পার্টি কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশনে পলিট ব্যুরো কোঅর্ডিনেটর প্রকাশ কারাতের বক্তব্য অনুসারে, প্রতিক্রিয়াশীল অন্ধকারের শক্তিকে পিছনে ঠেলে দিতে সমস্ত বামপন্থী, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে একত্রিত হতে হবে। ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক এবং প্রগতিশীল মূল্যবোধে সম্পৃক্ত এক ‘নতুন ভারত’ গড়ে তোলার জন্য একযোগে সক্রিয় হতে হবে। । এই লক্ষ্যে বামপন্থীদের ঐক্য আরো জোরালো করা কে ডাক দিয়েছেন তিনি। সিপিআইএমকে দেশজুড়ে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়েছেন কারাত।
CPI(M) এর ২৪তম পার্টি কংগ্রেস শুরু মাদুরাইয়ে, জনগনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের প্রতি আস্থা জানিয়ে শুরু
০২ এপ্রিল ২০২৫
সিপিআইএমের ২৪তম পার্টি কংগ্রেস শুরু হল মাদুরাইয়ে তাম্মুকম কনভেনশন সেন্টারে। এই সময় মীনাক্ষী মন্দিরকে ঘিরে তামিলনাড়ুতে বড় উৎসব ‘চিতিরাই’ এই এপ্রিলেই। তার প্রস্ততিতে নানা ধর্মীয় শোভাযাত্রার মাঝে রাস্তা করে এগিয়েছে সিপিআইএমের সুসজ্জিত মিছিলও। ‘শহিদ স্মরণে’ রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে আসা মশাল মিছিলও এক জায়গায় মিলে শেষ হয়েছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়।
তামিলনাড়ুর মন্দির শহর মাদুরাইয়ে সিপিআইএমের এ বারের পার্টি কংগ্রেস দেশ জুড়ে হিন্দুত্বের রাজনীতির আগ্রাসনের মোকাবিলার ডাক দিয়েই। পুরনো, ঘিঞ্জি শহরে দেবতার অর্চনায় শোভাযাত্রার পাশাপাশি গণ-দেবতার মন ফিরে পেতে সিপিএমের আয়োজন প্রতীকীই মনে হবে! বড় কোনও রাজধানী শহর বাদে মাদুরাই-ই একমাত্র জায়গা, যেখানে তিন বার (১৯৫৩, ১৯৭২ ও ২০২৫) পার্টি কংগ্রেস হচ্ছে। তার মধ্যেও বিশেষত্ব, একই সভাস্থলে ৭২ বছরে তিনটি পার্টি কংগ্রেস! একমাত্র কলকাতায় এর চেয়ে বেশি বার পার্টি কংগ্রেস হয়েছে— চার বার।
মীনাক্ষী মন্দিরে ‘চিতিরাই’ উৎসবের শুরু হওয়ার কথা আগামী ২৯ এপ্রিল। শহরের অন্য দিকে তাম্মুকম কনভেনশন সেন্টারে বুধবার পতাকা উঠল সিপিআইএমের ২৪তম পার্টি কংগ্রেসের। উত্তোলন করলেন দলের বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসু। দলের পলিটব্যুরো কো-অর্ডিনেটর প্রকাশ কারাটের মতে, বাংলা ও ত্রিপুরায় নির্বাচনী ময়দানে বামেদের পিছিয়ে যাওয়ায় দলের শক্তি অনেক হ্রাস পেয়েছে। বাংলায় দলের পুনরুজ্জীবন না ঘটলে শক্তি ফিরবে না এবং সেটা না-হলে আরএসএস-বিজেপির সঙ্গে টক্কর নেওয়ার তাকতও বাড়বে না। বাংলায় তাই নজর দিতেই হবে।
এরই পাশাপাশি এম কে স্ট্যালিনের রাজ্যে অন্য এক অভিনব পথে হাঁটছে সিপিআইএম। হিন্দি ভাষা ও সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়াসের বিরুদ্ধে মত ঘোষণা করেছেন স্ট্যালিন। তাঁর দল ডিএমকের জোটসঙ্গী সিপিআইএম। এ বার প্রেক্ষাগৃহে পার্টি কংগ্রেসের যাবতীয় আলোচনা ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা, তামিল ও মালয়ালমে অনুবাদের ব্যবস্থা রাখছে। যা এ বারই প্রথম। মাদুরাইয়ের সিপিআইএম সাংসদ সু বেঙ্কটেশনের কথায়, ‘‘ভাষাগত কোনও আধিপত্যবাদ এই বহুত্বের দেশে চলে না, এই বার্তাই আমরা দিতে চাই।’’
পার্টি কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশনে পলিট ব্যুরো কোঅর্ডিনেটর প্রকাশ কারাতের বক্তব্য অনুসারে, প্রতিক্রিয়াশীল অন্ধকারের শক্তিকে পিছনে ঠেলে দিতে সমস্ত বামপন্থী, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে একত্রিত হতে হবে। ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক এবং প্রগতিশীল মূল্যবোধে সম্পৃক্ত এক ‘নতুন ভারত’ গড়ে তোলার জন্য একযোগে সক্রিয় হতে হবে।
। এই লক্ষ্যে বামপন্থীদের ঐক্য আরো জোরালো করা কে ডাক দিয়েছেন তিনি। সিপিআইএমকে দেশজুড়ে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়েছেন কারাত।
কারাত বলেছেন একমাত্র বামপন্থীরাই ধারাবাহিকভাবে কর্পোরেট-হিন্দুত্ব শক্তির বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম জারি রেখেছে। সাম্প্রদায়িক নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ধারাবাহিকভাবে লড়াই করেছে শ্রমজীবী বিরোধী নয়া উদারবাদী নীতির।
কারাত বলেন, বামপন্থীদের ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করা ও বাম রাজনীতির আরও প্রভাব বৃদ্ধির জন্য এটাই সময়। নয়া-উদারনৈতিক পুঁজিবাদের বিরোধিতায় ও শ্রমিক জনগণের স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার পথে বামপন্থীরাই একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি যারা নিরবিচ্ছিন্নরূপে সক্রিয় রয়েছে। হিন্দুত্ববাদী নয়া-ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মোকাবিলা ও প্রতিহত করতে জরুরি মতাদর্শগত দায়বদ্ধতা রয়েছে বামপন্থীদেরই। বামপন্থীরাই একমাত্র শক্তি যারা আমাদের দেশে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে পারে।
তিনি বলেন, সমস্ত বামপন্থী শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে একটি বাম ও গণতান্ত্রিক বিকল্প গড়ে তোলার দিকে সিপিআই(এম) এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, পার্টি কংগ্রেসের প্রধান দায়িত্ব রাজনৈতিক কৌশলগত লাইন নির্দিষ্ট করা। যে লাইন নিয়ে পার্টি সর্বত্র লড়াইয়ে ভূমিকা নেবে।
কারাতের আহ্বান, সমস্ত গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলির হাতে হাত রেখে বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে সফলভাবে পরিচালিত করতে ব্যাপকতার ঐক্য গড়তে সিপিআই(এম) অঙ্গীকার করছে। পার্টি কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে তাঁর আহ্বান, প্রতিক্রিয়াশীল অন্ধকারের শক্তিকে পিছনে ঠেলে দিতে সমস্ত বামপন্থী, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি একত্রিত হোক! ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক এবং প্রগতিশীল মূল্যবোধে সম্পৃক্ত এক ‘নতুন ভারত’ গড়ে তোলার জন্য আসুন, আমরা সকলে একসঙ্গে সক্রিয় হই।
কনভেনশন সেন্টার লাগোয়া ময়দানে কাল, বৃহস্পতিবার রাজ্যগুলির অধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় থাকার কথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন, কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রী কৃষ্ণ বায়ার গৌড়া ও কারাটের। ওই ময়দানেই ‘শহিদ স্মরণে’ মশাল মিছিলকে স্বাগত জানিয়ে সন্ধ্যায় দলের পলিটব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাট বলছিলেন, ‘‘আমাদের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলতেন, দু’টো পায়ের উপরে কমিউনিস্ট পার্টি দাঁড়িয়ে থাকে। এক পা পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণ এবং আর একটা পা সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে এগোয়। সেটাই আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।’’
We hate spam as much as you do