সিপিআইএমের অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেনের অনুগামীরা সেখানে এসে বাধা দেন। তাই পার্টি অফিস খুলতে পারেনি। যদিও পাল্টা তৃণমূলের দাবি, সিপিআইএমের লোকজন পার্টি অফিস খুলে সন্ত্রাস চালাবে। তাই এলাকার লোকজন বাধা দেন।
সিপিআইএমের পার্টি অফিস খোলায় তৃণমূলের বাধা কাশীপুরে সংঘর্ষ
May 01, 2023
বন্ধ পার্টি অফিস খোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল কাশীপুরে। সিপিআইএমের দাবি, এই পার্টি অফিস তাদের। পাল্টা তৃণমূলও দাবি করেছে, এটি তাদের দলীয় কার্যালয়। অভিযোগ, এদিন এলাকায় বন্ধ থাকা অফিস খুলতে যান সিপিআইএম নেতৃত্ব। সেই সময় বাধার মুখে পড়তে হয় তাদের। এই বাধা দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ ওঠে শান্তনু সেনের লোকজনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার উত্তাপ বাড়ে এলাকায়। সিপিআইএমের কাশীপুর বেলগাছিয়া ৩ নম্বর এরিয়া কমিটি অফিস। সেই অফিস খোলাকে কেন্দ্র করেই এদিনের ঝামেলা। পরে সিঁথি থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সিপিআইএমের দাবি, কাশীপুর বেলগাছিয়া ৩ নম্বর এরিয়া কমিটির অফিসটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। মে দিবস উপলক্ষে সোমবার সেখানে মিছিল করে এসে সভা করে সিপিআইএম। এরপরই পার্টি অফিসটি খোলার সিদ্ধান্ত নেয়। দলীয় নেতারা আসেন। কর্মী, সমর্থকরাও এসে হাজির হন। সেখানে দেখা যায় দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। যিনি দলে ফেরার চেষ্টা করছেন বলে সম্প্রতি শোনা যায়।
সিপিআইএমের অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেনের অনুগামীরা সেখানে এসে বাধা দেন। তাই পার্টি অফিস খুলতে পারেনি। যদিও পাল্টা তৃণমূলের দাবি, সিপিআইএমের লোকজন পার্টি অফিস খুলে সন্ত্রাস চালাবে। তাই এলাকার লোকজন বাধা দেন।
এ বিষয়ে তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, “আমি যে ওয়ার্ডে থাকি, যে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলাম, সেই ওয়ার্ডে এই ঘটনা। এই ওয়ার্ডে দুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় নামে সিপিএমের এমন একজন নেতা থাকেন, যিনি জোড়া খুনের আসামী। দীর্ঘদিন জেল খেটেছেন। খবরে দেখেছেন মহম্মদ সেলিমকে ধরে তিনি আবার দলে ঢোকার চেষ্টা করছেন। তিনি দলে নিজের নম্বর বাড়ানোর জন্য কমরেড কনীনিকা ঘোষদের নিয়ে এসে তৃণমূলের একটা পার্টি অফিস দখল করার চেষ্টা করে। চারপাশ লাল পতাকা লাগায়, হোর্ডিং লাগায়। আমাদের কয়েকজন প্রতিবাদ করায় বেধড়ক মারে। সশস্ত্র হামলা করেছে।”
পাল্টা সিপিআইএম নেত্রী মহিলা রাজ্য সম্পাদিকা কনীনিকা ঘোষ বলেন, “সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসা করে দেখবেন ওটা আগে কাদের পার্টি অফিস ছিল। আমরা আমাদের পার্টি অফিস খুলতে এসেছিলাম। আমাদের এরিয়া কমিটির সেক্রেটারি বাবিন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর তৃণমূলের কর্মীরা চড়াও হয় এবং মারধর করে। তৃণমূল যদি বলে ওরা আক্রান্ত মানুষ হাসবে। সেখানে শান্তনুবাবুও আসেন। ওনার উপস্থিতিতেও আবার তৃণমূল কর্মীরা আমাদের কর্মীদের উপর চড়াও হয়।” এ বিষয়ে শান্তনু সেনের অবশ্য বক্তব্য, এলাকার কেউ যদি বলে এটা সিপিআইএমের পার্টি অফিস ছিল, তৃণমূলের ছিল না, তিনি সাংসদ পদ ছেড়ে দেবেন। অন্যদিকে হুগলির কোন্নগরে এক দলীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে বিমান বসু বলেন, “সিপিআইএম কোথাও সংঘর্ষ করছে না। সিপিআইএম-এর উপর আক্রমণ হলে হয়ত দাঁড়িয়ে ছিল, পালিয়ে যায়নি।”
We hate spam as much as you do