলের সমর্থকেরা বাইরের লোকজন নিয়ে ধর্মঘটীদের উপর চড়াও হয়েছেন। কলকাতায় খাদ্যভবনের সামনে কিছু ধর্মঘটী স্লোগান দেন। উত্তরবঙ্গে ডুয়ার্স কন্যার সামনেও প্ল্যাকার্ড হাতে ধর্মঘটীদের দেখা গিয়েছে। কসবা ডিআই অফিসের গেটের সামনে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সদস্যেরা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দাবি না মানা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ডিএ-র দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেয় কলকাতা হাই কোর্টের সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলিও। শুক্রবার সকালেই হাই কোর্টের সামনে সংগঠনের সদস্যেরা হাজির হয়ে বিক্ষোভ দেখান।


জেলাগুলিতেও স্কুল এবং সরকারি দফতরের কোথাও কোথাও সামান্য প্রভাব পড়েছে। তবে ধর্মঘটীদের দাবি, জেলাতেও ব্যাপক সাড়া মিলেছে। কাঁথিতে সরকারি দফতরের সামনে থেকে ধর্মঘটীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। যৌথ মঞ্চের ডাকা ধর্মঘটের সমর্থনে শুক্রবার সকাল থেকে বাঁকুড়ার জেলাশাসকের দফতর-সহ বিভিন্ন দফতরের মূল গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান ধর্মঘটীরা। দফতর খোলার আগে থেকেই ধর্মঘটীরা বাঁকুড়ার জেলাশাসকের দফতরের মূল গেট ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। জেলাশাসকের দফতরে আসা কর্মীদের কাছে হাতজোড় করে কাজে যোগ না দেওয়ার অনুরোধ জানান ধর্মঘটীরা। একই ছবি দেখা যায় বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসকের দফতরেও। ধর্মঘটী শিক্ষক শিক্ষিকাদের একাংশ এ দিন নিজেদের দাবির সমর্থনে বাঁকুড়া শহরে মিছিল করে হাজির হন জেলা স্কুল পরিদর্শকের দফতর ও জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদে। বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ ভবনের মূল গেট বন্ধ করে তার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ দেখান ধর্মঘটী শিক্ষকেরা। হুগলিতে রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির মিছিল হয়। ধর্মঘটের সমর্থনে চুঁচুড়া অফিসপাড়ায় মিছিল করে কো-অর্ডিনেশন কমিটি।

প্রসঙ্গত, ৫ মার্চ মহার্ঘ ভাতার পুরনো বকেয়া নিয়ে মামলার রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। কিন্তু রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা আবেদন করে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় চেয়েছে। রাজ্য সরকারের সেই অবস্থানের বিরুদ্ধে শুক্রবার একাধিক রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষক সংগঠন একযোগে ধর্মঘটের ডাক দেয়।

ডিএ’র দাবিতে সরকারি কর্মচারিদের ধর্মঘট ভাঙতে সক্রিয় ছিল রাজ্য প্রশাসন।  গ্রেপ্তার করা হয়েছে ধর্মঘটীদের।

 পুলিশ লাঠিচার্জ করেন ধর্মঘটের সমর্থকদের ওপর। ১৫ জনকে আটক করে কাঁথি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই ধর্মঘটের সমর্থনে চলছিল পিকেটিং। মিন ভবনের কয়েকজন কর্মচারী সকালে অফিসে এসেছিলেন, ধর্মঘটীদের আবেদনে তারা সাড়া দিয়ে তাদের সঙ্গেই অবস্থানে যোগ দেন তারা। পরবর্তীকালে তিনজন আধিকার দুপুর বারোটার সময় এসে অফিসে ঢোকার জন্য ঠেলাঠেলি করতে শুরু করেন এবং দেখে নেওয়া হুমকি দেয়। ফলে সাউটিং স্লোগান এবং উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কিছু পরে পুলিশ এসে আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ করে। 

অন্যদিকে রাজ্য সরকারী শ্রমিক কর্মচারী শিক্ষকদের যুক্ত মঞ্চ ও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ডাকে ধর্মঘট ঘিরে উত্তেজনা সিউড়ি জেলাশাসকের উত্তেজনা ছড়ায়। শাসকদলের কর্মচারী সংঘটনের নেতাদের সাথে বচসা শুরু হয়। শাসকদলের কর্মচারী সংগঠনের নেতারা ধর্মঘটী মহিলাদের শারিরীক আক্রমন করেছে এই অভিযোগে তুলে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে তুমুল বিক্ষোভে সামিল হন ধর্মঘটীরা। ধর্মঘটে সামিল সর্বস্তরের কর্মচারীরা জেলাশাসকের দপ্তরের মূল প্রবেশদার অবরুদ্ধ করে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এসে জেলাশাসকের দপ্তরের মূল প্রবেশদ্বার অবরুদ্ধ করে দেন। পুলিশের সাথেও বিতন্ডা হয় ধর্মঘটীদের। দীর্ঘ অবস্থান বলে বিক্ষোভের পর কর্মচারী শিক্ষকরা সুদীর্ঘ মিছিল সংঘটিত করেন সিউড়ি শহরজুড়ে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do