নিট দুর্নীতি এবং নেট বাতিলের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার গোটা দেশজুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সিপিআইএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। সেই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি। বুধবার কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির পক্ষে সিআইটিইউ পশ্চিমবঙ্গ কমিটির সম্পাদক অনাদি সাহু বিবৃতি দিয়ে এই সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
নিট-নেট দুর্নীতি ! দেশজুড়ে বাম ছাত্রদের ধর্মঘটের পাশে শ্রমিক সংগঠনগুলি
০৪ জুলাই ২০২৪
নিট ও নেট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিময়ম এবং রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিবাদে আজ, বৃহস্পতিবার ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে এসএফআই-সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। এ বার সেই ধর্মঘটকে সমর্থন জানাল বাম ও কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনগুলি। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা ছাত্র ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে সিটু, এআইটিইউসি, আইএনটিইউসি, টিইউসিসি, ইউটিইউসি এবং এআইসিসিটিইউ। একই বিষয়ে আজ দেশ জুড়ে প্রতিবাদ দিবসের ডাক দিয়েছে এসইউসি-র ছাত্র সংগঠন ডিএসও। কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির তরফে আহ্বায়ক, সিটুর রাজ্য সম্পাদক অনাদি সাহুর অভিযোগ, ২০১৭ সালের আগে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষার দায়িত্ব রাজ্যগুলির হাতে ছিল। বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষার কেন্দ্রীয়করণের স্বার্থে সারা দেশে একটি মাত্র প্রবেশিকা পরীক্ষা চালু করে। এবং এই বোর্ডের পরিচালনার দায়ভার আরএসএসের লোকজনের হাতে দেওয়া হয়। যাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারকে তাঁর নিশানা, ‘‘আমাদের রাজ্যে গত কয়েক বছর স্কুলগুলিতে শিক্ষক নেই। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। শিক্ষকের অভাবে একাধিক স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটাও শিক্ষার বেসরকারিকরণের ভয়ানক চক্রান্ত।’’
নিট দুর্নীতি এবং নেট বাতিলের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার গোটা দেশজুড়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সিপিআইএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। সেই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি। বুধবার কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির পক্ষে সিআইটিইউ পশ্চিমবঙ্গ কমিটির সম্পাদক অনাদি সাহু বিবৃতি দিয়ে এই সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
ট্রেড ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে বুধবার যৌথ বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘‘মূলত সর্বভারতীয় নিট, নেট পরীক্ষায় দুর্নীতি, প্রশ্ন ফাঁস ও আমাদের রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে এই ছাত্র ধর্মঘট। গত কয়েক বছর নিয়ম করে আমাদের রাজ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়ে চলেছে।’’
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, “ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র পুরো ব্যবস্থার মধ্যে ব্যাপক অস্বচ্ছতা আছে। পরীক্ষার কেন্দ্র নির্বাচন থেকে সবকিছুতেই অস্বচ্চতা ছিল। এই প্রশ্ন ফাঁসের ফলে দেশজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী।“
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বলা হয়, ‘‘গত কয়েক বছর ধরে স্কুলগুলিতে শিক্ষক নেই। যোগ্য মেধাবী পরীক্ষার্থীরা কলকাতা শহরে ধর্ণা মঞ্চে আর অযোগ্যরা টাকার বিনিময়ে স্কুলে পড়াচ্ছেন। কেবল তাই নয়, ৮ বছর ধরে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হচ্ছে না। শিক্ষকের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একাধিক স্কুল। এটি শিক্ষার বেসরকারিকরণের ভয়ানক চক্রান্ত। জাতীয় শিক্ষানীতি বলছে, পয়সা যার শিক্ষা তার। রাজ্যের সরকারের নীতিও তাই।’’
শ্রমিক সংগঠনগুলির ক্ষোভ, "টাকা যার শিক্ষা তার নীতিতে সবচেয়ে আক্রান্ত শ্রমিক-কৃষক পরিবারের সন্তানরা। মেধা থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক-কৃষক খেতমজুর পরিবারের সন্তানরা উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এক ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্যে দেশ ও রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা।’’
We hate spam as much as you do