Tranding

10:24 PM - 04 Feb 2026

Home / Politics / উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের খরচ তুলতে বিশ্বভারতীর ছাত্র-ছাত্রীদের বিকল্প পৌষমেলায় স্টল

উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের খরচ তুলতে বিশ্বভারতীর ছাত্র-ছাত্রীদের বিকল্প পৌষমেলায় স্টল

এই বিকল্প মেলাতেই উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করতে অর্থ সংগ্রহের জন্য বিকল্প পৌষমেলায় স্টল করেছে বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা (Stall Visva Bharati Student) ৷ এই স্টলে বিক্রির লভ্যাংশ উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে খরচ করা হবে ৷ বিশ্বভারতীর কলাভবন, শিল্প সদন-সহ অন্যান্য ভবনের পড়ুয়াদের তৈরি শিল্প সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে এই স্টলগুলিতে ৷ ২০২০ সালের মত এবারও হয়নি শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা ৷ এই পৌষমেলার উপর নির্ভর করে বোলপুর-শান্তিনিকেতন-সহ সংলগ্ন এলাকার আর্থসামাজিক ব্যবস্থা।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের খরচ তুলতে বিশ্বভারতীর ছাত্র-ছাত্রীদের বিকল্প পৌষমেলায় স্টল

উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের খরচ তুলতে বিশ্বভারতীর ছাত্র-ছাত্রীদের বিকল্প পৌষমেলায় স্টল

 

উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের খরচ সামাল দিতে বিকল্প পৌষমেলায় স্টল করেছে বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা ৷ স্টলে পড়ুয়াদের হাতে তৈরি সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে ৷


এবারও হচ্ছে না রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজের হাতে প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনে প্রতিবছরই হয় পৌষমেলা। গতবছর করোনার কারণে স্থগিত ছিল এই ঐতিহ্যবাহী মেলা। এবছরও আয়োজন করা হয়নি পৌষ মেলার। যদিও এবছর করোনা কোনপ্রকার সেভাবে প্রকোপ ছিল না, তবুও কিছু কারণবশত আয়োজন করা সম্ভব হয়নি এই মেলার।

 

প্রতিবছর ৭ই পৌষ ঐতিহাসিক ছাতিমতলায় উপাসনার মাধ্যমে পৌষ মেলার সূচনা করা হয়। সেই চিরাচরিত প্রথা মেনে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সহ উপাচার্য উপস্থিত হন ছাতিম তলায়। পৌষমেলা সূচনার পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে এবছর পৌষমেলা না হওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে দুষলেন তিনি। তিনি বলেন, “পৌষমেলা এবছর করার জন্যে আমরা প্রথমে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি পাঠাই। তারপর রাজ্য স্বাস্থ্যসচিবকে আমরা অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠাই। পরবর্তীতে তিনবার অবগত করলেও কোন উত্তর মেলেনি রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। তাই আমরা এবছর মেলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”


 
এবছর পৌষমেলা না হওয়ায় দারুণ ভাবে হতাশ বিশ্বভারতীর শিক্ষার্থী সহ ভ্রমণ পিপাসু রবীন্দ্র প্রেমী মানুষজন। তাদের একাংশের বক্তব্য অনুযায়ী, এভাবে বছরের পর বছর মেলা বন্ধ থাকলে রবীন্দ্রনাথের ঐতিহ্য অনেকাংশে ভাটা পড়বে।

 

বিশেষভাবে উল্লেখ্য এবছর পৌষমেলা না হলেও, বোলপুর ডাকবাংলো মাঠে বিকল্প মেলার আয়োজন করা হয়েছে চারদিনব্যাপী। এই মেলাটি ৭ই পৌষ শুরু হয়েছে শেষ হবে ১১ই পৌষ।


এই বিকল্প মেলাতেই উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করতে অর্থ সংগ্রহের জন্য বিকল্প পৌষমেলায় স্টল করেছে বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা (Stall Visva Bharati Student) ৷ এই স্টলে বিক্রির লভ্যাংশ উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে খরচ করা হবে ৷ বিশ্বভারতীর কলাভবন, শিল্প সদন-সহ অন্যান্য ভবনের পড়ুয়াদের তৈরি শিল্প সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে এই স্টলগুলিতে ৷ ২০২০ সালের মত এবারও হয়নি শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা ৷ এই পৌষমেলার উপর নির্ভর করে বোলপুর-শান্তিনিকেতন-সহ সংলগ্ন এলাকার আর্থসামাজিক ব্যবস্থা। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ পৌষমেলা না করায় বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ বোলপুর ডাকবাংলো মাঠে বিকল্প পৌষমেলার আয়োজন করে। সহযোগিতা করেছে রাজ্য সরকার।

 

এই মেলার সূচনা করেছেন ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুর-সহ বিশ্বভারতীর প্রাক্তন দুই উপাচার্য। ২০১৯ সাল থেকে বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর একাধিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্দোলন চলছে। সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে এখনও। বিকল্প পৌষমেলায় বিশ্বভারতীর বাম সমর্থিত পড়ুয়ারা একটি স্টল করেছে ৷ সেখানে পাওয়া যাচ্ছে কলাভবন, শিল্প সদন-সহ বিভিন্ন ভবনের পড়ুয়াদের তৈরি শিল্প সামগ্রী। শৈল্পিক ক্যালেন্ডার, গ্রিটিংস কার্ড, কানের দুল, ব্যাগ, আঁকা ছবি, ওড়না, চাদর প্রভৃতি। স্টলে লাগানো একটি পোস্টারে লেখা রয়েছে, বিশ্বভারতীতে গৈরিকিকরণের প্রতিবাদ ও উপাচার্যের বিরুদ্ধে চলতে থাকা ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে ছাত্রছাত্রীদের কাজ কিনুন স্টল থেকে।

 

বিকল্প পৌষমেলায় স্টল বিশ্বভারতীর পড়ুয়াদেরউপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার খরচ তুলতে মেলায় স্টল করেছেন বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারা। আগামিদিনে যে ফের পড়ুয়ারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামছেন, সেই বার্তাও এই স্টল থেকেই মিলেছে ৷ পড়ুয়াদের মধ্যে শুভ নাথ ও সোমনাথ সৌ বলেন, " আমাদের স্টলে ছাত্রছাত্রীদের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। যা লাভ হবে সেই টাকা আগামিদিনে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যেতে কাজে লাগাব ৷ মূলত সেই উদ্দেশ্যেই এই স্টল করেছি। আন্দোলন চালাতে একটা বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয় ৷ সেটা কিছুটা মিটবে।"

তবে গতদিন উপাচার্যের বক্তব্য বিতর্ক ছড়িয়েছে বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে। এদিন বক্তব্যের মাঝে উপাচার্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের ভূয়সী প্রসংশা করেন। যা নিয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী ছাতিম তলায় দাঁড়িয়ে এভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখতে পারে না উপাচার্য।

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do