প্রথমবার জলে নামার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৩ দিন। মাত্র ৯ মাসের মাথায় সে নিজেই সমুদ্রের জলে ভেসে থাকার পদ্ধতি আয়ত্ত করে ফেলেছিল। আর আড়াই বছর বয়সের মধ্যে সাঁতারও শিখে ফেলেছিল। বাবার সঙ্গে প্রথম স্কুবা ডাইভিং-এ নামা ৫ বছর বয়সে। অরবিন্দ চেয়েছিলেন তাঁর মেয়ে সমুদ্রকে ভালোবাসুক
৮ বছরের ছোট্ট শিশু দক্ষ স্কুবা ডাইভার। সমুদ্রকে প্লাস্টিকমুক্ত করে এই খুদে
প্রতিদিন বাবার সঙ্গে নিয়ম করে সমুদ্রে নেমে যায় থারাগাই আরাথনা। উঠে আসে সমুদ্রের নিচে জমে থাকা প্লাস্টিকের আবর্জনা (Plastic Waste) সঙ্গে নিয়ে। চেন্নাইয়ের কাছে উপকূলবর্তী শহর কারাপ্পাকামের শিশু থারাগাই। বয়স মাত্র ৮ বছর। আর এই বয়সেই সে স্কুবা ডাইভিং-এ রীতিমতো দক্ষ হয়ে উঠেছে। আর সেইসঙ্গে সমুদ্র দূষণের বিরুদ্ধে এবং সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র রক্ষার উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছে সে।
বাবা অরবিন্দ তরুণশ্রী পেশায় একজন স্কুবা ডাইভিং ইনস্ট্রাকটর। তাঁর হাত ধরেই সমুদ্রের জলের সঙ্গে পরিচয় থারাগাইয়ের (Thaaragai Arathana)। অবশ্য সেই স্মৃতি তার মনে নেই। কারণ প্রথমবার জলে নামার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৩ দিন। মাত্র ৯ মাসের মাথায় সে নিজেই সমুদ্রের জলে ভেসে থাকার পদ্ধতি আয়ত্ত করে ফেলেছিল। আর আড়াই বছর বয়সের মধ্যে সাঁতারও শিখে ফেলেছিল। বাবার সঙ্গে প্রথম স্কুবা ডাইভিং-এ নামা ৫ বছর বয়সে। অরবিন্দ চেয়েছিলেন তাঁর মেয়ে সমুদ্রকে ভালোবাসুক। সেই ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছে। বড়ো হয়ে বাবার মতোই একজন স্কুবা ডাইভিং ইনস্ট্রাকটর হতে চায় থারাগাই।
২০ বছর ধরে নিয়মিত সমুদ্রে নামেন অরবিন্দ। সমুদ্রকেই তিনি দ্বিতীয় ঠিকানা বানিয়ে তুলেছেন। কিন্তু পর্যটকের ভিড়ে ক্রমশ সেই জগত দূষিত হচ্ছে। ২০০৭ সাল থেকে তাই সমুদ্রের জল থেকে প্লাস্টিক অপসারণের কাজ শুরু করেন তিনি। তারপর এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার কিলোগ্রাম প্লাস্টিক সরিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে ৬০০ কিলোগ্রাম প্লাস্টিক সরিয়েছেন তিনি এবং থারাগাই একসঙ্গে। সেইসমস্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহারের জন্য বিক্রি করেন অরবিন্দ এবং থারাগাই। এর থেকে যে অর্থ উপার্জন হয়েছে, তামিলনাড়ু বনবিভাগকে সেই অর্থ অনুদান দিতে চায় থারাগাই। তার ইচ্ছা, এই অর্থে সামুদ্রিক প্রাণীদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সামুদ্রিক প্রাণী, বিশেষত ডুগং বা সমুদ্র গাভীরা কীভাবে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে, তা রোজ দেখছে থারাগাই। প্লাস্টিক এবং মাছ ধরার জালের কারণে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে বহু প্রাণী। অথচ অনেকেই তা দেখতে পান না। থারাগাই তাই সাধারণ মানুষের কাছে তার অভিজ্ঞতার কথা পৌঁছে দেয়। এই উদ্দেশ্যে সম্প্রতি কোভলং থেকে নীলাঙ্কারি পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার সমুদ্রপথ সাঁতার কেটেছে সে। তার এই কাজের স্বীকৃতি পেয়েছে অ্যাসিস্ট ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পক্ষ থেকেও। অরবিন্দের মতোই এখন থারাগাইও চায়, প্রত্যেক শিশু ছোটো থেকেই সমুদ্রের সঙ্গে পরিচিত হোক। সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রকে চিনতে শিখুক। একমাত্র তাহলেই বাস্তুতন্ত্রকে বাঁচানো সম্ভব হবে।
We hate spam as much as you do