সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, "আইনমন্ত্রী ও নেতা হিসেবে হাশিম আব্দুল হালিম সাহেবকে দেখেছি ৷ ছাত্র জীবনে তাঁকে দেখেছি ৷ একজন মানুষের যতরকম চরিত্র থাকতে পারে, তা ওনার মধ্যে ছিল ৷ তিনি ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্ককে গুরুত্ব ও তাকে মর্যাদা দিতেন ৷ বিভিন্ন দেশে গেছেন। সেখানকার আইনসভার সদস্যদের নিয়ে নানান বিষয়ে আলোচনা করতেন ৷"
"তিনি বিরোধীদের মর্যাদা দিতেন" হালিম স্মারক বক্তৃতায় সেলিম-বিকাশ
3 নভেম্বর 2024
গতকাল প্রয়াত রাজ্য বিধানসভার স্পিকার হাসিম আব্দুল হালিম স্মরণে সংসদীয় গণতন্ত্রে স্পিকারের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনায় জিডি বিড়লা সভাঘরে সিপিআইএম নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, "আইনমন্ত্রী ও নেতা হিসেবে হাশিম আব্দুল হালিম সাহেবকে দেখেছি ৷ ছাত্র জীবনে তাঁকে দেখেছি ৷ একজন মানুষের যতরকম চরিত্র থাকতে পারে, তা ওনার মধ্যে ছিল ৷ তিনি ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্ককে গুরুত্ব ও তাকে মর্যাদা দিতেন ৷ বিভিন্ন দেশে গেছেন। সেখানকার আইনসভার সদস্যদের নিয়ে নানান বিষয়ে আলোচনা করতেন ৷"
সেলিমের অভিযোগ, "এখন দেশের পার্লামেন্টে কোনও কাজ হয় না ৷ কিন্তু, হালিম সাহেবের সময়ে বিধানসভা চলাকালীন, কী মন্তব্য করতেন, তা আর্কাইভ থেকে বের করে দেখানো উচিত ৷ যাতে নতুন প্রজন্ম জানতে পারে, পার্লামেন্টে বা বিধানসভায় শুধু মারামারি হয় না, হইচই হয় না ৷ নানান সময়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন ৷ তিনি সমস্ত স্তরের মানুষের কাছ সহজেই পৌঁছতেন ৷ বিরোধীদের মর্যাদা দিতেন ৷ বিরোধী নেতার ক্যাবিনেটের মর্যাদা-সহ সমস্ত রসদ যোগানের ব্যবস্থায় তিনিই সচেষ্ট হয়েছিলেন ৷"
সরকারের দায়বদ্ধতা বোঝাতে একজন অধ্যক্ষের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাঁর কোনও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব থাকা উচিত না ৷ আর সেই কাজটাই করে দেখিয়েছিলেন হাশিম আব্দুল হালিম ৷ রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষের স্মরণসভায় এমনটাই মন্তব্য সিপিআইএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের ৷
তবে, সিপিআইএম নেতা রাজ্যসভার সদস্য আইনজীবীর মতে, বর্তমানে ঠিক তার উলটোটাই হচ্ছে ৷ পাশাপাশি, সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও প্রায় একই সুরে রাজ্য বিধানসভা এবং লোকসভার বর্তমান অধ্যক্ষদের নাম না-নিয়েই সমালোচনা করলেন ৷ তাঁর কথায়, বর্তমানে রাজ্য বিধানসভা কিংবা লোকসভার অধ্যক্ষরা যে ভূমিকা পালন করছেন, তা ন্যায় সংগত নয় ৷ যুক্তি দিয়ে বোঝাতে গিয়ে প্রয়াত সিপিআইএম নেতা তথা লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের দল থেকে বহিষ্কার এবং তাঁর নিজের সিদ্ধান্তে অটুট থাকার প্রসঙ্গ উঠে আসে এই আলোচনা সভায় ৷
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "ভারত শাসিত হচ্ছে সংবিধান মেনে ৷ আমরা জন্ম থেকেই স্বাধীন ৷ মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারছি কিনা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ ৷ ভারতবর্ষ একক দেশ নয়, বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ ৷ কিন্তু, সেটাকে নানাভাবে ভেঙে ফেলা হচ্ছে ৷ হাশিম আব্দুল হালিম পার্টি থেকে পদত্যাগ না-করেও অধ্যক্ষের পদ দায়িত্বের সঙ্গে সামলেছেন ৷"
এর পরেই বর্তমান রাজ্য বিধানসভা এবং লোকসভার অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিকাশ ৷ তিনি বলেন, "সাধারণত হাউস চালানোর দায়িত্ব অধ্যক্ষের ৷ বিতর্কে অংশ গ্রহণ করা নয় ৷ অধ্যক্ষ হলে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করতে পারেন না ৷ হালিম সাহেবের যুক্তি ও মানবতায় পেরে উঠতেন না কেউই ৷ কিন্তু, আজকের দিনে দলবদলুরা পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসিতে সব থেকে বড় বিপদ হয়ে উঠেছে ৷ অধ্যক্ষের উচিত, তাঁদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা ৷ কিন্তু, কী হচ্ছে ? মুকুল রায় থেকে অন্যান্য বিধায়ক-সাংসদরা রাতারাতি দলবদল করলেন ৷ অধ্যক্ষ কী ভূমিকাটা পালন করলেন ? অথচ হাশিম আব্দুল হালিমের অধ্যক্ষ হিসেবে কী ভূমিকা ছিল, তা রাজ্যের রাজনীতিকরা খুব ভালোভাবেই জানেন ৷"
We hate spam as much as you do