Tranding

08:59 PM - 04 Feb 2026

Home / National / ধর্মীয় উস্কানির পর মোদী বললেন ,‘আমি হিন্দু- মুসলিম করি না, যেদিন করব, সেদিন রাজনীতিতে থাকব না’

ধর্মীয় উস্কানির পর মোদী বললেন ,‘আমি হিন্দু- মুসলিম করি না, যেদিন করব, সেদিন রাজনীতিতে থাকব না’

তিনদিন আগে ব্যারাকপুর লোকসভার জগদ্দলের প্রচার সভার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় হিন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রাখা হয়েছে। এখানে রামনমবীর পুজো করতে দেওয়া হয় না।’ আরও বলেন, বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং ওবিসি-দের জন্য বরাদ্দ সংরক্ষণ কেড়ে নিয়ে মুসলিমদের দিয়ে দেওয়া হবে।

ধর্মীয় উস্কানির পর মোদী বললেন ,‘আমি হিন্দু- মুসলিম করি না, যেদিন করব, সেদিন রাজনীতিতে থাকব না’

ছবি ঋণ - বর্তমান 

ধর্মীয় উস্কানির পর মোদী বললেন ,‘আমি হিন্দু- মুসলিম করি না, যেদিন করব, সেদিন রাজনীতিতে থাকব না’
 

15th May 2024 


 প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টির অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিলেন। তাঁর কথায়, আমি হিন্দু-মুসলিম (সঙ্গে পড়ুন ভেদাভেদ) করি না। যেদিন করব, সেদিন রাজনীতিতে থাকব না। এটা আমার সংকল্প।

মঙ্গলবার বারাণসীতে তৃতীয়বারের জন্য মনোনয়ন পেশের পর প্রধানমন্ত্রী রাতে একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তাতে প্রশ্নের জবাবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভাজন রাজনীতির যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

প্রসঙ্গত, সপ্তাহখানেক আগে আর একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেছিলেন। যদিও তারপরও একাধিক সভায় তিনি ভাষণে হিন্দু-মুসলিম প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তিনদিন আগে ব্যারাকপুর লোকসভার জগদ্দলের প্রচার সভার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় হিন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রাখা হয়েছে। এখানে রামনমবীর পুজো করতে দেওয়া হয় না।’ আরও বলেন, বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং ওবিসি-দের জন্য বরাদ্দ সংরক্ষণ কেড়ে নিয়ে মুসলিমদের দিয়ে দেওয়া হবে। 


এর আগে গতমাসে রাজস্থানের সভায় তিনি প্রথমবার খুল্লামখুল্লা ধর্মের তাস খেলেছিলেন। কংগ্রেসের ইস্তাহারকে মুসলিম লিগের ঘোষণাপত্র বলে আখ্যায়িত করে মোদী বলেন, শতাব্দী প্রাচীন দলটি ক্ষমতায় এলে দেশের সম্পদ মুসলিমদের মধ্যে বিলিয়ে দেবে। হিন্দু মহিলার মঙ্গলসূত্রও নিরাপদ নয়। মুসলিম পরিবারের জনসংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সেই থেকে একের পর এক সভায় মুসলিমদের নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলীয় সতীর্থরা। তারপর থেকেই দেশজুড়ে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআইএমএল-সহ একাধিক দল প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে নীরব বলে আওয়াজ তুলেছে বিরোধীরা। 

 

স্বভাবতই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে, খোদ কমিশন যখন নীরব, তখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কেন ব্যাকফুটে। যদিও রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, মোদী আসলে দু-পা এগিয়ে এক পা পিছিয়ে আসার কৌশল নিয়েছেন। 

অর্থাৎ তিনি একদিকে, মুসলিমদের বার্তা দিচ্ছেন, আমি তোমাদেরও লোক। অন্যদিকে, বিরোধীদের মোকাবিলায় মুসলিম জুজু’র ভয় দেখাচ্ছেন। কোনও কোনও মহলের মতে, আন্তর্জাতিক দুনিয়ার প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে। ভারতে সংখ্যালঘুদের উপর পীড়ন, বিদ্বেষের অভিযোগ নতুন নয়। তা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইওরোপের বহু প্রতিষ্ঠান সরব। তারা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভাজন উস্কে দেওয়ার অভিযোগ তুলে দিলে তা বিজেপি এবং ভারত সরকারের অস্বস্তির কারণ হবে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য তো বটেই। তাই গরম-নরম কৌশল নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

মঙ্গলবার বারাণসীতে মনোনয়নপত্র পেশের পর তিনি যেমন বলেন, ‘আমি কখনও হিন্দু-মুসলিম করি না। আমি বলি, আপানাদের যত ইচ্ছা সন্তান থাকতে পারে। শুধু খেয়াল রাখবেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি করবেন না যে সরকারের বোঝা বেড়ে যায়।’ 


তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি কি মুসলিমদের সমর্থন চান। প্রধানমন্ত্রী ঘুরিয়ে জবাব দেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমার দেশবাসী আমাকে সমর্থন করবে। আমি কখনও হিন্দু-মুসলিম করি না। এটা আমার সংকল্প।’ সাক্ষাৎকারে মোদী আরও বলেছেন, ‘সরকার সুবিধা বিলির ব্যাপারে আমি একশো শতাংশ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চলি। ধর্ম-জাত ইত্যাদি দেখি না।’

Your Opinion

We hate spam as much as you do