Tranding

08:37 PM - 04 Feb 2026

Home / National / বাজেট অধিবেশন শুরুর দিন কিষান মোর্চার বিশ্বাসঘাতকতা দিবস পালন

বাজেট অধিবেশন শুরুর দিন কিষান মোর্চার বিশ্বাসঘাতকতা দিবস পালন

ধর্মতলার ওই সভায় ভাষণ দেন কার্তিক পাল, অনাদি সাহু, সমীর পুততুণ্ড, হরিপদ বিশ্বাস, হাফিজ আলি সাইরানি, জয়তু দেশমুখ প্রমুখ। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার কথা দিয়ে কথা রাখেনি। লখিমপুর খেরির নৃশংস ঘটনার পরেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনিকে বরখাস্ত করা হয়নি। উল্টে তাঁকে উত্তরপ্রদেশের ভোটের প্রচারে ব্যবহার করছে বিজেপি। মোর্চার দাবি ছিল, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক আন্দোলনের নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

বাজেট অধিবেশন শুরুর দিন কিষান মোর্চার বিশ্বাসঘাতকতা দিবস পালন

বাজেট অধিবেশন শুরুর দিন কিষান মোর্চার বিশ্বাসঘাতকতা দিবস পালন

 

সোমবার থেকে কৃষক আন্দোলনের নতুন পর্যায় শুরু হল বলে ঘোষণা করলেন কৃষক নেতারা। কৃষি আইন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণার পরে কৃষকদের কোনও দাবি মানা হয়নি। এই অভিযোগে এদিন দেশজুড়ে সংযুক্ত কিসান মোর্চা বিরোধ দিবস পালন করে। কলকাতায় পালিত হয় বিশ্বাসঘাতকতা দিবস। ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ২০টি কৃষক সংগঠনের জমায়েতে নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিশ্রুতি রাখেনি। তাই সোমবার থেকে সারা দেশে নতুন পর্যায় আন্দোলন শুরু হল।

 

ধর্মতলার ওই সভায় ভাষণ দেন কার্তিক পাল, অনাদি সাহু, সমীর পুততুণ্ড, হরিপদ বিশ্বাস, হাফিজ আলি সাইরানি, জয়তু দেশমুখ প্রমুখ। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার কথা দিয়ে কথা রাখেনি। লখিমপুর খেরির নৃশংস ঘটনার পরেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনিকে বরখাস্ত করা হয়নি। উল্টে তাঁকে উত্তরপ্রদেশের ভোটের প্রচারে ব্যবহার করছে বিজেপি। মোর্চার দাবি ছিল, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক আন্দোলনের নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কৃষক নেতাদের অভিযোগ, আজ পর্যন্ত ওইসব দাবি নিয়ে কেন্দ্রের মুখে কোনও কথা শোনা যায়নি।

বক্তারা বলেন, পাঁচ রাজ্যে ভোট। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে কৃষকদের জন্য মেকি চোখের জল ফেলছেন। যতদিন না সমস্ত দাবি পূরণ হচ্ছে, ততদিন আন্দোলন চলবে। আগামিদিনে প্রতিবাদ আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার নেবে। কেন্দ্রীয় সরকারকে বিশ্বাসঘাতকতার জবাব দিতেই হবে। কৃষক নেতারা বলেন, এই আন্দোলন আর শুধু কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তা ছড়িয়ে গেছে সমাজের সর্বস্তরের সংগ্রামী মানুষের মধ্যে। কৃষক আন্দোলন প্রমাণ করে দিয়েছে, সবাই একজোট হলে সরকারকে নতিস্বীকার করানো যায়।

 

গত একবছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষক আন্দোলন চলছে। দাবি ছিল তিন কৃষি আইন বাতিলের। আইন বাতিল করে শীতকালীন অধিবেশনে কৃষকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে কেন্দ্র। তবে এখনও মোদী সরকারের প্রতি নরম হয়নি কৃষকরা। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বাজেট অধিবেশন। 


এই দিনে ত্রিপুরাতে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে নয়া কর্মসূচী পালন করে সংযুক্ত কিষান মোর্চা ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি। সোমবার আগরতলা মেলা মাঠে অবস্থিত কৃষক সভার রাজ্য দফতরে পালন করা হয় 'বিশ্বাসঘাতকতা দিবস'। এদিনের কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম দলের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী, বামনেতা অঘোর দেব বর্মা, রাধাচরণ দেব বর্মা সারা ভারত কিষান সভার রাজ্য সম্পাদক পবিত্র কর। রাজ্য সম্পাদক মোদী সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, 'কেন্দ্রের জঙ্গল রাজত্বে প্রায় ১ লক্ষের বেশি কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। এক বছরের আন্দোলনে ৭১৬ জন কৃষক শহীদ হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার জন্য যে সকল কৃষকদের প্রাণ গিয়েছে তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।'

.
উল্লেখ্য, কৃষি আইন বাতিল করার পর কেন্দ্র তাদের প্রতিশ্রুতির কোনোটিই পূরণ করেনি। প্রত্যেক কৃষকের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে ৩১ জানুয়ারি বিশ্বাসঘতকতা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আজ থেকেই শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় বাজেট অধিবেশন। কৃষক আন্দোলন সহ আকাধিক বিষয়েতেই সংসদের দুই কক্ষ উত্তাল হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অধিবেশনের শুরুতেই সকল দলকেই উত্তেজিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

Your Opinion

We hate spam as much as you do