প্রশাসন সূত্রে খবর, শুধু বেতন কেটেই ক্ষান্ত হবে না সরকার। ধর্মঘটের দিন যাঁরা অনুপস্থিত থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপও নেওয়া হবে । সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গরহাজির কর্মীদের শো-কজ নোটিশ পাঠাতে হবে। সেই শো-কজের উত্তর সন্তোষজনক না-হলে এবং উপযুক্ত প্রমাণ দাখিল করতে না-পারলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মঘটে না এলে বেতন কাটবে মমতা সরকার,হাজিরা বাধ্যতামূলক, কড়া নির্দেশিকা নবান্নের
February 11, 2026
আগামিকাল, 12 ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে 24 ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে একাধিক কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন । বনধের দিন রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে আগেভাগেই কঠোর অবস্থান নিল সরকার।
বুধবার বিকেলে রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ধর্মঘটের দিন সমস্ত রাজ্য সরকারি অফিস খোলা থাকবে এবং কর্মচারীদের হাজিরা বাধ্যতামূলক । নবান্ন'র তরফে স্পষ্টবার্তা, বৃহস্পতিবার যথার্থ কারণ ছাড়া অনপস্থিত থাকলে বেতন কাটা যাবে, এমনকী জুটতে পারে শো-কজ নোটিশও।
অর্থ দফতরের জারি করা মেমোরেন্ডামে (মেমো নম্বর 508-এফ(পি2)) বলা হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর এবং সরকার পোষিত (Grants-in-Aid) প্রতিষ্ঠানগুলি 12 ফেব্রুয়ারি স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা রাখতে হবে । ওই দিন কোনও সরকারি কর্মচারী ক্যাজুয়াল লিভ (CL) বা অন্য কোনও ধরনের ছুটি নিতে পারবেন না। এমনকী দিনের প্রথমার্ধ বা দ্বিতীয়ার্ধে অর্ধদিবস ছুটির আবেদনও গ্রাহ্য করা হবে না। সরকারের লক্ষ্য, ধর্মঘটের দিন যাতে জনজীবন স্বাভাবিক থাকে এবং সরকারি পরিষেবায় কোনও ব্যাঘাত না-ঘটে, তা নিশ্চিত করা ৷
রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকায় ‘ডায়েস-নন’ (Dies-Non)-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে ৷ অর্থাৎ, যদি কোনও কর্মচারী বৃহস্পতিবার বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকেন, তবে তাঁর ওই দিনের অনুপস্থিতিকে কর্মজীবনের ছেদ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ওই একদিনের বেতন তিনি পাবেন না ৷ তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে প্রশাসন ৷
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যদি কোনও কর্মচারী বা তাঁর পরিবারের কেউ হাসপাতালে ভর্তি থাকেন, পরিবারে কারও মৃত্যু হয়, অথবা 11 ফেব্রুয়ারির আগে থেকেই কেউ গুরুতর অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকেন, তবে তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া যাঁরা 11 ফেব্রুয়ারির আগে থেকেই অনুমোদিত চাইল্ড কেয়ার লিভ, মাতৃত্বকালীন ছুটি, মেডিক্যাল লিভ বা আর্নড লিভে রয়েছেন, তাঁরাও এই নির্দেশের আওতার বাইরে থাকবেন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, শুধু বেতন কেটেই ক্ষান্ত হবে না সরকার। ধর্মঘটের দিন যাঁরা অনুপস্থিত থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপও নেওয়া হবে । সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গরহাজির কর্মীদের শো-কজ নোটিশ পাঠাতে হবে। সেই শো-কজের উত্তর সন্তোষজনক না-হলে এবং উপযুক্ত প্রমাণ দাখিল করতে না-পারলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী 28 ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অর্থ দফতরে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । অতীতেও দেখা গিয়েছে, যুক্ত ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা ধর্মঘটে ‘কর্মসংস্কৃতি’ বজায় রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বরাবরই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে । এবারও তার ব্যতিক্রম হল না ৷
We hate spam as much as you do