Tranding

10:14 PM - 04 Feb 2026

Home / National / বজরং দল দিল্লিতে গির্জায় খ্রিস্টানদের আক্রমণ করে বাইবেল ছিঁড়লো। অভিযোগ

বজরং দল দিল্লিতে গির্জায় খ্রিস্টানদের আক্রমণ করে বাইবেল ছিঁড়লো। অভিযোগ

সকাল সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে এই ভবনে প্রার্থনা চলছিল যখন, তখন হঠাৎই কিছু লোক হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে ভবনের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং চিৎকার করে বলতে থাকে "হিন্দু রাষ্ট্র জিন্দাবাদ হাম হিন্দু রাষ্ট্র বানায়েঙ্গে - জয় শ্রীরাম"

বজরং দল দিল্লিতে গির্জায় খ্রিস্টানদের আক্রমণ করে বাইবেল ছিঁড়লো। অভিযোগ

বজরং দল দিল্লিতে গির্জায় খ্রিস্টানদের আক্রমণ করে বাইবেল ছিঁড়লো। অভিযোগ 

Aug 22, 2023  

গত রবিবার, দিল্লির তাহিপুর এলাকায় সিয়ন প্রার্থনা ভবনে ক্রিশ্চান ধর্মাবলম্বী মানুষের প্রার্থনার সময় ব্যাপক আক্রমণের খবর এলো। চিৎকার করে আক্রমণকারীরা বলে ওঠে "আমরা হিন্দু রাষ্ট্র গড়তে চাই।" যখন গির্জার সদস্যরা পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন ১০০জনের বেশি  হিন্দুত্ববাদী উগ্র দল তাদের এই শান্তিপূর্ণ  প্রার্থনাকে আক্রমণ করে

সকাল সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে এই ভবনে প্রার্থনা চলছিল যখন, তখন হঠাৎই কিছু লোক হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে ভবনের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং চিৎকার করে বলতে থাকে "হিন্দু রাষ্ট্র জিন্দাবাদ হাম হিন্দু রাষ্ট্র বানায়েঙ্গে - জয় শ্রীরাম"

 ক্রিশ্চান ধর্মাবলম্বী সদস্যরা অভিযোগ করেন যে তারা যখন প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তখন তাদের ওই লোকেরা লাঠি দিয়ে মারে যারা কার্যত বজরং দলের সদস্য 


. প্রত্যেক রবিবার যখন আমরা প্রার্থনা করার জন্য গির্জায় একত্রিত হই আমাদের ভয় করে কখন আমরা আক্রান্ত হব। তারা সমস্ত জনগণের কাছে অনুরোধ করেন যে তাদের শান্তিতে প্রার্থনা করতে দেয়া হোক।

দুপুরবেলা কিছু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ
ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জিটিবি এনক্লেভ পুলিশ স্টেশনে একটা অভিযোগ দায়ের করেন।

তারই প্রত্যুত্তরে একশোর উপর বজরং দল সদস্য যারা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য তারা পুলিশ স্টেশন এর চারপাশে জড়ো হয়ে যায় এবং চিৎকার করতে থাকে জয় শ্রীরাম বলে।

ওই জড়ো হওয়া বজরং সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ থানার মধ্যে ঢুকে পড়ে, জয় শ্রীরাম বলে চিৎকার করতে শুরু করে।

শিবম নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী  বলেন "ওরা গির্জার ভবনের মধ্যে ঢুকে পড়ে কারোর অনুমতি ছাড়াই এবং আমাদের সকলকে প্রার্থনা বন্ধ করতে বলে এবং দাবি করে যে দেশ এখন পরিবর্তন হয়ে গেছে। চিৎকার করে বলে এই দেশ এখনো ধর্মনিরপেক্ষ নেই এই দেশের সমস্ত আইন বদলে গেছে। শিবমই প্রথম  থানায় অভিযোগ দায়ের করে
বহু খ্রিস্টান মানুষ অভিযোগ করেন বজরং সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে ঢুকে কোন রকম অনুমতি ছাড়াই তাদের হাতে তরোয়াল লাঠি এ সমস্ত ছিল। এবং তারা বাইবেল ছেড়ে টুকরো টুকরো করে।

 শিবম অভিযোগ করেন "তারা লাঠি সোটা নিয়ে আক্রমণ করে বহু লোক আহত হয়। এমনকি মহিলারা পর্যন্ত আহত হয়েছে যার মধ্যে ওর নিজের বোনও আছে।  বোন শরীরে ভয়ানক আহত হয়।
তিনজন মহিলা যারা তাদের পরিচয় গোপন রাখতে চান তারা দাবি করেছেন বজরং দলের সদস্যরা তাদের ধরে মেরেছেন এবং তাদের কাপড় খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

একটা ভিডিও থেকে জানা যাচ্ছে চার্চে একটা বিরাট ক্ষতি হয়েছে। বাইবেল ছাড়া হয়েছে যীশুখ্রীষ্টের মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংবাদ মাধ্যমকে বজরং দলী লোকেরা বলে "কেন  ওরা হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় ধর্মীয় প্রার্থনা করছিল। 
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের আনমোল বলে একজন সদস্য উল্লেখ করেন। "আর কিছুদিনের মধ্যে আমাদের অনুষ্ঠান রক্ষা বন্ধন আসছে  আমরা আমাদের এলাকায় অন্য কোন ধর্মের প্রার্থনা বরদাস্ত করবো না। চিৎকার করতে শুরু করে তারা প্রথমে আমাদের আক্রমণ করে যা আমরা মোটেই পছন্দ করছিলাম না
 
সংবাদমাধ্যমকে খ্রীষ্টান যাযকদের একজন বলেন " কি আর বলবো? একটা দেশে তার নিজের ভূমিতে যখন মানুষ নিরাপদ নয় তখন আর কি বলার আছে? আমরা গত ১৩ বছর ধরে এখানে প্রার্থনা করছি। আমরা কোনদিন কোন বিষয়ে বিতর্ক করিনি এবং এই রকম পরিস্থিতির হয়নি এখন মানুষেরা খুব ভয়ে রয়েছেন তারা তাদের জীবনের ভয় করছেন।"

আমি দুপুর ১টার দিকে সেখানে পৌঁছাই। এসএইচও-র কাছে সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে, এবং আমি নিশ্চিত যে ফুটেজে প্রমাণ রয়েছে যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সাথে জনতা কী করেছে তা দেখানো হয়েছে,” বলেছেন মিনিকাশি সিং, একজন সমাজ কর্মী যিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সমস্যা নিয়ে কাজ করেন। তিনি প্রার্থনার সময় মহিলাদের উপর হামলার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন: "যে দেশ নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে সে কীভাবে তাদের মহিলাদের সাথে এমন খারাপ আচরণ করতে দেয়?"

ইউনাইটেড খৃষ্টান ফোরামের  পক্ষ থেকে  ২০১৪ সালের পর থেকে ক্রমাগত খ্রিস্টানদের উপর আক্রমণের বিষয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়

২০১৪ সালের পর থেকে খ্রিস্ট ধর্মের মানুষের ওপর ১৪৭ বার অ্যাটাক করা আক্রমণ করা হয়েছে। এবং এটা ক্রমশ বাড়ছে প্রত্যেক বছর শেষ বছরে আমরা ৫৯৯ টা খ্রিস্ট ধর্মের মানুষের উপর আক্রমণ দেখেছি। ২০২৩ সালের ১৯০ দিনের মধ্যে ৪০০ বার আক্রান্ত হয়েছে খ্রিস্টানরা। শিয়া সাত ডেইলি এই রিপোর্ট দিয়েছে

খ্রিস্টানদের ফোরাম জানিয়েছে যে খ্রিস্টানদের ওপর আক্রমণ ২০২৩এ ২৩ টি রাজ্যের মধ্যে উত্তরপ্রদেশে ১৫৫ টা ঘটনা ঘটেছে, ঠিক তারপরেই ছত্রিশগড়ে ৮৪ টা ঘটনা ঘটেছে।
মোদি সরকার যখন বলছে ভারত বর্ষ গণতন্ত্রের মাতৃভূমি তখন এই ধরনের ঘটনা রীতিমতো চিন্তার কারণ ।

মোদি সরকার মণিপুরে প্রান্তিক সংখ্যালঘু কুকি সম্প্রদায়ের মানুষের উপর অত্যাচার মেওয়াটে মুসলিমদের উপর এবং সর্বত্র সংখ্যালঘু মানুষের উপর অত্যাচারকে রুখতে ব্যর্থ হচ্ছে। এটা সরকারের ব্যর্থতা শুধু নয়, দেখে মনে হচ্ছে সরকারের ইচ্ছেও নেই এই ধরনের কাছ থেকে জনতা কে এর থেকে রক্ষা করার।


ভারতে দিল্লীর যন্তর মন্তরে  রাষ্ট্রপতির অধীনে আসন্ন G20 শীর্ষ সম্মেলন হবে। এই কারণে বিশ্বব্যাপী মনোযোগ দিল্লির দিকে থাকায়, এই ধরনের ঘটনাগুলি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ এবং দুর্ব্যবহারের বিষয়ে মোদি সরকারের সুনাম হবে না।

এদিকে,নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস রিপোর্ট করেছে যে "দিল্লির যন্তর মন্তর রোডে, হিন্দু সেনার সভাপতি বিষ্ণু গুপ্ত 'নু' হিংসার প্রতিবাদে আয়োজিত একটি মহাপঞ্চায়েতে বলেছেন যে ভারত “১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত হয়েছিল [কিন্তু] যতদিন এই দেশে একজন মুসলমান বসবাস করবে, বিভাজন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে,” 

Your Opinion

We hate spam as much as you do