এই প্রসঙ্গে সম্মেলন শেষ করে শুক্রবার কলকাতা ফিরে যাবার আগে মীনাক্ষী মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমি নিজে এখনও না দেখলেও শুনেছি আজ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ আমার উদ্দেশ্যে কিছু হুমকি মূলক কথা বলেছেন। তিনি বলেন,দিনহাটা, কোচবিহার সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে যে দুর্নীতি ও দুষ্কৃতীরাজ চলছে না এটা কি কেউ অস্বীকার করতে পারে? সভায় রাজনৈতিক কথা বলার পরিপ্রেক্ষিতে একজন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তিনি যদি কাউকে ব্যক্তিগত হুমকি দেয়, এবং কথা বলেন, তার জুতোতে পা গলানো আমাদের রাজনীতি তা শেখায়নি। সব বিষয়টাই মানুষের কাছে ছাড়লাম। রাজ্যবাসীকে শুধু বলবো তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ৮ বার এক ব্যক্তির নেতৃত্বে দিনহাটার সিপিআই(এম) দলের পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। পুলিশ কোথায়? আবারও বলছি পুলিশ যদি থাকতো,পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন যদি থাকতো তবে একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অফিস ভাঙ্গচুর একজনের নেতৃত্বে পরপর ৮ বার হত না।
‘উদয়ন গুহদের আমরা পকেটে রাখি’, হুঙ্কার মীনাক্ষীর , CPIM কার্যালয়ে হামলা, অভিযুক্ত তৃণমূল
23 May 2025,
মাথাভাঙার সভা থেকে দিনহাটার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তথা রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। আর তারপরই দেখা গেল, কোচবিহার শহরে সিপিআইএমের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আর এই অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জেরে তুঙ্গে উঠল শাসক–বিরোধীর তরজা।
এদিকে সিপিআইএম এই ঘটনার পর অভিযোগ করেছে, শুক্রবার দিনহাটা শহরে তাদের কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। তাও বিনা প্ররোচনায়। আর এমনকী কার্যালয়ের প্রবেশ দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে তারা। শুক্রবার এখানের মাথাভাঙায় যুব ফেডারেশনের মঞ্চ থেকে দিনহাটার বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে হুঙ্কার দেন সিপিআই(এম)র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ডিওয়াইএফআইয়ের ২০তম কোচবিহার জেলা সম্মেলন থেকে মীনাক্ষীর হুঙ্কার, ‘দিনহাটা কারও বাপের জায়গা নয়। পুলিশের ছাতা মাথায় না থাকলে উদয়ন গুহদের আমরা পকেটে রাখি।’
অন্যদিকে এই কথা পৌঁছে যায় রাজ্যের মন্ত্রীর কানে। তিনিও পাল্টা জবাব দিয়েছেন সিপিআই(এম)কে। আর তাতেই কোচবিহারের মাটিতে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। উদয়ন পাল্টা বলেন, ‘বলছে, আমাকে পকেটে রাখতে পারে! মানে ৩৪ বছরে টাকা খেয়ে খেয়ে ওরা পকেটটা কত বড় করেছে ভাবুন! যে ৫ ফুট ১০ ইঞ্চির ৯০ কেজি ওজনের একটা লোককে ওরা পকেটে রাখতে পারে বলছে! দিনহাটা আমার বা আমার বাবার সম্পত্তি নয় ঠিকই। তবে দিনহাটার অনেক কাজ আমি ও আমার বাবা করেছি। তাই আগামী একবছরের মধ্যে দিনহাটার বুকে সভা করার জন্য চ্যালেঞ্জ করলাম মীনাক্ষী মুখার্জিকে।’
এছাড়া সিপিআইএম কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস। মাথাভাঙার একটি সভা থেকে সিপিআই(এম) নেত্রী কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরব হন। সরাসরি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে বলেছেন, ‘উদয়ন গুহদের আমরা পকেটে রাখি। পুলিশ যদি এদের মাথায় ছাতা না ধরে তাহলে উদয়ন গুহদের পকেটে রাখি। চুরির টাকায় তোমাদের আর পেট ভরাতে দেব না। লাল ঝাণ্ডা আমাদের এই লড়াইয়ের মেজাজ দিচ্ছে।’ জবাবে উদয়নের হুঁশিয়ারি, ‘ক্ষমতা থাকলে আপনি বা আপনার দলের কোনও নেতা দিনহাটায় এসে এই ধরনের কথা বলে দেখান, কথা দিচ্ছি পুলিশ থাকবে না।’
এই প্রসঙ্গে সম্মেলন শেষ করে শুক্রবার কলকাতা ফিরে যাবার আগে মীনাক্ষী মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমি নিজে এখনও না দেখলেও শুনেছি আজ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ আমার উদ্দেশ্যে কিছু হুমকি মূলক কথা বলেছেন। তিনি বলেন,দিনহাটা, কোচবিহার সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে যে দুর্নীতি ও দুষ্কৃতীরাজ চলছে না এটা কি কেউ অস্বীকার করতে পারে? সভায় রাজনৈতিক কথা বলার পরিপ্রেক্ষিতে একজন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তিনি যদি কাউকে ব্যক্তিগত হুমকি দেয়, এবং কথা বলেন, তার জুতোতে পা গলানো আমাদের রাজনীতি তা শেখায়নি। সব বিষয়টাই মানুষের কাছে ছাড়লাম। রাজ্যবাসীকে শুধু বলবো তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ৮ বার এক ব্যক্তির নেতৃত্বে দিনহাটার সিপিআই(এম) দলের পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। পুলিশ কোথায়? আবারও বলছি পুলিশ যদি থাকতো,পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন যদি থাকতো তবে একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অফিস ভাঙ্গচুর একজনের নেতৃত্বে পরপর ৮ বার হত না। এ রাজ্যে পুলিশ সরকারের দ্বারা পরিচালিত হয়। আজকের ঘটনা এবং ওনার হুমকিতে প্রমানিত আমরা বৃহস্পতিবারের সমাবেশ থেকে যা বলেছিলাম সেটাই সত্য। তার সাক্ষী হিসেবে দিনহাটার আক্রান্ত পার্টি অফিস দাঁড়িয়ে আছে। বৃহস্পতিবার মাথাভাঙায় আমাদের সংগঠনের ২০ তম কোচবিহার জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে আমরা রাজনৈতিক কথাই বলেছি। আরও একবার প্রমান হল যুব সমাবেশ থেকে সঠিক কথাই বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার মাথাভাঙার যুব সমাবেশের প্রেক্ষিতে শুক্রবার দিনহাটায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ সাংবাদিকদের বলেন, ক্ষমতা থাকলে আগামী এক বছরের মধ্যে মীনাক্ষী মুখার্জি দিনহাটায় এসে নিজের তেজ ও জোশ দেখিয়ে যান বলে হুমকি দেন। মন্ত্রীর এই হুমকির পরেই তৃণমূলের একদল কর্মী দিনহাটা পার্টি অফিস প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে ঢুকে বেপরোয়া ভাঙচুর চালায়। এবং ভাঙচুরের নমুনা যাতে জনসমক্ষে না আসে সে জন্য পার্টি অফিসে তালাও ঝুলিয়ে দেয়।
ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদককে হুমকির নিন্দা করে এদিন মাথাভাঙায় এসএফআইয়ের রাজ্য সভাপতি প্রণয় ক্যার্যী বলেন, মন্ত্রী উদয়ন গুহ বুঝে গেছেন তার নেত্রী বিজেপির সাথে সখ্যতা করেই ক্ষমতায় আছে। দিনহাটায় তার দলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে জনগনকে নিয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলছে বামপন্থীরা। আর সেকারণেই উনি বামপন্থীদের অফিসে বারবার হামলা করছেন। মন্ত্রী জেনে রাখুক ফের ওই অফিস খুলবে। লালঝান্ডা উড়বে। কারুর সাধ্য নেই বামপন্থীদের অগ্রগতি রুখে দেয়।
দিনহাটার সিপিআই(এম) নেতা প্রবীর পাল এদিন মাথাভাঙায় বলেন, যুবদের জেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দিনহাটার নেতৃত্ব মাথাভাঙায় ছিল। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলীরা হামলা চালিয়ে প্রমোদ দাশ গুপ্ত ভবনে ভাঙচুর করে তালা দিয়েছে। আমরা ফের ওই অফিস খুলবো।
দিনহাটায় প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে শুক্রবার ফের ভাঙচুরের নিন্দা করে সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, তৃণমূল এবং মন্ত্রী উদয়ন গুহ বামপন্থীদের ভয় পেতে শুরু করেছে। আর সে কারণেই প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবন প্রথমে পৌরসভাকে দিয়ে ভাঙ্গতে চেয়েও আদালতের রায়ে পরাস্ত হয়েছে। কারণ ওই জায়গা পার্টির নিজস্ব। এরপরেই পরপর ৮ বার হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। পার্টি অফিস থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে থানা হলেও প্রকাশ্য দিবালোকে ভাঙ্গচুরের সময়ে পুলিশ আসে নি। প্রতিবার থানায় লিখিত অভিযোগ হলেও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নি। পুলিশ শাসক দলের হয়ে কাজ করছে সেটা স্পষ্ট। এদিন তিনি সাংবাদিকদের জানান, শনিবার তিনি নিজে প্রতিনিধি দল নিয়ে প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে যাবেন।
We hate spam as much as you do