এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভের কথা শোনা গিয়েছে মন্দিরের প্রধান পুরোহিত আচার্য সত্যেন্দ্র দাসের গলায়। তিনি সাফ জানান, ‘যদি দু এক দিনের মধ্যে কোনও ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে বাধ্য হয়েই আমাদের বন্ধ করতে হবে পুজোপাঠ। সেক্ষেত্রে ভক্তদের জন্যও বন্ধ করে দেওয়া হবে মন্দিরের দরজা।’
মন্দিরের ছাদ চুঁয়ে রামলালার মাথায় জল এবার রামপথে ধস নামল
28 Jun 2024
কখনও গর্ভগৃহের ছাদ চুঁইয়ে জল তো কখনও মন্দির প্রবেশের মূল রাস্তাই ধসে বিধ্বস্ত। সদ্য জানুয়ারিতে উদ্বোধন হওয়া রাম মন্দিরের এমন বেহাল দশা বার বার প্রশেনর মুখে দাঁড়ি করাচ্ছে বিজেপি সরকারকে।
চলতি বছরের শুরুতেই মহাধুমধামের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করেছিলেন রাম মন্দিরের। সেই সময় মন্দিরে যাওয়ার রাস্তাটি ছিল সরু। মন্দির উদ্বোধনের আগে আশপাশের বাড়ি ও অন্যান্য নির্মাণ সরিয়ে যোগী সরকার বানিয়েছিল চওড়া রাস্তা।
এবার সেই রাস্তার বেহাল দশা সামনে এল তৈরির মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই। বছরের প্রথম বর্ষাতেই ধস নামল সেই রাম মন্দিরে প্রবেশ করার মূল রাস্তায়। বুধবার রাতে আচমকাই ওই মেন রাস্তাটি ধসের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে যায়। তড়িঘড়ি রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু হলেও প্রশ্ন উঠছে রাস্তার মান নিয়ে।
কোটি কোটি টাকায় খরচ করে রামপথের একটা অংশ এভাবে কী করে ধসে গেল, তাও আবার সামান্য বৃষ্টিতেই? তবে এই প্রথম নয়, এর আগে অর্থাৎ গত শনিবারও রাস্তায় ধস নামে। রিকাবগঞ্জের কাছাকাছি বৃষ্টির প্রকোপে ওই দশা হওয়ার পর দ্রুত বালি-পাথর দিয়ে তা মেরামত করা হয়। এবার ফের ওই রাস্তার অন্যপ্রান্তে ধস নামল।
প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই রাম মন্দিরের প্রদান পুরোহিত আচার্য সত্যেন্দ্র দাস জানিয়েছিলেন, ‘বর্ষা নামতেই রাম মন্দিরের গর্ভগৃহের ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ছে। মন্দিরে এখনও কাজ চলছে। উপস্থিত রয়েছেন বহু ইঞ্জিনিয়ার। তারপরও কীভাবে উদ্বোধনের কয়েক মাস পরই গর্ভগৃহের এমন অবস্থা হল তা দেখা উচিত। কারণ মন্দির থেকে জল বের করার জায়গা নেই। বৃষ্টি বাড়লে মন্দিরে পুজো অর্চনা করা কঠিন হবে।’
২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি মহা আড়ম্বরে রাম মন্দিরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভিভিআইপি এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় সারা দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। তারপরই চলতি সপ্তাহে এমন দশা হয় রাম লালার গর্ভগৃহের। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভের কথা শোনা গিয়েছে মন্দিরের প্রধান পুরোহিত আচার্য সত্যেন্দ্র দাসের গলায়। তিনি সাফ জানান, ‘যদি দু এক দিনের মধ্যে কোনও ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে বাধ্য হয়েই আমাদের বন্ধ করতে হবে পুজোপাঠ। সেক্ষেত্রে ভক্তদের জন্যও বন্ধ করে দেওয়া হবে মন্দিরের দরজা।’
যদিও এই নিয়ে অযোধ্যা শ্রীরামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র সাফাই দেন, মন্দির নির্মাণে প্রযুক্তি, সরঞ্জাম বা অন্য কোনও ত্রুটি নেইয আদতে নাকি বিদ্যুতের লাইনগুলি দিয়েই জল পড়ছিল। এবার সেই বিতর্কের মধ্যেই ধস নামল মন্দিরের মূল রাস্তায়।
We hate spam as much as you do