Tranding

08:36 PM - 04 Feb 2026

Home / Entertainment / ছোট্ট গল্প -- কালো মেয়ের পায়ের তলায় আলোর নাচন

ছোট্ট গল্প -- কালো মেয়ের পায়ের তলায় আলোর নাচন

দৃপ্ত কন্ঠে বলল"মায়ের হাতটা ছাড় দিদি, আমি উকিল নিয়ে এসেছি, তোর এই বাড়িদখল করা আর হল না"।বাড়ির উইলটা মায়ের হাতে ফেরত দিল অপরাজিতা। মেয়ে অপরাজিতাকে জড়িয়ে ধরে "অপা আমি আজ তোর জন্য রত্নগর্ভা " বলে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মনোরমা

ছোট্ট গল্প -- কালো মেয়ের পায়ের তলায় আলোর নাচন

একটা কালো মেয়ের  গল্প
------------------------------------

কালো মেয়ের পায়ের তলায় আলোর নাচন


নিষ্ঠা কর ( বয়স ১৭)


আজ নিজের ছোট মেয়ে অপরাজিতার জন্যই নিজেকে রত্নগর্ভা বলে মনে হচ্ছিল মনোরমার।  আজ তার যেমন ছোট মেয়ের জন্য গর্বে বুক ভরে যাচ্ছিল তেমনি আবার আত্মগ্লানিতে কান্নাও পাচ্ছিল। দুই  মেয়ের মধ্যে বড়ো দুই মেয়ে খুব সুন্দরী,কিন্তু ছোট মেয়ে অপরাজিতা শামলা রঙের, সেইজন্য তিনি নিজেও কম গঞ্জনা দেননি অপরাজিতাকে। 

 

পাঁচ বছর আগে যখন অপরাজিতা ডাক্তারি পড়তে যাবার সুযোগ পেয়েছিল তিনি তখন অপরাজিতার বাবার কাছে গিয়ে বলেছিলেন "ওই মেয়ের পিছনে টাকা ঢেলে হবেটা কি??আমাদের ঘাড়ে বসেই তো খাবে সারাজীবন... তার চেয়ে ওই টাকা রেখে দাও, সঞ্চিতার  বিয়েটা ধূমধাম করে দেব আমরা"। প্রতিবাদ করেছিলেন অপরেশবাবু, বলেছিলেন " এ কি বলছ মনোরমা! অপা, সঞ্চিতা দুজনেই আমাদের মেয়ে,অপরাজিতার সাথে এতবড় অন্যায় আমি কিছুতেই করতে পারব না"।

 

সেই মূহুর্তে অপরেশবাবুকে আর কিছু কথা বলেননি মনোরমা। পরদিন সকালে  অপরেশ  দেখেন যে সিন্দুকে একটা টাকাও নেই। মনোরমা এসে বললেন "ও টাকা জমা করে এসেছি আমি ব্যাংকে সঞ্চিতার বিয়ের জন্য"। সেদিন ছোট মেয়ে অপরাজিতার দিকে মুখ তুলে তাকাতে পারেননি অপরেশবাবু। মনোরমার দিকে তাকিয়ে একবার সশব্দে " ছিঃ"বলে চলে গিয়েছিলেন। 

 

অপরাজিতাকে নিজেকেই বন্ধুদের থেকে ধার করে ডাক্তারি পড়তে হয়েছিল। আর সেই টাকায় এক বছর বাদে বড়ো মেয়ে সঞ্চিতার বিয়ে দিয়েছিলেন মনোরমা ধূমধাম করে। আজ বুঝতে পারছিলেন যে তিনি  ভুল পথে হেঁটেছিলেন। বড়ো মেয়ের বিয়ের পরপরই অপরেশবাবু মারা গেলেন দূর্ঘটনায়। 

                      ----------

আজ যখন বড়ো মেয়ে সঞ্চিতা এসে বাড়ির উইল কেড়ে নিয়ে তাকে মেয়ে জামাই মিলে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছিল তখন উকিল নিয়ে এসে সামনে দাঁড়াল তাঁর কালো মেয়ে অপরাজিতা। দৃপ্ত কন্ঠে বলল"মায়ের হাতটা ছাড় দিদি, আমি উকিল নিয়ে এসেছি, তোর এই বাড়িদখল করা আর হল না"।বাড়ির উইলটা মায়ের হাতে ফেরত দিল অপরাজিতা। মেয়ে অপরাজিতাকে জড়িয়ে ধরে "অপা আমি আজ তোর জন্য রত্নগর্ভা " বলে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মনোরমা। আজ সত্যি সত্যিই তিনি কালো আর ফর্সার মধ্যে আসল তফাত টা বুঝতে পারলেন।

 

আজ আর আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে কালো মেয়ে বলে খারাপ লাগছিল না অপরাজিতার।বরং এটা ভেবে গর্ব হচ্ছিল তার যে সে রূপসী না হলেও মানবিক বটে। বাড়ির ছোট মেয়ে হলেও আদরের চেয়ে অনাদরটাই বরাবর প্রাপ্য হয়ে এসেছিল তাঁর। একটাই কারণ ছিল, অপরাজিতার গায়ের রঙ কালো।তিন বোনের মধ্যে দুই সুন্দরী দিদির মাঝে সে যেন মায়ের  কাছে আবর্জনা ছিল। একমাত্র বাবাই যা তাকে একটু বুঝত, বাবা মারা গেলে পর তার একা বাঁচার লড়াই শুরু হল। 

 

পড়াশোনায় সবার সেরা ছিল, তবুও তার রূপ ছিল না,তাই মায়ের কাছেও অবহেলিত ছিল। কিন্তু আলাদা থাকলেও মায়ের প্রতি নিজের কর্তব্য ভোলেনি অপরাজিতা। মায়ের খেয়াল সে  বরাবর  রেখে এসেছে আর আজও রাখছে। পুজোর সময়ে দুই দিদি নিজেদের পছন্দসই জামাকাপড় পেত,আর অপরাজিতার বরাদ্দ ছিল দুই দিদির চাহিদা মিটে যাবার পর যা বেঁচে থাকতো তাই। এমনকি যখন সে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেয়েছিল তখনও মা বাবা দুই দিদির ধূমধাম করে বিয়ে দেবার জন্য তার ডাক্তারি পড়তে যাবার টাকাটা দিতে চায়নি।

 

নিজে টিউশনি করে টাকা রোজগার করে, আর স্কলারশিপের টাকায় ডাক্তারি পাস করে অপরাজিতা। আজ সে একজন সফল ডাক্তার এবং দুই দিদিকে ছাড়িয়ে মা বাবার গর্ব ও বটে। আজ যখন দুই সুন্দরী দিদিরা তাদের বরদের সাথে এসে সমস্ত সম্পত্তি নিজেদের নাম করে নিয়ে মা বাবা কে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছিল,তখন মাকে নিজের অধিকার ফিরিয়ে দিল এই কালো মেয়ে অপরাজিতাই।  

 


 কালো মেয়ে হলেও মনটা যে তার বড্ড পরিষ্কার এটা তার মা  আজ বুঝতে পারল।আজ আর কালো মেয়ে অপরাজিতাকে নিয়ে তাঁর আর কোনো দুঃখ নেই। কালেো আর ফর্সার মাঝে আসল তফাত টা আজ তিনিবুঝতে পেরেছেন।

Your Opinion

We hate spam as much as you do