নির্বাচনের আগে বিনামূল্যে প্রতিশ্রুতির সম্পর্কে বলতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এনভি রমনার একটি বেঞ্চ জানায়, 'আপনি আমাকে অনিচ্ছুক বলতে পারেন অথবা রক্ষণশীল, কিন্তু আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমরা জড়াতে চাইছি না। বিনামূল্যের প্রতিশ্রুতি একটা গুরুতর সমস্যা। এর সমাধানও সহজ হবে না।
ভোট প্রচারে বিনামূল্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে, সুপ্রিম কোর্টের উদ্বেগ
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর বিনামূল্যে পণ্য বিতরণ করা বা পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাড়ছে। যা ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার রাজনৈতিক নেতাদের অযৌক্তিক দাবি স্বীকৃতি না দেওয়ারাটা 'অগণতান্ত্রিক'।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর বিনামূল্যে পণ্য বিতরণ করা বা পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে স্বীকৃতি না দেওয়ার বিষয়ে সপ্রিম কোর্টে একটি মামলা হয়। সেই মামলা শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রমনা ও বিচারপতি কৃষ্ণ মুরারির বেঞ্চ জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে এই ধরনের কোনও বাধার মুখে ফেলতে চায় না। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট নিজের মতামত প্রকাশ করতে চায় না। সেক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক হবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট গণতন্ত্রের বিশ্বাসী ও গণতন্ত্রকে সম্মান করে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রমনা বলেন, নির্বাচনের সময় বিনামূল্যে কোনও পণ্য বা পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি একটি গুরুতর সমস্যা। সে কথা অস্বীকারের কোনও জায়গা নেই। অনেক ক্ষেত্রে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
নির্বাচনের আগে বিনামূল্যে প্রতিশ্রুতির সম্পর্কে বলতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টে এনভি রমনার একটি বেঞ্চ জানায়, 'আপনি আমাকে অনিচ্ছুক বলতে পারেন অথবা রক্ষণশীল, কিন্তু আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমরা জড়াতে চাইছি না। বিনামূল্যের প্রতিশ্রুতি একটা গুরুতর সমস্যা। এর সমাধানও সহজ হবে না। এক্ষেত্রে অন্য পক্ষের মতামত শোনাটাও একান্ত প্রয়োজন।' দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রমনা জানিয়েছেন, এই বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ আগস্ট নির্ধারিত করা হয়েছে। দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রমনা ২৬ আগস্ট অবসর নিচ্ছেন।
দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রমনা বলেন, কল্যানমূলক প্রকল্প আলাদা। নির্বাচনের আগে অবাধ বিনামূল্যে কোনও পরিষেবা বা পণ্য পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আলাদা। দুই ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাজনৈতিক দলগুলোকে রাখতে হবে। না হলে সমস্যায় পড়তে হবে। বিনামূল্যের প্রতিশ্রুতির জেরে দেশের অর্থনীতি প্রভাবিত হচ্ছে। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিনামূল্যে পরিষেবা বা পণ্য দেওয়ার একাধিক প্রতিশ্রুতি দেয়। যার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। তিনি শুনানির সময় রাজনৈতিক দলগুলোর এই ধরনের প্রতিশ্রুতির বিরোধিতা করেন। তিনি নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতি দলগুলোর নির্বাচনী প্রতীক বাজেয়াপ্ত করা ও দলগুলোর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টে।
We hate spam as much as you do