হাওড়া থেকে সল্টলেক, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছিল ২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী। শিলান্যাস করেছিলেন বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। সেই সময় রেলমন্ত্রকের হাতে ছিল না প্রকল্পটি, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রকল্প ছিল এটা।
বাম আমলে ২০০৯ শিলান্যাস আজ উদ্বোধন গঙ্গার নিচে মেট্রো কলকাতায়
06 Mar 2024
ভারতের মেট্রোরেলের ইতিহাসে নতুন নজির গড়ল পশ্চিমবঙ্গ। আজ বুধবার গঙ্গা নদীর নিচ দিয়ে মেট্রো চলাচল শুরু হতে চলেছে কলকাতা শহরে। সারা ভারতে নদীর তলদেশ দিয়ে ট্রেন চলার ঘটনা এই প্রথম।
এর আগে ১৯৮৪ সালের ২৪ অক্টোবর এই শহরেই প্রথম মেট্রো চলাচল শুরু হয়। সেটি ছিল পাতাল রেল। প্রথম ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার এই রেলপথ চালু হওয়ার পর পরবর্তী সময় এই মেট্রো ট্রেনের চলার পথ বেড়ে ৩১ কিলোমিটার পর্যন্ত দাঁড়ায়, দমদম থেকে ধর্মতলা হয়ে একেবারে টালিগঞ্জ পর্যন্ত। পরে এই পথ টালিগঞ্জ থেকে গড়িয়া এবং দমদম থেকে বাড়িয়ে করা হয় নওয়াপাড়া-দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত।
এবার এই পথ বাড়ানো হয়েছে একেবারে হাওড়া পর্যন্ত। ট্রেন ধর্মতলা থেকে হাওড়া যাবে হুগলি বা গঙ্গা নদীর তলদেশ দিয়ে। তলদেশের দূরত্ব ৫২০ মিটার।
আজ এই নদীর তলদেশের মেট্রো পথের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হুগলি নদীর তলদেশ থেকে ধর্মতলা-হাওড়া রেলপথ চালু করলেন। নদীর তলদেশের ৩৪ মিটার তল থেকে চলে গেছে এই রেলপথ। এই রেলপথ চালুর সঙ্গে সঙ্গে এই মেট্রোরেল পথের স্টেশনসংখ্যা ১৭ থেকে বেড়ে ২৬ হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি আজ আরও দুটি মেট্রোরেলের উদ্বোধন করেছেন।
হাওড়া থেকে সল্টলেক, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছিল ২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী। শিলান্যাস করেছিলেন বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। সেই সময় রেলমন্ত্রকের হাতে ছিল না প্রকল্পটি, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রকল্প ছিল এটা।
জানা গেছে ভারতে নদীর তলা দিয়ে প্রথম ট্রেনলাইন তৈরির এই মেট্রো প্রকল্পের কাজ তো ২০১৪-র অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। হয়নি। ২০২২-র জুলাইয়ে প্রকল্পের আংশিক উদ্বোধন হয়েছে। কারণ, অভিযোগ রেলমন্ত্রককে কাজে লাগিয়ে হাওড়া ও শিয়ালদহে মেট্রো স্টেশনের পরিকল্পনাকে বানচাল করতে উঠেপড়ে লাগেন মমতা। তারপরই রেলমন্ত্রকের হাতে প্রকল্প তুলে দিয়ে বামফ্রন্ট সরকার বলে "কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগেই হোক, অথবা রেলের মাধ্যমেই হোক, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্প চালু হলেই নাগরিকদের লাভ।"
ইষ্ট ওয়েস্ট মেট্রো প্রসঙ্গে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে সিপিআই(এম) জানিয়েছিল, প্রকল্প হাতে পেয়েই কলকাতার কিছু ব্যবসায়ী, জমি মাফিয়াদের স্বার্থে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর রুটটাই পাল্টে ফেলেন মমতা। ইঞ্জিনিয়ার ও ভূবিজ্ঞানীদের যাবতীয় সমীক্ষার থেকে বেশি গুরুত্ব পায় তৃণমূল নেতাদের মর্জি। যার ফলে প্রকল্পে ব্যয় হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। দশ বছর সময় নষ্ট হয়েছে, শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ। নতুন রুটে মধ্য কলকাতায় বিভিন্ন বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। "
হাওড়ার মেট্রোরেলের স্টেশনহাওড়ার মেট্রোরেলের স্টেশন
এই পথ দুটি হলো কবি সুভাষ-হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সম্প্রসারিত পথ এবং তারাতলা মাঝেরহাটের সম্প্রসারিত মেট্রো পথ। ধর্মতলা-হাওড়া মেট্রো পথের উদ্বোধনের ফলে এই হাওড়া থেকে ধর্মতলা ৮ মিনিটে এবং হাওড়া থেকে শিয়ালদাহ ১১ মিনিটে যাওয়া যাবে।
We hate spam as much as you do