এর আগে মুলতুবির জেরে ২০১৪ সাল থেকে মাত্র দুটি অধিবেশনে সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয়েছে। ২০২১ সালে মৌসম অধিবেশনে ৭৮ ঘণ্টা ও ২০২৩ সালের বাজেট অধিবেশনে ৯৬ ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছিল।
বিরোধীদের বিক্ষোভে সংসদ সর্বোচ্চ মুলতুবি ৬৫ ঘন্টা শীতকালীন অধিবেশনে
Sunday, December 22, 2024,
বিরোধীদের তুমুল হইহট্টগোল, বারবার মুলতুবি (Adjournment) ও ধাক্কাধাক্কির তরজা দিয়ে শেষ হয়েছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। তবে অধিবেশনে কাজের কাজ হয়নি বললেই চলে। পরিসংখ্যান বলছে, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের (NDA) দশ বছরের শাসনকালে সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয়েছে ২০২৪ সালের শীতকালীন অধিবেশনেই।
সূত্রের খবর, চলতি বছরের সর্বশেষ তথা শীতকালীন অধিবেশন ৬৫ ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছে। আলোচনার সময় কমে দাঁড়ায় ৬২ ঘণ্টা। যা প্রায় নির্ধারিত সময়ের ৫২ শতাংশ। লোকসভা ভোটের পর বাজেট অধিবেশনে যা ছিল ১৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি বছরের দ্বিতীয় অধিবেশনে আলোচনা হয়েছে ১১৫ ঘণ্টা। ২০১৪ সাল থেকে মাত্র ৮টি এরকম অধিবেশন হয়েছে যেখানে আলোচনার থেকে সময় নষ্ট বেশি হয়েছে।
একই চিত্র রাজ্যসভাতেও। নির্ধারিত সময়ের মাত্র ৩৯ শতাংশ তথা ৪৪ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে রাজ্যসভায়। অথচ গত অধিবেশনে ১১২ শতাংশ অর্থাৎ ৯৩ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে রাজ্যসভায়। ২০২৩ সালের বাজেট অধিবেশনের পর ফের শীতকালীন অধিবেশনে এত সময় নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ। সংবিধানের ৭৫ তম পূর্তি উপলক্ষ্যে সংসদের দুই কক্ষেই আলোচনার সিংহভাগ জুড়ে ছিল সংবিধান বিতর্ক।
চলতি বছরে বাকি অধিবেশনগুলির তুলনায় লোকসভায় শীতকালীন অধিবেশনে বেশিসংখ্যক বার বসেছেন (Sitting) সাংসদরা। ২০ বার লোকসভায় বসেছেন সাংসদরা। কিন্তু বারবার মুলতুবির জেরে ৬৫ ঘণ্টা সময় নষ্ট (Time lost) হয়েছে লোকসভায়।
এর আগে মুলতুবির জেরে ২০১৪ সাল থেকে মাত্র দুটি অধিবেশনে সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয়েছে। ২০২১ সালে মৌসম অধিবেশনে ৭৮ ঘণ্টা ও ২০২৩ সালের বাজেট অধিবেশনে ৯৬ ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়েছিল।
একইসঙ্গে বিল পাসের নিরিখেও পিছিয়ে গত শীতকালীন অধিবেশন। মোট পাঁচটি বিল পেশ করা হয়েছিল লোকসভায়। যার মধ্যে ৪টি বিল পাস হয়েছে। গত পাঁচ বছরে যা সর্বনিম্ন। যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে 'এক দেশ, এক ভোট' সংক্রান্ত ২টি বিল। ওয়াকফ সংশোধনী বিল খতিয়ে দেখবে সংসদীয় প্যানেল। পরবর্তী অধিবেশনে তা পেশ করা হবে। তবে ২০২৩ সালের বিশেষ অধিবেশনে কেবলমাত্র নারী সংরক্ষণ বিল পাস করা হয়েছিল।
মূলত সংবিধান নিয়ে বিতর্কে গত শীতকালীন অধিবেশনে বারবার উত্তপ্ত হয় লোকসভা ও রাজ্যসভা। বিরোধীদের হইহট্টগোলে বারবার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে গিয়েছিল। সংসদের ভিতরে ও বাইরে আদানি ইস্যুতে সুর চড়িয়েছিল কংগ্রেস। অথচ কর্মসংস্থান, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তেমন সুরই চড়াতে পারেনি বলে অভিযোগ ইন্ডির অন্যান্য দলগুলির।
সবশেষে যোগ হয় আম্বেদকর বিতর্ক। অমিত শাহের বিতর্কিত মন্তব্যের পর একযোগে আক্রমণ শানান বিরোধীরা। সংসদে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন সাংসদরা। দুই বিজেপি সাংসদকে ধাক্কা দিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। বিজেপি সাংসদদে হেনস্থারও অভিযোগ করা হয়। শেষে রাহুলের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশে এফআইআর পর্যন্ত দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
We hate spam as much as you do