Tranding

10:16 PM - 04 Feb 2026

Home / National / নাবালিকার ধর্ষককে বিয়ে করে মিটমাট করে নিতে পরামর্শ শীর্ষ আদালতের

নাবালিকার ধর্ষককে বিয়ে করে মিটমাট করে নিতে পরামর্শ শীর্ষ আদালতের

নারী স্বাধীনতা উন্নত সমাজের সংজ্ঞার প্রধান শর্তগুলোর অন্যতম। তা যদি বিপন্ন হতেই থাকে তাহলে এদেশের এগিয়ে যাবার পথ রুদ্ধ হবে না কি ?

নাবালিকার ধর্ষককে বিয়ে করে মিটমাট করে নিতে পরামর্শ শীর্ষ আদালতের

এদেশে নারী স্বাধীনতা কি প্রশ্নের মুখে ?
নাবালিকার ধর্ষককে বিয়ে করে মিটমাট করে নিতে পরামর্শ শীর্ষ আদালতের ।
সুপ্রিম কোর্ট এর প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এক ধর্ষনে অভিযুক্ত সরকারি কর্মচারীকে, ধর্ষিতাকে বিয়ে করে সমস্যা মিটিয়ে নিতে পরামর্শ দেন। আপাতত সেজন্য তার হপ্তা চারেক গ্রেপ্তার স্থগিত রাখা যেতে পারে। বিচারপতির তরফ থেকে বলা হয়েছে- -
"If you want to marry we can help you. If not, you lose your job and go to jail. You seduced the girl, raped her,” Chief Justice of India S.A. Bobde reportedly told ____"
মহারাষ্ট্র রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের ঐ কর্মী মোহিত সুভাষ চবন একটি নাবালিকাকে বিবাহের শর্ত দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষন করেছে বলে অভিযোগ । তার বিরুদ্ধে POSCO act ( protection of children from sexual offences) এ অভিযোগ দায়ের হয়। তখন সেই সরকারি কর্মচারী নাবালিকাকে ১৮ বছর পূর্ণ হলে বিয়ে করার কথা বলে।

প্রশ্ন উঠছে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কার্যত জোরপূর্বক  শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর বিয়েতে রাজি হলেই সব দোষ মাফ হয়ে যায় ? এক্ষেত্রে পুরুষের মতই একমাত্র মত হবে ? নারীটির মত নেওয়ার প্রয়োজন নেই? এই চরম মধ্যযুগীয় চিন্তার প্রকাশ ঘটল সুপ্রিম কোর্টের এই পরামর্শে। প্রশ্ন উঠেছে সুপ্রিম কোর্ট কি ধর্ষনকে আইনি স্বীকৃতি দিতে চাইছেন ? 
এর আগেও পঞ্জাবের এক যুবককে ছয় মাসের মধ্যে নির্যাতিতাকে বিবাহ করার নির্দেশ দেয়।
আর একটি মামলায় স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ করেন তখন তাকে বলা হয় একই ছাদের তলায় থাকলে স্বামী যতই নৃশংস হোক না কেন তাকে ধর্ষক বলা উচিত না। তাহলে প্রশ্ন উঠছে বিবাহের পর নারীর কি কোনো স্বাধীনতা থাকবে না ? সে শুধুমাত্র পন্য?  শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয়ের সম্মতিই একমাত্র আইনসম্মত এবং শুধু পুরুষের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া বিবাহিত হলেও বেআইনি এই কথা ধর্মনিরপেক্ষ , গনতান্ত্রিক দেশের শীর্ষ আদালত না স্বীকৃতি দিলে দেশের সামাজিক উন্নত কাঠামো বিপদের সামনে এসে দাঁড়ায় বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
বারবার মধ্যযুগীয় চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে নারীর ওপর অত্যাচারকে সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে । সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের  হাথরাসের ঘটনা তার প্রমান। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রিপোর্ট এদেশে রোজ গড়ে ৮৭ জন ধর্ষনের স্বীকার হচ্ছে । 
এরই মধ্যে আজ আবার অভিযোগ উঠে এসেছে উত্তর প্রদেশের হাথরাশে এক নারী শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্তের হাতে প্রকাশ্যে নির্যাতিতার বাবার খুন হওয়ার ঘটনা। গত ২০১৮ সালের জুলাইতে নৌজপুর গ্রামের শাসানি থানার বাসিন্দা গৌরব শর্মা শ্লীলতাহানির অভিযোগে একমাস জেল খেটে জামিন পায়। আজ সেই গৌরব দীর্ঘ বাকবিতন্ডার পর এক মন্দিরের সামনে সেই মেয়েটির বাবাকে গুলি করে হত্যা করে । প্রকাশ্যে মেয়েটির অভিযোগ স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে ।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে ভারতবর্ষ কোন পথে যাবে ? নারী স্বাধীনতা উন্নত সমাজের সংজ্ঞার প্রধান শর্তগুলোর অন্যতম। তা যদি বিপন্ন হতেই থাকে তাহলে এদেশের এগিয়ে যাবার পথ রুদ্ধ হবে না কি ?
  

Your Opinion

We hate spam as much as you do