ভোটের রেজ়াল্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এই আসনে বিজেপির পরবেশ ভার্মার কাছে কেজরি হেরেছেন ৪০৮৯ ভোটে। আর এই কেন্দ্রেই জামানত খুইয়ে কংগ্রেস প্রার্থী সন্দীপ দীক্ষিত পেয়েছেন ৪২৫৪টি ভোট৷ অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে, কংগ্রেস–আপ জোট করে লড়লে হারতে হতো না কেজরিওয়ালকে। একই ভাবে দিল্লির জংপুরা আসনে আপ নেতা মণীশ সিসোদিয়া পরাজিত হয়েছেন মাত্র ৬৭৫ ভোটে।
দিল্লীতে পাল্টা প্রতিশ্রুতির জয়, আপের হার! জোট না হওয়া ভোট কমার কারন
09 Feb 2025
২০২৫ সালের নির্বাচনে দিল্লি জয় করল বিজেপি। রাজধানীতে ২৭ বছর পর ফের পদ্ম ফুটেছে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়ার মতো আপ হেভিওয়েটরা কড়া লড়াইয়ের সম্মুখীন হয়ে হেরে গিয়েছেন। অপরদিকে কংগ্রেস দিল্লিতে শূন্য । বিজেপি এই নির্বাচনে ৪৮টি আসনে জিতেছে, আপ জিতেছে ২২টিতে।
বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, জল দেওয়ার ট্র্য়াক রেকর্ড ছিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। বরং বিজেপি-র খয়রাতির প্রতিশ্রুতিতেই বিশ্বাস রাখলেন দিল্লিবাসী। আর এখানেই প্রশ্ন, তাহলে কী কোন দল ক্ষমতায় এলে কত কী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবে, তার উপরই নির্ভর করবে কি বাংলার ভোটের ফলাফল? কারণ, কে কত দেবে, তা নিয়ে এখন থেকেই প্রতিযোগিতা করছে তৃণমূল বিজেপি।
কেউ কেউ বলেন, 'ভেট দিয়ে ভোট কেনা'। কেউ আবার বলেন 'জনমুখী প্রকল্প'। যে যাই বলুন না কেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শনিবার দিল্লির ভোটের ফলে জনমোহিনী প্রকল্পের জয়ও হল, আবার হারও হল। কারণ, এবারের দিল্লির ভোটে বিজেপি এবং আম আদমি পার্টির মধ্যে কে ভোটারদের কোন প্রকল্পে কত টাকা দিতে পারে, কিংবা কত কী ফ্রি দিতে পারে, তারই লড়াই হয়েছে। ফ্রি বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে, ফ্রি ওষুধ, এরকমই নানা ফ্রি-এর ছড়াছড়িকে হাতিয়ার করে গত ১০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন কেজরিওয়াল। এবার, তাঁরই কৌশল হাতিয়ার করে তাঁকে হারাতে ঝাঁপায় বিজেপি।
কেজরিওয়াল মহিলাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মাসে ২ হাজার ১০০ টাকা অর্থ সাহায্যের। আর বিজেপি-র প্রতিশ্রুতি ছিল মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়ার। পাশাপাশি, বিজেপি বলেছিল, ক্ষমতায় এলে গর্ভবতী মহিলাদের ২১ হাজার টাকা সাহায্য দেবে। এলপিজি গ্যাসে ছাড় দেবে ৫০০ টাকা। পাল্টা, আম আদমি পার্টি বলেছিল, তারা অটো-ট্যাক্সি চালকদের জন্য জীবনবিমা ও দুর্ঘটনাজনিত বিমা এবং তাঁদের মেয়েদের বিয়েতে ১ লক্ষ টাকার সাহায্য দেবে।
কংগ্রেসের সাথে জোট না হওয়ায় ক্ষতি।
কিন্তু ভোটের রেজ়াল্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এই আসনে বিজেপির পরবেশ ভার্মার কাছে কেজরি হেরেছেন ৪০৮৯ ভোটে। আর এই কেন্দ্রেই জামানত খুইয়ে কংগ্রেস প্রার্থী সন্দীপ দীক্ষিত পেয়েছেন ৪২৫৪টি ভোট৷ অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে, কংগ্রেস–আপ জোট করে লড়লে হারতে হতো না কেজরিওয়ালকে। একই ভাবে দিল্লির জংপুরা আসনে আপ নেতা মণীশ সিসোদিয়া পরাজিত হয়েছেন মাত্র ৬৭৫ ভোটে।
এই আসনে কংগ্রেস প্রার্থী ফরহাদ সুরি পেয়েছেন ৭৩৫০ ভোট৷ এ দিন রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ রকম অন্তত ১১টি আসন রয়েছে, যেখানে আপ–কংগ্রেসের ভোট ভাগাভাগির সুবিধা পেয়েছে বিজেপি। একই ভাবে ভোট শতাংশের হিসেব বলছে, ৬.৩৫ শতাংশ ভোট কেটেছে কংগ্রেস, যেটা আপ–কংগ্রেস জোটের পক্ষে গেলে হয়তো মাত্র ২ ভোট শতাংশের ব্যবধানে জিততে পারত না বিজেপি।
We hate spam as much as you do