মূল্যায়ন হল শেষের কথা। প্রথম কথা, শিখছি কীরকম, বুঝছি কীরকম, কীভাবে এগোতে পারছি। শেখার ব্যবস্থা কীরকম করা যাচ্ছে। এই বিষয়গুলিতে নজর দিয়েই মূল্যায়নের কথা ভাবতে হবে।
অমর্ত্য সেনের উদ্বিগ্নতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধে। বিকল্প পাঠশালার গুরুত্ব অসীম।
দুনিয়া জুড়ে করোনা মহামারীর জন্য প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে রাজ্য তথা দেশের সমস্ত স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। এদিকে সমস্ত পড়ুয়াকে দ্রুত টিকাকরণের আওতায় এনে রাজ্যে দ্রুত স্কুল কলেজ চালু দাবি তীব্র হচ্ছে আন্দোলন। এমনকী দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় চিন্তায় রয়েছেন অবিভাবকেরাও। এদিকে দ্বিতীয় ঢেউ কম হলেও রাজ্যে উৎসবের আবহে অক্টোবরের পর করোনার তৃতীয় ঢেউ আসছে। এমতাবস্থায় ফের স্কুল কলেজ খোলা নিয়ে বিশেষ আশার কথা শোনাতে পারলেন না নোবেল জয়ী প্রবীণ অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনও।
পুজোর পরেই খুলবে স্কুল-কলেজ, বলছেন মুখ্যমন্ত্রী! কিন্তু কেন এত উগ্বিগ্ন অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন?
প্রতীচী ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক অমর্ত্যকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, '' আদপে বিষয়টি খুবই জটিল। তাই এই প্রশ্নের জবাব চট করে দেওয়া যায় না। আর যদি পরিস্থিতি না বুঝে একতরফা উত্তর দিয়ে দিই তাহলে গোটা বিষয়টিকেই ছোট করা হয়। আমি যেখানে থাকি (পড়ুন আমেরিকার বস্টন) সেখানেও স্কুল কলেজ খোলার বিষয় নিয়ে বিবাদ চলছে। তাই ভারতের জন্যও যে সেটা হবে সেটাই স্বাভাবিক।’’
সহজ কথায় কোভিডের তৃতীয় ঢেউ-র দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে স্কুল-কলেজ খোলা নিয়ে সরকারকে আরও ভাবনাচিন্তা করারই পরামর্শ দিচ্ছেন অমর্ত্যকে। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে তিনি জানান, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার জেরে একদিকে যেমন পড়ুয়াদের ক্ষতি হচ্ছে, সেইরকমই সেগুলি খুললে সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।সেটা ভুলে গেলে চলবে না।” এদিকে ইতিমধ্যে পুজোর পর স্কুল কলেজ খোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।যা নিয়ে ফের শুরু হয়েছে চাপানৌতর।
অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, “আমি যদি চিকিৎসক বা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হতাম, তা হলে হয়তে এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারতাম। কিন্তু বর্তমানে বাস্তবোচিত ভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে আমার মত। সব কিছু ভেবেই এগনো উচিত। না হলে বড় বিপদ হতে পারে।' অন্যদিকে একইসঙ্গে বাঁকুড়া, বীরভূমের মতো জায়গায় অতিমারির দিনে পড়ুয়াদের জন্য ছোট ছোট স্তরে স্কুলের বিকল্প শিক্ষার যে পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের তরফে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ তাতে আশা প্রকাশ করেন।
তবে অমর্ত্য সেনের মতে মুল্যায়নের চেয়ে কতটা শিখল সেটা জরুরি। স্কুল খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মূল্যায়ন হল শেষের কথা। প্রথম কথা, শিখছি কীরকম, বুঝছি কীরকম, কীভাবে এগোতে পারছি। শেখার ব্যবস্থা কীরকম করা যাচ্ছে। এই বিষয়গুলিতে নজর দিয়েই মূল্যায়নের কথা ভাবতে হবে। মূল্যায়নকেই সব থেকে বড় জিনিস ভাবা হোক, এটা আমরা চাইব না।’ সুতরাং পরিস্থিতি বিচারে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে তোলাই উচিত বলে তিনি মনে করেন।
We hate spam as much as you do